খুলনায় ‘জুলাই গ্রাফিতি’ মুছে কোচিং বাণিজ্যের বিজ্ঞাপন : ক্ষোভে ফুঁসছে জুলাইযোদ্ধারা

স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনায় জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিচিহ্ন মুছে দেওয়ার চেষ্টা করছে একটি চক্রÑএমন অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আহত জুলাইযোদ্ধারা। আহত জুলাই যোদ্ধা ও নগরবাসি বলছেন, শহরের বিভিন্ন স্থানে জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে আঁকা গ্রাফিতি ও দেয়ালচিত্রের ওপর উদ্ভেস কোচিং সেন্টারের বিজ্ঞাপন লিখে বা লাগিয়ে পরিকল্পিতভাবে স্মৃতি মুছে ফেলার অপচেষ্টা চলছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল বিকেলে খুলনা নগরীর খান এ সবুর রোডে অবস্থিত ‘জুলাই গ্রাফিতি’ স্থানে গিয়ে দেয়ালচিত্রের ওপর লেখা বিভিন্ন কোচিং সেন্টারের বিজ্ঞাপন মুছে দেন আহত জুলাইযোদ্ধারা। তবে নগরীর অধিকাংশ জায়গায় এখনও রয়ে গেছে তাদের কোচিং সেন্টারের বিজ্ঞাপন। জানা যায়, সারা দেশে উদ্ভাস-উন্মেষ-উত্তরণের ১১৪ টি শাখা রয়েছে। ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অ্যাকাডেমিক এবং ইঞ্জিনিয়ারিং, মেডিকেল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও বিসিএস প্রার্থীদের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই কোচিং করান উদ্ভাস-উন্মেষ-উত্তরণ শিক্ষা পরিবার। তবে খুলনায় শুরু থেকেই বিতর্কিত ভ’মিকায় ছিলো এ প্রতিষ্ঠানটি। পরিচালক সরফরাজ তৎকালিন সময়ে নগর আওয়ামীরীগের দপ্তর সম্পাদক মাহবুবুল আলম সোহাগকে সাথে নিয়ে কোচিং বানিজ্য শুরু করেন । সম্প্রতি সময়ে তিনি পরিকল্পিতভাবে টাকা খেয়ে জুলাই গ্রাফিতি মুছে দেয়ার প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। কোচিং সেন্টারের টাকার একটা বড় অংশ চলে যায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামীরীগের ফান্ডে। আহত জুলাইযোদ্ধা হুজাইফা শেখ জানান, জুলাই আন্দোলন শুধু একটি সময়ের ঘটনা নয়, এটি একটি জাতির প্রতিরোধ ও অধিকার আদায়ের ইতিহাস। সেই ইতিহাসের স্মৃতিচিহ্ন মুছে ফেলার চেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। মহরম হাসান মাহিম বলেন, “যারা শহিদ হয়েছেন, যারা আহত হয়েছেনÑতাদের আত্মত্যাগের স্মৃতি মুছে দেওয়ার চেষ্টা জনগণ কখনোই বরদাস্ত করবে না।” এ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন, আহত জুলাইযোদ্ধা খুলনা জেলা আহ্বায়ক মোঃ হুজাইফা শেখ, রাকিবুল ইসলাম ইমন, ফয়জুল্লাহ শাকিল, মহরম হোসেন মাহিম, আবুজর গিফারী মিরাজ ও আহত জুলাইযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম। আহত জুলাইযোদ্ধা আবুজর গিফারী মিরাজ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে থাকা জুলাই আন্দোলনের গ্রাফিতি ও স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণে ব্যবস্থা নিতে হবে। একইসঙ্গে যারা এসব স্মৃতিচিহ্ন নষ্ট করছে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা। আহত জুলাইযোদ্ধারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ভবিষ্যতে কেউ যদি আবারও জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি মুছে দেওয়ার অপচেষ্টা করে, তাহলে তারা আরও কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন। এ বিষয়ে জানার জন্য বিজ্ঞাপনে দেয়া নম্বরে কল দিলে রিসিভ করে সাকিব নামে একজনের নম্বর দেন। তাকে কল দিলে তিনি আর ফোন রিসিভ করেন নি। তবে পরিচালক সরফরাজকে কল নূন্যতম ২০ বার কল দিলে তিনি রিসিভ করেননি। বরং এসমএস দিয়ে জানিয়েছেন পরিচিত না হলে কথা বলবেন না।



