স্থানীয় সংবাদ

ফুলবাড়ীগেট ব্যস্ততম রেলক্রসিং সড়ক মরন ফাঁদে পরিণত হয়েছে, প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চরম উদাসীন

# জনদুর্ভোগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের টনক না নড়লেও অবশেষে এগিয়ে এসেছে রকিবুল ইসলাম বকুল #

স্টাফ রিপোর্টার/ খানজাহান আলী থানা প্রতিনিধি ঃ জনদুর্ভোগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের টনক না নড়লেও অবশেষে এগিয়ে এসেছে মানবতার ফেরিওয়ালা রকিবুল ইসলাম বকুল । খুলনা-যশোর মহাসড়কের সবচেয়ে ব্যস্ততম এবং ঝুঁকিপূর্ণ ফুলবাড়িগেট রেলক্রসিং এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা, যেকোনো মুহূর্তে ঘটে যেতে পারে ভয়াবহ প্রাণহানির মতো দুর্ঘটনা। দীর্ঘদিন যাবত এই অবস্থা বিরাজ করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষে টনক নড়েনি। সড়ক বিভাগ এবং রেল বিভাগ একে অপরের দায় দিয়ে টানাটানিতে দুর্ঘটনায় পতিত হচ্ছে সড়কে চলাচলকারী বিভিন্ন ধরনের ছোট শতশত যানবাহন এবং হাজার হাজার যাত্রী সাধারন। রেল ক্রসিং এর দু’পাশের প্রায় ১০০ ফুট সড়কে ছোট-বড়, উঁচু নিচু খানাখন্দকে পরিণত হয়ে বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে রেল লাইনে দুই পাশে নিচু হয়ে যাওয়ায় এই স্থানটি পার হওয়ার সময় প্রতিনিয়ত দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে যাতায়াতকারী শ’ শ’ যানবাহনের চালক এবং হাজার হাজার পথচারী। প্রায়ই ছোট যানবাহনগুলো উল্টে গিয়ে ঘটছে দুর্ঘটনা। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সোচ্চার হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রয়েছে চরম উদাসীন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে রেলওয়ের সীমানার ভিতর হওয়ায় বেহাল অবস্থার দায় নিতে নারাজ সড়ক ও জনপদ বিভাগ (সওজ)। অন্যদিকে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে দায় এড়িয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন যাবত ফুলবাড়িগেট রেল ক্রসিং সড়কটির চরম দুরঅস্থার চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও এগিয়ে আসেনি কেহ। স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ বিষয়টি বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটি ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা ৩ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য প্রার্থী আলহাজ্ব রকিবুল ইসলাম বকুলকে বিষয়টি অবহিত করলে তিনি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানা গেছে। সূত্রটি জানিয়েছে আজ থেকে সংস্কারে কাজ শুরু করা হবে
সরজমিনে ঘুরে জানা গেছে, রেলক্রসিং সংলগ্ন সড়কের একপাশে ঐতিহ্যবাহী খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কুয়েট, তেলিগাতী বাইপাস সড়ক, পুরাতন বিআইটি সড়ক, দারোগা বাজার, বনিকপাড়া, দিঘীরপাড়ের প্রবেশদ্বার। অন্যপাশে ফুলবাড়িগেট বাসস্ট্যান্ড, বাজার, আলতাফ প্লাজা এবং হোটেল রেস্টুরেন্টসহ অসংখ্য ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
রেল কর্তৃপক্ষ মাঝে মধ্যে সড়ক খুঁড়ে রেলের পাটি সংযোজন করে দায়সারাভাবে কাজ করে যানবাহন চলাচলের উপযোগী করে। এরপর থেকে রেলক্রসে সড়কের দুরবস্থা বাড়তে থাকে। রেলক্রসিংয়ের দু’পাশে উঁচু-নিচু সড়কে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি -এ। এ স্থানটি অতিক্রমের সময় যানবাহনগুলি নিয়ন্ত্রণ ঠিক রাখতে না পারায় প্রায়ই ইজিবাই রিকশা, ভ্যান, মোটরসাইকেল সহ ছোট যান গুলো উল্টে গিয়ে দুর্ঘটনার প্রতিত হচ্ছে। দিনদিন জনদুর্ভোগের মাত্রা দ্বিগুণ মাত্রায় বেড়ে গেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমান দৈনিক প্রবাহকে বলেন, রেললাইন থেকে সড়ক নিচু হয়ে যাওয়ায় যানবাহন অতিক্রম করার সময় দুর্ভোগের সৃষ্টি হচ্ছে। রেললাইনের উপর দিয়ে যানবাহন যাতায়াতের সময় স্লিপ করে গাড়ি উল্টে যায়। প্রতিনিয়ত এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে। যানবাহন গুলোর তো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাথে যাত্রীরা প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার কবলে পড়ে আহত হচ্ছে। বিষয়টি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও কোন প্রতিকার নাই। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের কোন মাথা ব্যথা নেই। দ্রুত সংস্কার না হলে যে-কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
খুলনা সড়ক ও জনপদ বিভাগ (সওজ)’র নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ তানিমুল হক বলেন, “সড়কের ওই অংশটুকু রেলওয়ের সীমানাভুক্ত হওয়ায় আমরা স্থায়ীভাবে ওই কাজটা করতে পারি না। আমাদের সীমানার মধ্যে কাজ আমরা করব। তারপরও মাঝেমধ্যে সংস্কার কাজতো করি।” তিনি বলেন, “রেললাইন থেকে রাস্তা নিচু হয়ে গেছে। এক্ষেত্রে আমরা যদি রাস্তা উঁচু করি, তখন রেল চলাচলে যদি অসুবিধা হলে এর দায়ভার কে নেবে?”
রেলওয়ে খুলনা-যশোর অঞ্চলের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী চাঁদ আহম্মেদ বলেন, “ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও প্রতিনিয়ত বৃষ্টির কারণে সঠিক উপায়ে সংস্কার কাজ করতে পারছি না। বৃষ্টি কমলে আমরা ঠিক করে দিব। তাছাড়া আমরা প্রতিনিয়ত মেরামতের কাজ কিন্তু করছি।”

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button