ঢাকায় নেওয়ার পথে গুলিবিদ্ধ রাজুর ওপর আরও একদফা হামলা

স্টাফ রিপোর্টারঃ ডাকাতির অর্থের ভাগ না দেওয়ায় স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্যরা প্রকাশ্যে গুলি করে আন্ত : জেলা ডাকাত সর্দার রাজু ওরফে গালকাটা রাজুকে। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে রাতে তার ওপর আরও একদফা হামলা চালায় ওই সন্ত্রাসী বাহিনী। তবে পুলিশের তৎপরতার কারণে তিনি বেঁচে যান। রাতেই তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। দুপুরে সেখানে তার অপারেশন সম্পন্ন হয়। তবে হামলাকারী কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সোমবার দুপুরে লবণচরা থানাধীন কুবা মসজিদ এলাকায় স্থানীয় সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যদের এলোপাতাড়ি গুলিতে রাজু ওরফে গালকাটা রাজু (৩৫) আহত হয়। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরে পরিচিত এক নারীর বাড়িতে আশ্রয় নেয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে গোপনে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। কিন্তু গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাটি পুলিশ কেস হওয়ায় কোনো হাসপাতালে তাকে ভর্তি নেয়নি। অবস্থার অবনতি হলে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় ওই নারী। কিন্তু পরিবেশ পরিস্থিতি খারাপ দেখে রাজুর পরিচিত ওই নারী তাকে একা ফেলে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই নারীর খোঁজ নিয়ে কোথাও পায়নি। ওই সূত্রটি আরও জানায়, রাজু ওরফে গালকাটা রাজু একজন আন্ত : জেলা ডাকাত সর্দার। খুলনার লবণচরা থানাধীন শিপইয়ার্ড এলাকার আজাদ মাষ্টারের গলি কিরণের বাড়ির ভাড়াটিয়া ইউনুস শেখ ওরফে ইউনুস হাওলাদারের ছেলে। তার বিরুদ্ধে খুলনাসহ বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন থানায় একাধিক হত্যাসহ ডাকাতি মামলা রয়েছে। রাজু নিজের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে বিভিন্নস্থানে আত্মগোপনে থাকত। তবে গভীর রাত পর্যন্ত সহযোগি ডাকাত দলের সদস্যদের আনাগোনা ছিল। পুলিশের নির্ভরযোগ্য সূত্র আরও জানায়, নগরের লবণচরা এলাকার স্থানীয় ফয়সালের ভাই ফারদিন, হেলাল, ব্লাক নয়ন, পালসার সোহেল, সোগা সোহেল ও ধলুসহ একাধিক সন্ত্রাসীর সাথে লুন্ঠিত হওয়া অর্থের ভাগ নিয়ে মনমালিন্য হয়।এ বিরোধের জের ধরে ওই বাহিনীর সন্ত্রাসীরা সোমবার দুপুরে লবণচরা থানাধীন কুবা মসজিদ এলাকায় রাজুকে লক্ষ্য একাধিক গুলি ছুড়তে থাকে। কিন্তু একটি গুলি তার পেটের বাম পাশ ভেদ করে পিঠ দিয়ে বের হয়ে যায়।এদিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর পুুলিশ রাজুকে আটক করে। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাত ১২টা ২২ মিনিটের দিকে পুলিশ পাহারায় ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়।রাত সাড়ে ১২ টার কিছু পরে তাকে বহনকারী এম্বুলেন্সটি রূপসা উপজেলার কুদির বটতলা এলাকায় পৌঁছালে আরও একবার তার ওপর হামলা চালায় ওই সন্ত্রাসী বাহিনী। এম্বুলেন্স লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীরা পরপর ৪-৫টি গুলি করে। পরবর্তীতে এম্বুলেন্সে থাকা পুলিশ সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে কাটাখালী হাইওয়ে থানাকে বিষয়টি অবগত করে। এরপর হাইওয়ে পুলিশ এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। এ ব্যাপারে কাটাখালী হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মো: জাফর আহমেদ জানান, রাতে এমন খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসী বাহিনী ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে থানার একটি ফোর্স তাদের মোল্লাহাট ব্রীজ পার করে দেয়। লবণচরা থানার অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ মোশারেফ হোসেন বলেন, বিষয়টি রহস্যজনক। আমরা বিভিন্নস্থানে আহত ব্যক্তির বিষয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছি। তার বিরুদ্ধে ঢাকা, খুলনা, বাগেরহাট ও যশোরসহ বিভিন্নস্থানে ডাকাতি ও হত্যাসহ একাধিক মামলার খোঁজ পেয়েছি। আরও একদফা হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।তিনি আরও জানান, রাজুর অবস্থা আশংকাজনক। মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অপারেশন করা হয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন।



