স্থানীয় সংবাদ

সুন্দরবনের অন্ধকার জীবন ছেড়ে আলোয় ফেরা বাছেদ এখন ষড়যন্ত্রের শিকার

# স্বাভাবিক জীবনে বাধা দেওয়ার নেপথ্যে অস্ত্র ব্যবসায়ীরা! #

স্টাফ রিপোর্টার : অন্ধকার জগত ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা এক মানুষের নাম মোঃ নুরুল বাছেদ সিকদার। খুলনার রূপসা উপজেলার আলাইপুরের বাসিন্দা বাছেদ এক সময় সুন্দরবনের জলদস্যু (ডাকাত) জীবনের সাথে জড়িত ছিলেন। তবে, সেই অপরাধের পথ ভুল বুঝতে পেরে তিনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী র‌্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। এরপর নিজের পরিবার ও এলাকাবাসীর আন্তরিক সহায়তায় তিনি ফিরে আসেন সমাজের মূল স্রোতে। শুরু করেন চাষাবাদ ও মাছ চাষের মাধ্যমে সৎ উপায়ে জীবিকা নির্বাহের এক নতুন সংগ্রাম। বিগত দিনগুলোতে বাছেদ সিকদার নিজেকে একজন পুরোদস্তুর ভালো মানুষ হিসেবে প্রমাণ করেছেন। তাঁর এই পরিবর্তনকে সাধুবাদ জানিয়ে এলাকাবাসীও তাঁকে বুকে টেনে নিয়েছে। বর্তমানে তিনি এলাকার একজন শান্তিপ্রিয় ও ভালোবাসার পাত্র। সবকিছু যখন স্বাভাবিক ও সুন্দরভাবে চলছিল, ঠিক তখনই বাছেদের এই সুন্দর জীবনকে বিপর্যস্ত করতে উঠেপড়ে লেগেছে একটি বিশেষ মহল। সম্প্রতি কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে বাছেদের সেই ফেলে আসা অন্ধকার জীবনের পুরনো বিষয়গুলোকে নতুন করে রঙ চড়িয়ে বিভ্রান্তিকর ও নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই মনগড়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদের পেছনে রয়েছে এক সময়ের সেই প্রভাবশালী চক্র- যারা বাছেদ ডাকাত থাকা অবস্থায় তাঁর কাছে চড়া মূল্যে অবৈধ অস্ত্র বিক্রি করত। বাছেদ আত্মসমর্পণ করে ভালো মানুষ হয়ে যাওয়ায় এই অঞ্চলের অস্ত্র ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয় এবং তাদের অবৈধ ব্যবসা স্থবির হয়ে পড়ে। মূলত, বাছেদকে মানসিকভাবে হেনস্তা ও বাধ্য করে পুনরায় অন্ধকার জগতে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্যই এই কুচক্রী মহলটি নোংরা খেলায় মেতে উঠেছে। লক্ষ্য একটাইÑবাছেদ আবার অপরাধে জড়াক এবং তাদের অস্ত্রের ব্যবসাও আবার চাঙ্গা হোক। অনুসন্ধানে আরও দেখা গেছে, বাছেদের বিরুদ্ধে যাদের “সাক্ষী” হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তারা নিজেরাও এই বিষয়ে সম্পূর্ণ অন্ধকার। গণমাধ্যমের কাছে তারা বিস্ময় প্রকাশ করে জানিয়েছেন, এই ধরনের সংবাদের বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না এবং বাছেদের বিরুদ্ধে তারা কোনো বক্তব্য দেননি। উল্টো তারা দৃঢ় কণ্ঠে বলেছেন, “নুরুল বাছেদ সিকদার এখন অত্যন্ত ভালো এবং শান্ত প্রকৃতির মানুষ। তিনি সৎ পথে কষ্ট করে সংসার চালাচ্ছেন। তাঁকে জড়িয়ে যা লেখা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।”একই সাথে আলাইপুর এলাকার সাধারণ মানুষ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বাছেদের পক্ষে ইতিবাচক সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দ ও নারী ইউপি সদস্য আইরিন আক্তার বলেন, একজন মানুষ ভুল পথ ছেড়ে ভালো পথে ফিরে এলে তাকে স্বাগত জানানো উচিত, সমাজচ্যুত করা নয়। একটি মানুষ যখন রাষ্ট্রের ডাকে সাড়া দিয়ে, অপরাধের পথ ছেড়ে সৎ জীবনযাপন করছেন, তখন তাকে পুনরায় অপরাধের দিকে ঠেলে দেওয়ার এই অপচেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। যারা বাছেদের স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ জীবনকে ধ্বংস করতে মিথ্যা সংবাদ ছড়াচ্ছে পাশাপাশি সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, এসব কুচুক্রি মহলদের অনতিবিলম্বে আইনের আওতায় আনা জরুরি বলে মনে করেন এলাকাবাসী ও সচেতন মহল। এছাড়া এই “অস্ত্র ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট” এবং তাদের মদদদাতাদের খুঁজে বের করে আেিনর আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যেন মানুষকে এভাবে ষড়যন্ত্রের শিকার না হয়।তবে, বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী বাছেদ আলী বলেন, আমি যখন অন্ধকার জগৎ ছাড়লাম, তখন কিছু মানুষের অস্ত্রের ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে। তারা বিশাল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। এখন ষড়যন্ত্র চলছে আমি যেন আবার সেই অন্ধকার জীবনে ফিরে যাই। তবে, আল্লাহর কসম, আমি আর কোনোদিন ওই অন্ধকার পথে যাবো না। কতিপয় ফেসবুক পেজে মিডিয়াকে মিথ্যা খবর ছড়াচ্ছে, আমার সম্মান নষ্ট করছে। আমি প্রশাসনের কাছে এর বিচার চাই। আমাকে যেন শান্তিতে বাঁচতে দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button