স্থানীয় সংবাদ

কেসিসির সম্পদ রক্ষায় অন্যান্য উদাহরণ কর্মচারি সুমন

# উদ্ধার করলেন দশ হাজার টাকা মূল্যের চোরাই গাছ #

স্টাফ রিপোর্টারঃ খুলনা সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের এক মাস আগে জানানো হলেও সড়কের পাশে পড়ে থাকা গাছ উদ্ধার করেনি। তাদের গড়িমশির ফলে একটি চক্র গাছ চুরি করে নেয়ার সময় হাতে নাতে ধরেছে কেসিসির একজন সামান্য কর্মচারি। নাম তার নুরুজ্জামান সুমন। তিনি কনজারভেন্সী বিভাগের সুপার ভাইজার।ওই গাছের দাম হবে আনুমানিক ১০- হাজার টাকা। মজিদ স্মরণী সড়কের স্বপ্ন শো রুমের অদূরে একটি বড় আকারের মেহগনি গাছ অনেক দিন আগে ঝড়ে পড়ে যায়। তখন এলাকাবাসী গাছটি কেটে লগ করে সড়কের পাশে রেখে দেয়। বিষয়টি তিনি কেসিসি সংশ্লিষ্ট শাখার দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে জানান। কিন্তু ওই কর্মকর্তা বিষয়টি আমলে নেননি। এ সুযোগে চোরচক্র গাছটি চুরি করে ঠেলাগাড়িতে করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি দেখতে পেয়ে তার ঠেলাগাড়ির পথ রোধ করেন। ঠেলাগাড়ির চালকদের প্রশ্ন করলে তারা সঠিক জবাব দিতে পারেনি। তারা বলেছেন, রহমত নামের একজন ব্যক্তি নিজেকে সিটি কর্পোরেশনের স্টাফ পরিচয় দিয়ে ওই গাছের লগ ঠেলা গাড়িতে ওঠায় দেয়। ওই রহমতের বাড়ি লবণচরা এলাকায় । সে সংশ্লিষ্ট কাজের সাইডের ঠিকাদারের লোক। ছুটির দিনে শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে এই লগ ঠেলাগাড়িতে তুলে দেয় ওই রহমত। পরে তিনি জানতে পেরে ডাল মিলের মোড়ে ঠেলাগাড়ি পথ রোধ করেন। এ সময় ঠেলা গাড়ির চালক বলেন, তাদের সদর হাসপাতালের মোড় থেকে ভাড়া করে এনেছে। গাছের লগ লবলচরায় নিয়ে যেতে বলেছে। পরে তিনি পথচারিদের সহযোগিতায় এ গাছের লগ উদ্ধার করে জিয়া হল চত্বরে রেখেছেন। সকালে জানানোর পর বিকেল নাগাদ সংশ্লিষ্ট শাখা কর্তৃপক্ষ উদ্ধারকৃত গাছ দেখার প্রয়োজন মনে করেননি। এ গাছ তার উদ্ধার করার কথা নয় তারপরও তিনি সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে এ গাছ উদ্ধার করেছেন বলে জানান। এই প্রতিবাদী কর্মচারি সম্প্রতি ড্রেন সংস্কারের সময় উদ্ধার হওয়া প্রায় পাঁচ হাজার ইট সংঘবদ্ধ চক্র চুরি করে নিয়ে যায়। তিনি বিষয়টি জানতে পেরে ওই ইট উদ্ধার করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবগত করেন জমা দেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কেসিসির একজন কর্মচারি বরেণ,“ ঝামেলা এড়াতে এসব কাজে তারা জড়াতে চান না। কিন্তু সুমন বিগত দিনেও কেসিসির সম্পদ রক্ষায় বেশ সাহসিকতা দেখিয়েছে বলে তিনি জানান। এটা অনেককে করেন না। কর্মচারিরা অধিকাংশরাই ঝামেলা এড়াতে কেসিসির সম্পদ নস্ট হওয়ার বষিয়টি না দেখার ভান করে চলে যান। বিন্তু সুমন সামান্য কর্মচারি হলেও তিনি তা করেন না বলে তিনি জানান।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button