কাঁচা পাট রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে খুলনায় শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

দ্বিতীয় দিনের চলমান আন্দোলন
# ১ কিঃ মিঃ সড়কে আগুন জ্বালিয়ে ও কাঠ ফেলে অবরোধ, চলাচলে দুর্ভোগ #
# ঝাড়– হাতে আন্দোলনে যোগ দেয় শ্রমিকদের স্ত্রী-সন্তানেরা #
স্টাফ রিপোর্টার : কাঁচাপাট রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো খুলনা নগরীর খুলনা-যশোর মহাসড়কের উপর অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন আন্দেলনরত শ্রমিকরা। বুধবার (২০ মে) সাড় ১০ টার পর খুলনার দৌলতপুর জুট প্রেস অ্যান্ড বেলিং ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে শ্রমিকরা নগরীর রেলিগেট মোড় থেকে শুরু করে মুহসীন মোড় পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে টায়ারে আগুন আগুন জ্বালিয়ে ও গাছের কাঠ ফেলে তারা তাদের কর্মসূচি পালন করেন। এসময় দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সাধারন শ্রমিকদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী-সন্তানেরাও ঝাড়– হাতে রাস্তায় নেমে আসে। শ্রমিকদের অবরোধ প্রায় ২ ঘন্টার মতো পালিত হয়। দীর্ঘ সময়ের এ অবরোধের ফলে খুলনা-যশোর সড়কে যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল ব্যহত হয়। অবরোধের কবলে পড়ে খুলনা-যশোর সড়কে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন পড়ে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। এসময় সড়কজুড়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে শক্ত অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে। এসময় উত্তেজিত শ্রমিকরা তাদের দাবি আদায় না হলে,গাঁয়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যারও হুমকি প্রদান করেন। এছাড়া তারা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ঢাকা নারায়ণগঞ্জের শ্রমিকদের সমান্বয়ে রাজনীতিমুখি হওয়ার ও হুঁশিয়ারী দেন। এছাড়া উত্তেজিত শ্রমিকরা বিজেএ ভবনে ইট-পাটকেল ছুঁড়ে মারে। অবরোধে মুখে পড়ে কর্মব্যস্ত ছুটে চলা নগরবাসীকে বেশ বেগ ও দুর্ভোগ পোহাতে হবে। এ সময় দাবি আদায়ের লক্ষ্যে উত্তেজিত শ্রমিক না নারীদের প্রতিবাদী স্লোগানে স্লোগানে রেলিগেট এলাকা প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভ সমাবেশে শ্রমিক নেতারা অভিযাগ করেন, ২০২৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর কাঁচা পাট রপ্তানির ওপর ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর থেকে পাট খাত মারাত্মক সংকটের মুখে পড়েছে। গত ৯ মাস ধরে অসংখ্য শ্রমিক কর্মহীন অবস্থায় পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন, টাকার অভাবে চিকিৎসা সেবাও নিতে পারছেন। ঈদ আসন্ন, কিভাবে তারা পরিবার পরিজন নিয়ে ঈদ কাটাবেন তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা। শ্রমিক নেতারা আরও জানান, দ্রুত কাঁচা পাট রপ্তানি চালু না হলে হাজার হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়বে এবং দেশের ঐতিহ্যবাহী পাটশিল্প ধ্বংসের মুখে পতিত হবে।
এ বিষয়ে আন্দোলনরত শ্রমিক ডালিম কাজী জানান, কাঁচাপাট রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো খুলনা নগরীর খুলনা-যশোর মহাসড়কের উপর অবরোধ করে বিক্ষোভ করছি। আমরা সাধারন শ্রমিক পাট রপ্তানীর সাথে আমাদের রুটি-রুজি। সরকার যদি রপ্তানির উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়, তবে আমরা আন্দোলন হতে পিছু হাটবো।
পাট শ্রমিক করিম মিয়া জানান, আজকে দীর্ঘ নয় মাস আমাদের কাজ বন্ধ। ইউনূস ও আকিজ সাহেবের ছেলে বশির উদ্দিন রপ্তানী বন্ধ করে দিছে। কাজ বন্ধ হওয়ার কারণে আমরা ছেলে মেয়ে নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি। দ্রুত রপ্তানীর উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হোক, নইলে আমরা রাজপথে থেকে আন্দোলন করে যাবো। আন্দোলনে আসা নারী বিলকিস বেগম বলেন, দীর্ঘ ৯ মাস ধরে কাজ নেই। আমাদের ছেলে-মেয়েদের নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছি। টাকা অভাবে বাজার করতে পারছি। ছেলে মেয়ের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া সামনে ঈদ। কাজই নেই, টাকা কোথা থেকে আসবে, আমরা কিভাবে ঈদ কাটাবো।
এ বিষয়ে আন্দোলনরত শ্রমিক মো. কামাল হোসেন জানান, দাবি
খুলনা দৌলতপুর জুট প্রেস অ্যান্ড বেলিং ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সাঃ সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম মিঠু জানান, ২০২৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর কাঁচা পাট রপ্তানির ওপর ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর থেকে পাট খাত মারাত্মক সংকটের মুখে পড়েছে। গত ৯ মাস ধরে অসংখ্য শ্রমিক কর্মহীন অবস্থায় পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ঈদ আসন্ন, কিভাবে শ্রমিকেরা পরিবার পরিজন নিয়ে ঈদ কাটাবে? তিনি আরও জানান, দ্রুত কাঁচা পাট রপ্তানি চালু না হলে হাজার হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়বে এবং দেশের ঐতিহ্যবাহী পাটশিল্প ধ্বংসের মুখে পতিত হবে।



