স্থানীয় সংবাদ

ভূয়া বিল-ভাউচার দেখিয়ে টাকা উত্তোলনের অভিযোগ

চেকের পরিবর্তে বিলের লেনদেন হচ্ছে ‘নগদ’
ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

স্টাফ রিপোর্টার : খুলনার ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডাঃ জেসমিন আরা দীর্ঘ ৫ বছর ধরে কোন প্রকার বদলি ছাড়াই বহাল তবিয়তে কর্মরত রয়েছে। আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন শেখ হাসিনার চাচাত ভাই শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েলের আর্শীবাদ নিয়ে ৪ বছর ধরে একটানা ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তার চেয়ার আকড়ে ধরে রাখেন। পরবর্তীতে জুলাই বিপ্লবের পর ১ বছর ধরে বর্তমান বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার ছত্রছাঁয়াতে রয়েছে এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। দীর্ঘ ৫ বছরেও কোন প্রকার বদলি ছাড়াই এক স্টেশনে কর্মরর্ত রয়েছে জেসমিন আরা। কয়েক দফা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুর্নীতি দমন কমিশন, স্বাস্থ্য বিভাগ তদন্ত করলেও সেই তদন্ত আর আলোর মুখ দেখে না। এর মধ্যে ২০২২-২০২৩ অর্থ বছর সহ কয়েকটি অর্থবছরে ভূঁয়া বিল ভাউচার দেখিয়ে টাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে ডাঃ জেসমিন আরা বিরুদ্ধে।
সরেজমিনে তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, হাসপাতালে গাড়ী তেল খরচ বাবদ কয়েকটি তেলের স্লিপের ফটোকপি পাওয়া যায়। ওই স্লিপগুলো বিল ভাউচার হিসেবে জমা দিয়ে জেসমিন আরা টাকা উত্তোলণ করেছে। স্লিপ গুলোর মধ্যে খানজাহান আলী থানার মেসার্স মিম ফিলিং স্টেশন ও মোড়ল ফিলিং স্টেশনের স্লিপের হুবহু মিল রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট তেল পাম্পের কর্মকর্তাদের সাথে কথা হলে তারা জানান, স্লিপগুলোতে তাদের কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারির স্বাক্ষর নেই। যেই স্বাক্ষর রয়েছে তা সম্পূর্ণ জাল স্বাল বা ভূঁয়া স্বাক্ষর। এখানেই শেষ নয়। গত ৩০/০৮/২০২৩ তারিখ দেখিয়ে খুলনার সঙ্গীতা সিনেমা হলের পাশের এস এস মটরস থেকে গাড়ীর জন্য টায়ার ক্রয়ের একটি বিল ভাউচার পাওয়া যায়। অথচ এস এস মটরস মালিক সুমন জানান, ওই বিল ভাউচারের স্বাক্ষর তাদের নয়। অথচ ডাঃ জেসমিন আরা টায়ারক্রয় বাবদ ভূঁয়া বিল ভাউচার দেখিয়ে টাকা উত্তোলন করেছে বলে তথ্য উঠে আসে। কমিউনিটি ক্লিনিকে ভিজিট না করেও বিল করে টাকা নেওয়ার হিসাব নতুন নয়। এখানেও শুভংকরের ফাঁকি দিয়েছে এই কর্মকর্তা। সরেজমিনে আরও অনুসন্ধান করে দেখা যায়, ডাঃ জেসমিন আরার জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি গাড়ী নিয়ে ব্যাক্তিগত কাজে যশোর এয়ারপোর্ট সহ নিউমার্কেট বাজারে প্রায়শ যাতায়াত করেন। এ বিষয় নিয়ে সাবেক সিভিল সার্জন ডাঃ সুজাত জানলেও তিনি তখন কোন ব্যবস্থা নেননি।
সর্বশেষ গত ৪সেপ্টেম্বর দূর্নীতি দমন কমিশন হানা দেন হাসপাতালের রান্না ঘরে। সেখানেই অনিয়মের সন্ধান পান দুদকের সহকারী পরিচালক রফিকুল ইসলাম। এছাড়া ঔষধ সরবরাহে অনিয়ম দেখতে পান দুদক কর্মকর্তারা।
এদিকে, সাম্প্রতিক হাসপাতালের একটি বিজ্ঞাপন দেওয়া হয় একাধিক জাতীয় দৈনিক পত্রিকায়। কিন্তু ওই বিজ্ঞাপনের বিলের চেক সংশ্লিষ্ট পত্রিকাটির ব্যাংক একাউন্টে দেওয়ার বিধান থাকলেও তা না দিয়ে নগদ অর্থের লেনদেন করেন এখানকান কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারিরা। বিশেষ করে ডাঃ জেসমিন আরা’র নির্দেশে মানবকন্ঠ নামক একটি পত্রিকার বিজ্ঞাপনের বিল প্রদান করা হয় কথিত সাংবাদিক মামুন মোল্যাকে। যদিও ওই সাংবাদিক মানবকন্ঠ পত্রিকার কোন দায়িত্বে নেই। কিন্তু অফিসের হিসাব রক্ষক আজিজুল হকসহ সংশ্লিষ্টরা বিশেষ সুবিধার বিনিময়ে বিধি লঙ্ঘণ করে এ ধরণের অনিয়ম-দুর্নীতি অব্যাহত রেখেছেন। এখানে দিনের আলোতে এমন রম্য অনিয়ম চলে আসছে দীর্ঘ দিন।
যতই তদন্ত করা হোক না কেন। দিন শেষে তদন্তগুলো আলোর মুখ দেখে না বলে জানান স্থানীয় সাংবাদিক মো. সুমন সরদার। সুমন বলেন, কয়েকদফা ফুলতলার স্থানীয় সাংবাদিকরা হাসপাতালের অনিয়মের বিষয় পত্রিকায় তুলে ধরলেও তাতে কোন ফলাফল হয় না।
অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয় মুঠোফোনে ডাঃ জেসমিন আরার সাথে কয়েক দফা কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
খুলনা স্বাস্থ্য পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডাঃ মুজিবর রহমান মুঠোফোনে জানান, ডা. জেসমিন আরার বিরুদ্ধে সু-নির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button