স্থানীয় সংবাদ

বেওয়ারিশ কুকুরের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ নগরবাসীকে মুক্তি দিতে স্বল্প পরিসরে কাজ শুরু করেছে কেসিসি

# কুকুরকে জলাতংক প্রতিষেধক টিকা প্রয়োগে শিগগিরই ক্রাস প্রোগাম ঃ সর্বশেষ ক্রাস কার্যক্রম হয় ২০২৩ সালে #

খলিলুর রহমান সুমন ঃ খুলনা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে নগরবাসী। এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে কাজ শুরু করেছে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ভেটেরিনারি বিভাগ। ইতোমধ্যে তারা স্বল্প পরিসরে জলাতংক প্রতিষেধক টিকা কুকুরকে প্রয়োগ করছে। এ কার্যক্রম বড় পরিসরে করতে তারা একটি কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। কেসিসির ভেটেরিনারি অফিসার ড. পেরু গোপাল বিশ্বাস বলেন, জলাতংক থেকে নগরবাসীকে মুক্ত করতে কেসিসি ইতোমধ্যে স্বল্প পরিসরে কাজ শুরু করেছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে নগরীতে বেওয়ারিশ কুকুরকে জলাতংক প্রতিষেধক টিকা প্রয়োগ কার্যক্রম চলমান। এ কার্যক্রম পুরো নগরী জুড়ে শুরু করার জন্য প্রশাসক মোঃ ফিরোজ সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরী করা হচ্ছে। কারণ বাজেট সভায় কুকুরকে জলাতংক প্রতিষেধক টিকা প্রয়োগের জন্য ক্রাস প্রোগ্রাম হাতে নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়। সে মতে, ভেটেরিনারি বিভাগ কাজ শুরু করেছে। কারণ এ কার্যক্রম সফল করতে দক্ষ ডগ ক্যাসার, দক্ষ টিকা প্রযোগকারীসহ ২শ’ মত জন শক্তি দরকার। সর্বশেষ ২০২৩ সালে ১৯ জানুয়ারী থেকে ২৩ জানুয়ারী পর্যন্ত সপ্তাহ ব্যাপী নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডে বেওয়ারিশ কুকুরকে জলাতংক প্রতিষেধক টিকা প্রয়োগ করা হয়। ওই সময় নগরীতে ৫ হাজার ৯শ’ ৯১টি কুকুরকে এ টিকার আওতায় আনা হয়। ওই কার্যক্রমের প্রধান ভূমিকায় ছিলো স্বাস্থ্য ও প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর। বাস্তবায়নে ছিল কেসিসি। ওই সময় কার্যক্রম সফল করতে দক্ষ ডক ক্যাসারসহ বিভিন্ন পর্যায়ে ২৮০ জন জনশক্তি কাজে লাগানো হয়। তবে এবার পরিকল্পিতভাবে সাশ্রয়ী এবং গবেষণা ধর্মীভাবে কুকুরকে জলাতংক প্রতিষেধক টিকা দেয়া হচ্ছে। আগামী ২/৩ মাসের মধ্যে এ কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হবে বলে তিনি আশাবাদী। তিনি জানান, ইতোমধ্যে তারা নগরীতে কত সংখ্যক বেওয়ারিশ কুকুর আছে তা গণনা শুরু করেছেন। ১১টি ওয়ার্ডে গণনা করে ১১৪টি বেওয়ারিশ কুকুর তিনি পেয়েছেন। এ গণনা কার্যক্রম চলতি মাসেই শেষ হবে বলে তিনি আশাবাদী। কুকুরের সংখ্যা বৃদ্ধির কারন ও সমস্যা সমাধানে কেসিসির গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ হলো, খুলনা মহানগরীতে আনুমানিক ৬ থেকে ৭ হাজার কুকুর আছে। কুকুরের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার কিছু কারণ, তারা বৈজ্ঞানিক নির্দেশনা মতে গবেষণার মাধ্যমে খুঁজে পেয়েছে। প্রধান কারণ গুলি হলো: খাদ্য থাকলে প্রাণী অর্থাৎ কুকুর থাকবে। ডাস্টবিন গুলি খোলা থাকায়, যা থেকে কুকুর খাবার পায়। ডাস্টবিনে সবসময় কুকুর পাওয়া যায়। নাগরিকগণ প্রায় রাস্তায়, এখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলে (যা কুকুরের খাদ্য), ফলে কুকুর খাবার পায়। জাপানের কোন শহরে ১০টি কুকুর ছেড়ে দিলে, ১-২ সপ্তাহের মধ্যে সবগুলি না খেতে পেয়ে মারা যাবে। কারণ জাপানের নাগরিকরা রাস্তায় বা খোলা স্থানে ময়লা ফেলে না, রাস্তায় খোলা ডাস্টবিনও নেই। শহরে প্রাণী লাভারের অনেক বড় একটা অংশ আছে, যারা পথ কুকুরকে খাবার দেন, কিন্তু অন্য দায়িত্ব নেন না । ফলে কুকুরের সংখ্যা বাড়ছে। শহরের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কিছু কুকুর, জলাতঙ্কসহ অন্যান্য প্রাণঘাতি রোগমুক্ত হয়ে স্বাস্থ্যম্মত ভাবে নগরীতে বিচরণ করুক। “প্রাণী কল্যাণ আইন, ২০১৯” অনুসারে ইচ্ছে করলেই সব কুকুরকে অপসারণ অথবা নিধন করা যায় না। সঠিক পরিকল্পনা, অর্থ ও লোকবলের অভাব রয়েছে। আগস্টের মাঝামাঝি হতে নভেম্বর পর্যন্ত কুকুর প্রজনন মৌসুম (যদিও অন্য সময়ও কুকুর প্রজনন করে), কুকুরের উৎপাত বৃদ্ধি পায়। কেসিসিতে টঝ অরফ এর সহোযোগিতায় অজঈ প্রকল্পের মাধ্যমে কুকুর নিয়ন্ত্রণের একটি পরিকল্পনা তৈরীর খুবই প্রাথমিক আলোচনা হয়েছিল, গবেষণার ভিত্তিতে এ পরিকল্পনা তৈরী করা হচ্ছে। উল্লেখ্য বর্তমানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ আসিফ রহমান আগামী সাধারন সভায় কুকুরের ওয়েলফেয়ার ও জলাতঙ্ক রোগের নিয়ন্ত্রনের জন্য পুরো বিষয়টি উপস্থাপনের নির্দেশনা দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button