শিক্ষা অফিসের তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ

# একাধিক ব্যক্তির সাথে প্রতারণা করে বনে গেছেন অঢেল সম্পত্তির মালিক #
স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনায় প্রাথমিক গণ শিক্ষা অধিদপ্তরের ৩য় শ্রেণীর কর্মচারী হাওলাদার মোতালেব হুসাইনের প্রতারণার খপ্পরে পড়ে একাধিক পরিবার আজ নিঃস্ব। তিনি কখনও শিক্ষা অফিসের কর্মচরীদের বা শিক্ষিকাদের বদলি করিয়ে আনবেন বা কাউকে স্বাস্থ্য বিভাগে বা সরকারী অন্যান্য কোন বিভাগে চাকুরী দিবেন প্রতিশ্রুতি দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন অঢেল টাকা। এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন অঢেল সম্পত্তির। এ দিকে প্রতারক মোতালেবের প্রতারণার শিকার হয়ে একাধিক পরিবার আজ নিঃস্ব। তবে চতুর প্রতারক মোতালেব সামান্য তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী হয়েও খুলনা সোনাডাঙ্গায় ৭ তলা একটি বিলাশবহুল বাড়ী নির্মাণ করেছেন। পাশাপাশি খুলনা মোস্তাফার মোড় কৈয়ে রোডে রয়েছে তার চার বিঘা সম্পত্তি। এছাড়া তিনি আয়ুর্বেদিক ওষুধের ব্যবসাসহ তার স্ত্রী নামে রয়েছে অঢেল সম্পত্তি। বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী আলমগীর বলেন, আমার স্ত্রী প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষিকা আমার বাড়ী খুলনার খালিশপুরে আমার ছোট তিনটি বাচ্চা আছে। প্রতিদিন আমার স্ত্রীর বাসে করে মোড়লগঞ্জ যেতে হয় আমার কর্মস্থলে। এই অসহায় এর সুযোগ নিয়ে তখন বাগেরহাট শিক্ষা অফিসে কর্মরত এই প্রতারক মোতালেব বলেন, আমি এক মাসের মধ্যে বদলী করিয়ে এনে দিব। আপনি আমাকে আড়াই লাখ টাকা দেন। আমি সরল মনে তাকে টাকা দেই যা আমার স্ত্রী জানেনা। এরপর বছর কেটে গেছে। পরে আমি জানতে পারলাম যে একাধিক মানুষের কাছ থেকে সে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। আমি কয়েকবার করে তাকে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছি তারপরও কোনভাবে এই প্রতারকের কাছ থেকে টাকা আদায় করতে পারছিনা। একই কথা বলেন, মুহসিন নামের এক ভুক্তভোগী তিনি বলেন আমার ভাবিকে ও তিনি মোড়লগঞ্জ থেকে বদলি করে এনে দিবেন বলে আড়াই লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এছাড়া সোহেল নামের আরেক ভুক্তভোগী বলেন, আমাকে খুলনা সিভিলসার্জন অফিসের স্বাস্থ্য সহকারী হিসেবে চাকুরী দিবে বলে আট লাখ টাকা নিয়েছে এখন আর চাকুরী তো দুরে থাক আমার ফোন ধরেনা। এছাড়া তার স্ত্রী ও এই কাজে সহযোগিতা করে। বাড়ীতে থাকলেও বলে নেই। ফোন কখনও ধরছেনা খুব বড় ধরণের প্রতারক এ মোতালেব। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি ব্যবস্থা না নেয় তাহলে আরও মানুষের সাথে সে প্রতারণা করবে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোতালেবের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি। বা তাকে বাড়ীতে পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে খুলনা দুনীর্তিদমন কমিশনের সহকারী পরিচালক রকিবুল ইসলাম বলেন, আমাদের কাছে কেউ তার বিরুদ্ধে কোন লিখিত অভিযোগ করেনি তারপরও আমরা বিষয়টি দেখছি তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ দিকে এই বিষয়টি নিয়ে খুলনা প্রাথমিক ও গণ শিক্ষা অধিদপ্তরের বিভাগীয় উপঃ পরিচালক ড. মোঃ সফিকুল ইসলাম বলেন, এই মোতালেব বড় ধরনের একটি প্রতারক তার বিরুদ্ধে আমাদের বিভাগে একাধিক লিখিত অভিযোগ আছে প্রতারণা করেছে এমন অভিযোগ। যে কারণে তাকে বদলি করা হয়েছে মেহেরপুরে আমার জানামতে সেখানে এখনও যোগদান করেনি। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।



