দৌলতপুর মহেশ^রপাশায় দুই বাড়ীতে সন্ত্রাসীদের গুলি বর্ষণের ঘটনায় পৃথক দুই মামলা : আটক ২

# ২৪ ঘন্টার আগেই ২ আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ #
# অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন
স্টাফ রিপোর্টার : খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর থানাধীন মহেশ^রপাশা খুটিরঘাট ও কার্তিককুল এলাকার মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) ভোরে পৃথক দুটি বাড়ীতে সংঘবদ্ধ সস্ত্রাসীরা অর্তকিত গুলি বর্ষণ, ভাংচুর ও ত্রাস সৃষ্টির ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় পৃথক দুটি মামলা রুজু করা হয়। বুধবার (২৯ অক্টোবর) ইসমাত জাহান ববি বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ মামলা করেন (নং-১৪)। মামলার আসামীরা হলেন- আড়ংঘাটা থানাধীন রংপুর শলুয়া ঘোনারদাড়া রোড এলাকার বাসিন্দা দুলাল সরকারের পুত্র সুজন সরকার (২৮), দৌলতপুর থানাধীন মহেশ্বরপাশা বুচিতলা এলাকার বাসিন্দা আলমগীর হোসেনের পুত্র মোঃ ইমন হাওলাদার গজাল ইমন (২৪), আড়ংঘাটা থানাধীন পাহাড়পুর মসজিদ এলাকার বাসিন্দা- সোবহান শেখের পুত্র ইমন শেখ (২০), আড়ংঘাটা থানাধীন রংপুর শলুয়া এলাকার বাসিন্দা নজু শেখের পুত্র সবুজ শেখ (৩০), একই এলাকার বাসিন্দা রূস্তম শেখের পুত্র মিলন শেখ (৩০), দৌলতপুর থানাধীন এলাকার বাসিন্দা গোলাম নবীর পুত্র দিপু শেখ (২৮), আড়ংঘাটা থানাধীন রংপুর শলুয়া এলাকার বাসিন্দা মোঃ তাইজুল ইসলামের পুত্র জোবায়ের বিশ্বাস (২৮), একই এলাকার বাসিন্দা কালাম মোড়লের পুত্র সেলিম মোড়ল (৩২), আড়ংঘাটা থানাধীন রংপুর শলুয়া এলাকার বাসিন্দা রাসেদ মোল্লার পুত্র ওসমান মোল্লা (২৬), শলুয়া অবদা এলাকার বাসিন্দা দুলাল সরকারের পুত্র দিপু সরকার (৩২), ও রংপুর শলুয়া এলাকার বাসিন্দা সিরাজ ফকিরের পুত্র রসুল ফকির (৪৫)। অপরদিকে, একই সময়ে ওই ঘটনায় মো. মুহাসীন শেখ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেন (নং-১৩)। পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বুধবার ভোরে আড়ংঘাটা থানাধীন শলূয়া বাজার হতে কালীঘাটের দিকে কালী মন্দিরের সামনে থেকে এজাহার নামীয় আসামী সেলিম মোড়ল ও ওসমান মোল্লাকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক আসামীরা ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। বুধবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে আসামীদের বিজ্ঞ আদালতে সোর্পদ করা হয়। এছাড়া গ্রেপ্তারকৃত আসামীদের অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের আবেদন দেওয়া হয়েছে। মামলার তদন্তের কার্যক্রম চলমান। বাকী আসামীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে, বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দৌলতপুর থানার ওসি (তদন্ত) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এ এফ এম জাহিদুল ইসলাম।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এ এফ এম জাহিদুল ইসলাম জানান, মহেশ^রপাশা এলাকায় দুটি বাড়িতে গুলি বর্ষণের ঘটনায় থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। একটি মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অপর মামলাটি অজ্ঞাতনামা আসামীর বিরুদ্ধে করা হয়। বুধবার ভোরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে দুই আসামীকে গ্রেপ্তার করি। একই দিন দুপুরে তাদের আদালতে সোর্পদ করা হয়েছে। এছাড়া গ্রেপ্তারকৃত আসামীদের অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের আবেদন দেওয়া হয়েছে। মামলার তদন্তের কার্যক্রম চলমান। বাকী আসামীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ বিষয়ে দৌলতপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, থানায় পৃথক দুটি মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযান চালিয়ে দুই আসামীকে গ্রেপ্তার করি। তাদের তথ্যানুসারে বাকী আসামীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর ভোরে ঘটনায় জড়িত আসামীরা মহেশ^রপাশা খুটিরঘাট ও কার্তিককুল এলাকার পৃথক দুটি বাড়ীতে অর্তকিত গুলি বর্ষণ, ভাংচুর ও ত্রাস সৃষ্টি করে। সন্ত্রাসীরা মামলার বাদী ইসমাত জাহান ববির বাড়িতে ৯ রাউন্ড ও কুয়েটে কর্মরত চাকুরিজীবি মুহাসীন শেখের বাড়ীতে আসামীরা ৬ রাউন্ড করে পালিয়ে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থল হতে ১৫ রাউন্ড দেশীয় তৈরী শর্টগানের গুলির খোসা, অন্যান্য আলামত উদ্ধার করে। সর্বশেষ, চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার ২৪ অতিবাহিত হওয়ার আগেই পুলিশ এজাহার নামীয় জড়িত দুই আসামীকে গ্রেপ্তার করতে সম্ভব হয়েছে।



