যশোরে ২২ বছরের সংসারে যৌতুকের জন্য মারপিট : স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর মামলা

যশোর ব্যুরো ঃ দীর্ঘ ২২ বছরের সংসারেও গৃহবধুর কপালে সুখ জুটলোনা। যৌতুকলোভী,ভবঘুরে ও অলস একাধিক বিবাহকারী শওকত আলী দুই সন্তানের জননীকে বিয়েরপর থেকে নির্যাতনের মুখে সর্বশেষ ভ্যান কিনে ব্যবসা করার জন্য ২লাখ টাকা যৌতুক দাবী করে মারপিট করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। এ ঘটনায় থানায় গিয়েও আইনগত সহযোগী না পেয়ে আদালতের স্মরনাপন্ন হয়েছে। ঘটনাটি যশোর সদর উপজেলার সীতারামপুর গ্রামে। শনিবার ২৫ অক্টোবর দুপুরে কোতয়ালি থানায় আদালতের আদেশে মামলা হয়েছে। মামলাটি করেন, যশোর শহরের মুড়োলী জোড়া মন্দির এলাকার আব্দুল খালেকের মেয়ে ও শওকত আলীর স্ত্রী রেহেনা বেগম। মামলায় আসামী করা হয়, যৌতুক লোভীসদর উপজেলার সীতারামপুর গ্রামের বিলায়েত আলী গাজীর ছেলে শওকত আলী। মামলায় যৌতুকের নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ উল্লেখ করেন, বিগত ২০০৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর আসামী শওকত আলীর সাথে বাদির বিয়ে হয়। সামাজিক ভাবে বিয়ের পর গৃহবধূর পিতা মাতা মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে সাধ্য মতো আসবাবপত্রসহ সংসারের যাবতীয় জিনিসপত্র দেন। দীর্ঘ ২২ বছর সংসার জীবনে আসামীর ঔরষে বাদির গর্ভে দুই পুত্র সন্তান জন্ম নেয়। আসামী অলস হওয়ায় বিভিন্ন সময় বাদির পিতার নিকট যৌতুক দাবি করিতো। বাদির অসহায় পিতা মাতা বাদির সুখের কথা চিন্তি করে বিভিন্ন সময় কখনও ২০ হাজার টাকা কখনো ১০ হাজার টাকাসহ বিভিন্ন সময় যৌতুক হিসাবে ৫০ হাজার টাকা দেন এবং বাদি নিজে আশা সংস্থা হতে ৫০ হাজার টাকা লোন তুলে আসামীকে দেন। যা দিয়ে আসামী নিজ নামে বাড়িতে দেড় শতক জমি কিনে এবং সংসার খরচ চালাই। এতেও আসামী সন্তুষ্ট না হয়ে বিভিন্ন সময় যৌতুক দাবি করে বাদিকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে একাধিক বার পিতার বাড়িতে তাড়িয়ে দেয়। পরবর্তীতে আবার আসামী বাদির পিতার বাড়িতে যেয়ে আপোষ মীমাংসা করে বাদিকে নিজে বাড়িতে নিয়ে আসে। সর্বশেষ গত ১৪ অক্টোবর বিকাল ৩ টার সময় আসামী বাদিকে তার পিতার বাড়ি হতে ভ্যান কিনে ব্যবসা করার জন্য নগদ ২লাখ টাকা যৌতুক হিসেবে আনার জন্য চাপ দিলে বাদি তার অসহায় পিতা-মাতার কাছ থেকে যৌতুক হিসেবে ২লাখ টাকা এনে দিতে অস্বীকার কালে আসামী ক্ষিপ্ত হয়ে বাদির নাকে চড়,থাপ্পর,লাথি মেরে গুরুতর আঘাত করে বাঁশের লাঠি দিয়ে সর্বশরীরে এলোপাতাড়ীভাবে পিটিয়ে নীলা ফোলা জখম করে এক কাপড়ে তার বাড়ি হতে রাস্তায় বের করে দেয়। বাদি গুরুতর অসুস্থ্য হয়ে পড়লে পিতার ছেলে রিফাত হোসেন খবর পেয়ে বাড়িতে এসে বাদিকে উদ্ধার করে ইজিবাইক যোগে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। বাদি সামান্য সুস্থ্য হয়ে থানায় মামলা করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ মামলা না দিয়ে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেন। পরে বাদি উপায়ূন্তর না পেয়ে আদালতে এসে মামলা করেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত যৌতুক লোভী শওতক আলীকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি।



