তিন দফা দাবেিত খালিশপুর কলেজিয়েট গালর্স স্কুলে আন্দোলন অব্যাহত

স্টাফ রেিপার্টারঃ খুলনার খালিশপুর কলেজিয়েট গার্লস স্কুলে স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরুদ্ধার ও শিক্ষক-কর্মচারীদের ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সকাল থেকে অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীরা জানান, প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার জন্য তিনটি প্রধান দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। দাবিনামা হচ্ছে,পূর্ণাঙ্গ ম্যানেজিং কমিটি গঠন, নিয়োগশর্ত অনুযায়ী শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদানএবং শিক্ষক নিয়োগ ও বিদ্যালয় পরিচালনায় ঘাটতি বাজেটের অর্থ বিদ্যালয়ের হিসাবে প্রেরণ। গত ২১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে চার দফা দাবি জানিয়ে ২২ অক্টোবরের মধ্যে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। কিন্তু অধ্যক্ষ কেসিসির সচিব শরীফ আসিফ রহমান, এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ না নেওয়ায় শিক্ষক-কর্মচারীরা অবস্থান কর্মসূচিতে বসেছেন। অবস্থান কর্মসূচি বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা ১০ মিনিট পর্যন্ত চলে। শুক্রবার ও শনিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলে বলে জানা গেছে। অংশগ্রহণকারীরা জানান, কর্তৃপক্ষ যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেন, তবে তারা আরও কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেবেন। অবস্থান কর্মসূচিতে শিক্ষক-কর্মচারীরা “পাঠচক্র”, “মাধ্যমিক শিক্ষায় শিক্ষকের ভূমিকা” এবং “বিদ্রোহী সংগীত” পাঠ ও পরিবেশনের মাধ্যমে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন, যা শান্তিপূর্ণ হলেও বার্তা স্পষ্ঠঃ তারা তাদের ন্যায্য দাবি থেকে এক ইঞ্চি পিছপা হবেন না। এক শিক্ষক বলেন, “আমরা শুধু বেতন বা কমিটির দাবি করছি না, আমরা চাই স্কুলটি আবার তার স্বাভাবিক গতি ফিরে পাক। মেয়েদের শিক্ষার অগ্রযাত্রা যেন থেমে না যায়।”খুলনা সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত এই বিদ্যালয়টি ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠার পর স্বল্প সময়ে এলাকায় নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। কিন্তু সাম্প্রতিক প্রশাসনিক জটিলতা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বিদ্যালয়ের কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দেয়।বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানান, শিক্ষক-কর্মচারীদের এই অবস্থান কর্মসূচিতে তারা একাত্মতা প্রকাশ করেছে এবং দ্রুত সমাধান কামনা করছে।এসময় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক ইসরাত জাহান, এস এম উজ্জ্বল, দীনেশ মল্লিক, মুকুন্দ কুমার মন্ডল, ফারজানা ইয়াছমিন, সুমাইয়া আক্তার সুমি, মোঃ কামিল হাসান, মধুসুদন গাইন, সুকুরুন্নেছা ইসলাম, আলামিন হাজরা, মোঃ মোশারফ হোসেন, মৌমিতা রায়, মোঃ হাফিজুর রহমান ইমরোজ, রাদিতা হাসান, চিশতী হাসানুল, কর্মকর্তা ও কর্মচারী মোঃ আয়ুব আলী, মিঠুন কুমার মন্ডল, মোঃ সাইদুল ইসলাম, মোঃ আলমগীর হোসেন, মোছাঃ শাহিনুর খাতুন, কহিনুর, আনোয়ারা প্রমুখ। কেসিসির সচিব ও কলেজ অধ্যক্ষ শরীফ আসিফ রহমান বলেন, নতুন করে প্রশাসক না আসা পর্যন্ত তাদের দাবি বাস্তবায়ন করা কঠিন। নতুন প্রশাসক যোগ দিলেই প্রথম শিক্ষণকদের দাবির বিষয়টি উপাস্থাপন করা হবে ।



