স্থানীয় সংবাদ

সাতক্ষীরায় আম সংগ্রহ শুরু, সিন্ডিকেটের কারনে ন্যায্য দাম না পাওয়ার শঙ্কা চাষিদের

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরায় ভাঙা ও বাজারজাতকরণ শুরু হয়েছে গাপালভোগ ও গোবিন্দভোগ আম। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ি গ্রামে ইসমাইল হোসেনের বাগানে মঙ্গলবার আম ভাঙা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক। তবে উৎপাদন নিয়ে সন্তুষ্ট হলেও আমের দাম নিয়ে খুশি নন চাষিরা। এদিকে, এবারও ১০০ মে.টন আম বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে কৃষিবিভাগের। সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরায় পরবর্তী ধাপে ১৫ মে ভাঙা হবে হিমসাগর আম,২৭মে ল্যাংড়া ও ০৫ জুন ভাঙা হবে আম্রপালি আম। এবারের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭০ হাজার মে.টন। এর মধ্যে ১০০ মে.টন হিমসাগর ও ল্যাংড়া আম বিদেশে রপ্তানী করা হবে। আবহাওয়া ও মাটির গুনে অন্যান্য স্থানের তুলনায় আগে পাকে সাতক্ষীরার আম। দাম পাওয়ার আশায় অনেকেই কাচা আম পাড়েন। প্রশাসনিক কর্মকর্তারা তাই আগে থেকেই আম ভাঙার তারিখ নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন। অন্যান্য বারের তুলনায় এবছর সাতক্ষীরায় আমের উৎপাদন ভালো। আমের গুনগত মান নিশ্চিত করতে সারাবছরই চাষিরা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। তবে বাজারদর সিন্ডিকেটধারীদের হাতে যাতে নিয়ন্ত্রণে না থাকে,সে বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিতে প্রশাসনকে অনুরোধ জানিয়েছেন তাঁরা। এবিষয়ে আম চাষি সদর উপজেলার ফিংড়ি গ্রামের ইসমাইল হোসেন বলেন,‘‘ এবছর আমের উৎপাদন খুবই ভালো। তবে দাম নিয়ে শঙ্কায় আছি। আমাদের সংকট অনেক। হিমাগার না থাকায় বাজারের ক্রেতারা যা দাম দেন,তাতে আমাদের বিক্রি করতে বাধ্য হতে হয়। এছাড়া শহরের সুলতানপুর বড়বাজার ছাড়া আমাদের অন্যখানে আম বিক্রির তেমন জায়গা নেই। গোপালভোগ আমের মণ ন্যুনতম ২ হাজার ৫শ’ থেকে ৩ হাজার টাকা হতে হবে। নইলে আমাদের লাভ তেমন হবেনা। কিন্তু ইতোমধ্যে বাজারে নাকি গোপালভোগ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার টাকার নিচে। ’’ ইউরোপের বাজার ধরতে তৎপরতা থাকে চাষি ও কৃষিবিভাগের। এছাড়া এবার চিনে আম পাঠানোর প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনির হোসেন। তিনি জানান,‘‘ গতবার চিন দেশে আম পাঠানো হয়েছিল। এবারও ইউরোপের বাজারসহ চিনের বাজারে বাংলাদেশের আম পাওয়া যাবে। যারা রপ্তানী কাজে জড়িত রয়েছেন,তাঁরা ইতোমধ্যে সাতক্ষীরায় চলে এসেছেন। ’’ সাতক্ষীরার আমের বাজার প্রায় ৫শ’ কোটি টাকার। হিমাগার না থাকায় আম সংরক্ষণ করতে পারেননা চাষিরা। এজন্য বাজার সিন্ডিকেটের কারণে যথাযথ আমের দাম পাননা তারা। তবে হিমাগারের চেয়ে সাতক্ষীরায় প্রসেসিং করে দ্রুত ঢাকাসহ অন্যান্য স্থানে পাঠানোর তাগিদ দিলেন জেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম। তিনি জানান,‘‘ আমরা চেষ্টা করছি,চাষিরা যেন সাতক্ষীরায় আম প্রসেসিং করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বাজার ধরতে পারে। ’’ বাজার সিন্ডিকেট ভাঙতে বেশ কিছু পদক্ষেপের কথা জানালেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক বিষ্ণুপদ পাল। তিনি বলেন,‘‘ সিন্ডিকেট করে আমের দাম যাতে না কমাতে পারে,জেলা প্রশাসনের সেদিকে নজর থাকবে। পাশাপাশি হিমাগার বা আম প্রসেসিং সেন্টার গড়ে উঠলে সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি থাকবেননা চাষিরা। ”

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button