বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবন ও গাছ বিক্রি নিয়ে জটিলতা

বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলায় কর্তৃপক্ষের অজান্তে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনের মূল্য নির্ধারণ ও নিলাম আহবান ছাড়াই বিক্রি করে ফেলেছেন প্রধান শিক্ষক ও তার সহকর্মীরা। একই সাথে নিজেদের খেয়ালে বিদ্যালয় চত্বরে থাকা ৫টি গাছও কেটেছেন তারা, যার ৪টি ইতোমধ্যে বিক্রি করা হয়েছে। যথাযথ নিয়ম মেনেই ভবন অপসারণ ও গাছ কেটে বিক্রি করা হয়েছে বলে দাবি করছেন প্রধান শিক্ষক। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলছেন, ভবন ভাঙ্গা ও গাছ কাটার বিষয়ে তাকে কিছুই জানানো হয়নি। অতি সম্প্রতি এ ঘটনা ঘটেছে জিউধরা ইউনিয়নের গোপালচাঁদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, ১৯৭৩ সালে গোপালচাঁদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। অবকাঠামোগত উন্নয়ন তেমন হয়নি। বিদ্যালয়টির সূচনালগ্নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে পাওয়া ৪ কক্ষের ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় শিক্ষকরা ওটাকে পরিত্যাক্ত ঘোষণা করেন। ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে কথিত ওই পরিত্যাক্ত ভবনটি কোন প্রকার নিলাম প্রক্রিয়া ছাড়াই ভেঙ্গে বিভিন্ন জনের নিকট সুুবিধামত বিক্রি করে দেয়া হয়। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক দ্রেবব্রত রায় সাংবাদিকদের বলেন, বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনটি কয়েক বছর ধরে পরিত্যাক্ত অবস্থায় থাকায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও জেলা শিক্ষা প্রকৌশলী দপ্তরে মৌখিকভাবে অবহিত করে ভবন অপসারণ করা হয়েছে। শিক্ষকদের সমন্বয়ে রেজুলেশনের মাধ্যমে আয়ন-ব্যায়ন কমিটি গঠন করে ওই কমিটির মাধ্যমে ঝুকিপূর্ন গাছগুলোও কেটে ৪টি গাছ বিক্রি করা হয়েছে এবং একটি গাছ বিদ্যালয়ের ফার্নিচার তৈরীর জন্য রাখা হয়েছে। ভাঙ্গা ভবনের ইট থেকে বিদ্যালয়ের সিমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ করা হয়েছে। কিছু ইট ও রড বিক্রি করে সিমেন্ট বালি কেনা হয়েছে। বিদ্যালয়টির বর্তমান সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ বলেন, তিনি বিদ্যালয়ের সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পরে এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক তাকে অবগত করেনি। ভবন ভাঙ্গা ও গাছ কাটার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। খোঁজ নিয়ে দ্রুতই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।#



