স্থানীয় সংবাদ

নগরীতে মাদক মামলার আসামী ছাড়াতে থানায় গিয়ে আস্ফালন

# গ্রেফতার শ্রমিক দল নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার #

স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনায় মাদক মামলায় আটক দুই ব্যক্তিকে ছাড়িয়ে নিতে থানায় গিয়ে পুলিশের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে শ্রমিক দলের এক নেতা ও তাঁর সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাঁদের মদ্যপ অবস্থায় চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অভিযুক্ত শ্রমিক দল নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
পুলিশ জানায়, শনিবার দিবাগত রাত ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে সোনাডাঙ্গা মডেল থানা পুলিশ নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযানে দুই ব্যক্তিকে আটক করে। আটক ব্যক্তিরা হলেন বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার কালিকাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা মো. পারভেজ শেখ (২৮) এবং নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার লক্ষীপাশা গ্রামের বাসিন্দা মো. আব্দুল্লাহ (২৮)। বর্তমানে তাঁরা দুজনই খুলনা মহানগরের সোনাডাঙ্গা থানার আলীর ক্লাব বড়বাড়ি এলাকায় বসবাস করেন।
পুলিশের দাবি, রাত ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে আটক ব্যক্তিদের ছাড়িয়ে নিতে খুলনা মহানগরের ১৮ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সেক্রেটারি মো. মোস্তফা শেখ দুলাল তার সহযোগী মো. শরিফুল ইসলাম ও আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় যান। তাঁরা আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করলে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা বাধা দেন।
এরপর দুলাল শেখ থানায় কর্মরত এসআই নাদিম মাহমুদের সঙ্গে কথা বলে আটক ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। তবে এসআই তাঁদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মাদক মামলায় আদালতে পাঠানো হবে বলে জানালে দুলাল শেখ ও শরিফুল ইসলাম কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের গালিগালাজ ও অসদাচরণ করেন বলে অভিযোগ পুলিশের। পরে পুলিশ তাঁদের দুজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর তাঁদের মদ্যপ অবস্থায় পাওয়া গেলে চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তাঁরা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “শ্রমিক দলের নেতা পরিচয়ে দুই ব্যক্তি থানায় এসে মাদক মামলার আটক ব্যক্তিদের ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁরা মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন এবং কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন। এ ঘটনায় তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।” শ্রমিক দল খুলনা মহানগর শাখার সভাপতি মো: মুজিবুর রহমান বলেন, আমি সাংগঠনিক কাজে ঢাকায় অবস্থান করছি। কিন্তু এই খবর পাওয়া মাত্র সেক্রেটারীকে বলেছি অভিযুক্তকে বহিষ্কার করে চিঠি ইস্যু করতে। তিনি বলেন, দলের চেয়ারম্যানের কঠোর নির্দেশ আছে, অপরাধের সাথে জড়িত কেউ ছাড় পাবে না।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button