স্থানীয় সংবাদ

শিশু হাসপাতাল উদ্বোধন ঘিরে বাইপাস সড়ক সংস্কার, স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন

# সাময়িক চলাচল উপযোগি করার দাবি এলজিইডির
# টেকসই রাস্তা নির্মাণের দাবি নাগরিক নেতাদের
# শিশু হাসপাতাল চালু হলে চাপ বাড়বে সড়কে
# ইট দিয়ে এইচবিবি করা হচ্ছে দুই লেয়ারে

কামাল মোস্তফা ঃ খুলনার অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার সিটি বাইপাস সড়কের ময়ূর ব্রীজ থেকে জয়বাংলা মোড়ের অংশটি বছরের পর বছর জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। সড়কটির এ অংশের সাথে বিভাগীয় শিশু হাসপাতালের অবস্থান। দীর্ঘদিন রাস্তাটি সংস্কার বিহীন অবস্থায় পড়ে থাকলেও সংস্কারের উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি ইট দিয়ে রাস্তাটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। রাস্তাটির সাথে গুরুত্বপূর্ণ বিভাগীয় শিশু হাসপাতালের অবস্থান। আগস্টের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর হাসপাতালটির উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। এতো বছর রাস্তাটি বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকলেও সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। উদ্বোধন ঘিরে তড়িঘড়ি করে দেয়া হচ্ছে ইট দিয়ে সংস্কার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। তবে দক্ষিণাঞ্চলের আঠারো জেলার যানবাহন চলাচলের এমন ব্যস্ততম সড়কে ইটের ব্যবহার কতদিন স্থায়ীত্ব পাবে তা নিয়ে জনমনে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে কেসিসি’র নিয়ন্ত্রাধীণ বাইপাস সড়কের ময়ুর ব্রীজ থেকে সোনাডাঙ্গা বাসস্টান্ড পর্যন্ত আটশো মিটারের অংশটিরও বেহাল দশা। গেল বছর ইটের সোলিং করা হলেও চলতি বছরে তা পুনরায় খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ঝুঁলে থাকা এ অংশটির অতিসম্প্রতি ট্রেন্ডার হলেও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ সংক্রান্ত মামলা জটিলতায় পিছিয়ে যেতে পারে কাজ। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, খুলনা সিটি বাইপাসের ময়ূর ব্রিজ থেকে জয়বাংলা মোড়ের অংশটি ইট বসানোর কাজ চলছে। খানাখন্দে ভরা সড়কের পিচ উঠিয়ে তার ওপর রুলার দিয়ে সমান করে দুই লেয়ারে ইট বসানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে সড়কের এ অংশটির সত্তর শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। জেলা এলজিইডি অফিসের তথ্যানুযায়ী, ময়ূর ব্রীজ থেকে জয়বাংলা মোড় পর্যন্ত সড়কটি অটো ব্রীকসসের ইট দিয়ে এইচবিবি করা হচ্ছে দুই লেয়ারে। ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা। ইত্যেমধ্যে সত্তর শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বাসচালক মিজান জানান, এই রাস্তাটি দিয়ে ভারি যানবাহন চলাচল করে। রাস্তাটি দীর্ঘদিন বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকার পর হঠাৎ দেখলাম ইটের সোলিং করা হচ্ছে। কয়েকদিন গাড়ি চলাচল করলে আবারও খানা খন্দ হয়ে যাবে। ব্যস্ততম এ রাস্তাটির স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন ছিল। তা না করে জোড়াতালি দেয়া হচ্ছে। খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি আশরাফ-উজ-জামান বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের আঠারো জেলার যানবাহন চলাচল করে এ রাস্তা দিয়ে। ব্যস্ততম এ সড়কটির কাজ টেকসইভাবে না করতে পারলে পুনরায় ভোগান্তিতে পড়তে হবে। তাছাড়া খুব দ্রুত এ সড়কে অবস্থিত বিভাগীয় শিশু হাসপাতাল চালু হতে যাচ্ছে। ফলে জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি স্থায়ী সমাধান হওয়া জরুরী। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ কামরুল ইসলাম বলেন, নিয়মিত সংস্কারের অংশ হিসেবে সড়কটি চলাচল উপযোগি করার জন্য অটোব্রীকসের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। ভারি যান চলাচল করলেও রাস্তার ক্ষতি হবেনা। রাস্তার যথেষ্ট টেম্পার আছে। রাস্তা যা উঁচু হচ্ছে তাতে পানি জমবেনা। তবে রাস্তাটি সাময়িক চলাচল উপযোগি করা হচ্ছে। খুব দ্রুতই আমরা এটাকে আরসিসি ঢালাই রাস্তা করার জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চাইবো।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button