ডুমুরিয়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের সংবাদ সন্মেলন

ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি
খুলনার ডুমুরিয়ায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের দুই সদস্য’র বিরুদ্ধে সংবিধান ও মুক্তিযোদ্ধাদের স্বার্থ বিরোধী কর্মকান্ডের প্রতিবাদে এক সংবাদ সন্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার বেলা ১১টায় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে এ সন্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সন্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা সংসদ কমান্ডের আহবায়ক এফ এম নুরোন নবী চৌধুরী। সন্মেলনে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, ১৯৮৩ সালে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ডুমুরিয়া কমান্ড গঠিত হয়। তখনকার সময়ে সরকারি ভাবে দু’টি দাগে ১.০৩ ও ০.৯৮ শতাংশ জমি পাওয়া যায়। এরপর ওই জায়গায় মুক্তিযোদ্ধা অফিস ও মার্কেট নির্মাণ করা হয়। আর বাকী জমি পড়ে থাকে। এরই মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা শেখ ফিরোজ রহমান ও মোবারেক সরদার তাদের ছেলে রিয়াজুল ইসলামের নেতৃত্বে পড়ে থাকা ওই জমি ভোগ দখল করতে থাকেন। বর্তমানে তারা সেখানে দালান বাড়ি তৈরি করে বসবাস করছেন। এমনকি বাসাবাড়ি তৈরি করে সেখানে ভাড়াটিয়া ঠিক করে বাড়ি ভাড়াও দিচ্ছেন। আবার শোনা যায় ওই জমি তারা প্লট আকারে বিক্রি করার চেষ্টা করছেন। তাদের এসব কর্মকান্ড নিয়ে আমরা কিছু বলতে চাইলে আমাদের এড়িয়ে চলতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে এসব ঘটনা নিয়ে কয়েক দফা বৈঠক করা হয়। কিন্তু কোন ফল পাওয়া যায়নি। বরং আমরা মুক্তিযোদ্ধারা তাদের কাছে হচ্ছি লাঞ্চিত ও অপমানিত। ক্ষমতার দাপটে তারা একে একে সবকিছু দখলে নিচ্ছেন। এরই মধ্যে কমপ্লেক্স ভবন থেকে পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে ব্যবহার করছেন। মার্কেটের দোকান ভাড়াও তারা পকেটস্থ করছেন। তাদের এহেন কর্মকান্ডের শেষ নেই। এসব নিয়ে কথা বলারও উপায় নেই। কারণ আমরা মুক্তিযোদ্ধারা এখন বৃদ্ধ। প্রায় সকলেই মৃত্যু পথযাত্রী। এসব নিয়ে কথা বললেই তার ওপর নেমে আসছে হুমকি-ধামকি। অপমানিত হওয়ার ভয়ে তাদের কাছে আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি। তাই আপনাদের লেখনির মাধ্যমে আমরা সুষ্ঠ বিচার প্রত্যাশা করছি। ডুমুরিয়ায় মোট মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ১০৫ জন। তা থেকে বর্তমানে জিবিত আছে ৫৫জন। তার মধ্যেও অনেকে শয্যাসায়ী। বিছানা থেকে উঠতে পারেন না। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আমরা চাই, ওই জমি উদ্ধার করে সবাই যেন সমান ভাবে ভোগ দখলের সুবিধা পায়। সংবাদ সন্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম, মানিক, মুক্তিযোদ্ধা মোতালেব হাওলাদার, মুক্তিযোদ্ধা গাজী নিজাম উদ্দিনসহ অনেকেই।



