তেরখাদায় আজিজুল বারী হেলালের ব্যতিক্রমী সবুজ অঙ্গীকার

# ভোট চাইতে আসব, সঙ্গে দেব একটি গাছ #
তেরখাদা প্রতিনিধি : শিল্পায়ন আর প্রযুক্তির যান্ত্রিক বিকাশ যখন গ্রামবাংলার স্বাভাবিক সৌন্দর্যকে ক্রমেই সংকুচিত করছে, তখন তেরখাদায় পরিবেশবান্ধব ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নিয়ে হাজির হয়েছেন খুলনা–৪ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এবং দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল। নির্বাচনী প্রচারণার প্রচলিত ধরন থেকে বেরিয়ে তিনি মানুষের হাতে তুলে দিতে চাইছেন শুধু একটি লিফলেট নয়, বরং একটি গাছÍএকটি প্রতিশ্রুত সবুজ আগামী।
রবিবার (১৬ নভেম্বর) তেরখাদা উপজেলা সদরের সরকারি ইখড়ি কাটেঙ্গা হাই স্কুল, প্রাথমিক বিদ্যালয়, শহীদ স্মৃতি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং চিত্রা মহিলা ডিগ্রি কলেজে ফলজ গাছের চারা রোপণের উদ্বোধন করেন তিনি। ছাত্র–ছাত্রী ও শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান তাঁর উদ্দেশ্য।
তিনি বলেন “আমরা এলাকায় গিয়ে শুধুই ভোট চাইবো না, প্রতিটি পরিবারকে একটি করে ফলজ গাছ উপহার দেবো। পরিবারে শিশুদের বলবোÍএই গাছটির যতœ নিও, বড় করে তোলো। গাছ বড় হলে তার ফল পরিবারকে পুষ্টি দেবে, অতিরিক্ত ফল বিক্রি করে পরিবার কিছুটা সচ্ছলতাও অর্জন করতে পারবে।”
হেলাল জানান, তেরখাদা, রূপসা ও দিঘলিয়ায় প্রাথমিকভাবে ৫০ হাজার ফলজ চারা রোপণের কাজ শুরু হয়েছে, এবং পর্যায়ক্রমে দুই লাখ চারা লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষায়Í
“খুলনা–৪ আসনের প্রতিটি পরিবারকে সবুজ আন্দোলনের অংশীদার করতে চাই। বৃক্ষরোপণ আমাদের শুধু নির্বাচনী অঙ্গীকার নয়, এটি পরিবেশবান্ধব রাজনীতির একটি মডেল হয়ে থাকবে।”
জলবায়ু পরিবর্তন প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন “বৈশ্বিক উষ্ণতা রোধে বৃক্ষরোপণ ছাড়া কার্যকর কোনো বিকল্প নেই। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ‘একটু চেষ্টা, একটু উদ্যোগ, এনে দেবে সচ্ছলতা’ কর্মসূচি থেকেই আমি অনুপ্রাণিত। তিনি সারাদেশে জিয়া ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে প্রায় ছয় লাখ নিমগাছ রোপণ করেছিলেন। সেই ধারাকে ধরে রাখতে চাই। রাজনীতি মানে শুধু বক্তব্য নয়, কাজ দিয়ে মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনা।”
সবুজ কর্মসূচির পাশাপাশি তিনি কাটেঙ্গা বাজার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময়, সাচিয়াদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্বাচনী প্রচারসভা, ইউনিয়ন বিএনপির সঙ্গে মতবিনিময় সভা, মারকাজ মসজিদ প্রাঙ্গণে ওয়াজ মাহফিলে অংশগ্রহণ এবং সাহাপাড়া মন্দির প্রাঙ্গণে নির্বাচনী সভাসহ দিনব্যাপী নানা কর্মসূচিতে যোগ দেন।
এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আতাউর রহমান রুনু, উপজেলা বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির আহ্বায়ক চৌধুরী কওছার আলী, সাবেক আহ্বায়ক চৌধুরী ফখরুল ইসলাম বুলু, সাবেক সদস্য সচিব এফ. এম. হাবিবুর রহমান, বিএনপি নেতা মোল্লা মাহাবুবুর রহমান, ইকরাম হোসেন জমাদ্দার, সরদার আব্দুল মান্নান, সাজ্জাদ হোসেন নান্টা, শরীফ নাঈমুল হক, মোল্লা হুমায়ূন কবির, বিল্লাল হোসেন, মিল্টন হোসেন মুন্সী, আজিজুর রহমান আজিবর, আবুল হোসেন বাবু মোল্লা, আবুল কালাম লস্কর, এস. কে. নাসির আহমেদ, ইউসুফ শেখ, জাহিদুল ইসলাম, খান গিয়াস উদ্দিন, জামাল বিশ্বাস, ফেরদৌস মোল্লা এবং মোবাশ্বের আলম।
এছাড়া জেলা যুবদল নেতা গোলাম মোস্তফা তুহিন, উপজেলা যুবদল নেতা চৌধুরী আমিনুল ইসলাম মিলু, গোলাম মোস্তফা ভূট্টো, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সোহাগ মুন্সী, শামীম আহমেদ রমিজ, কৃষক দল নেতা রাজু চৌধুরী, সাবু মোল্লা, ছাত্রদল নেতা সাব্বির আহমেদ টগর, চৌধুরী আসাবুর রহমান, রাজু শেখ, আমিনুল ইসলাম আমিন, মেহেদী চৌধুরী এবং লিমনসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরাও সারাদিন তার সঙ্গে ছিলেন। স্থানীয়দের মতে, তেরখাদায় শুরু হওয়া পরিবেশকেন্দ্রিক এই উদ্যোগ শুধু একটি নির্বাচনী প্রচারণা নয়Íএটি ভবিষ্যতের নেতৃত্ব ও প্রকৃতির প্রতি দায়বদ্ধতার এক নতুন বার্তা।



