কাঁচাপাট রপ্তানি বন্ধের প্রতিবাদে বিজেএ’র সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক শর্ত আরোপে
স্টাফ রিপোর্টার : বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক শর্ত আরোপের মাধ্যমে কাঁচা পাট রপ্তানি বন্ধের প্রতিবাদে বাংলাদেশ জুট এসোসিয়েশন (বিজেএ) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন মঙ্গলবার সকালে নগরীর দৌলতপুরস্থ বিজেএ’র নিজস্ব ভবনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পাঠ করেন বাংলাদেশ জুট এসোসিয়েশন (বিজেএ)’র চেয়ারম্যান খন্দকার আলমগীর কবির। তিনি লিখিত বক্তব্যে জানান, স্বাধীনতাত্তোর কাল হতে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটার পর উদ্বৃত্ত কাঁচাপাট রপ্তানি করে আমরা প্রায় লক্ষ কোটি টাকার শতভাগ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছি। বিগত অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা নিজের ব্যবসায়িক স্বার্থে বাংলাদেশ জুট এসোসিয়েশন (বিজেএ)’র সাথে কোনরূপ আলোচনা ছাড়াই বেসরকারী জুটমিলগুলোকে এককভাবে পাটের বাজার নিয়ন্ত্রণের সুযোগ করে দেয়ার উদ্দেশ্যে গত বছরের ৮ সেম্পেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এর রপ্তানী-১ অধিশাখার স্মারক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে রপ্তানি নীতি ২০২৪-২০২৭ এর পরিশিষ্ট-২ এ কাঁচা পাটকে শর্তযুক্ত রপ্তানি পণ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে কাঁচা পাট রপ্তানি বন্ধ করে দেয়া হয়।
যার ফলশ্রুতিতে আমরা কাঁচা পাট রপ্তানিকারকেরা ব্যপক আর্থিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি এবং কাঁচা পাট রপ্তানির সাথে সম্পৃক্ত সারা দেশের লক্ষাধিক শ্রমিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মহীন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি কৃষকও পাটের ন্যায্য মূল্য হতে বঞ্চিত হচ্ছে। সর্বোপরি এই খাত হতে বিপুল পরিমান বৈদেশিক মুদ্র অর্জন ব্যহত হচ্ছে। তিনি আরও জানান,পাট অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী ২০২৪-২০২৫ বছরে দেশে পাট উৎপাদনের পরিমান ছিল প্রায় ৭৪.৯৮ লক্ষ বেল এবং বছর শেষে দেশে ৩.৫২ লক্ষ বেল কাঁচা পাট উদ্ধৃত্ত থেকে যায়। বর্তমান ২০২৫-২০২৬ মৌসুমে দেশে পাটের উৎপাদন ৮৩.১৫ লক্ষ বেল এবং বিগত বছরের উদ্ধৃত্তসহ সর্বমোট ৮৬.৬৭ লক্ষ বেল কাঁচা পাট রয়েছে। উল্লেখ্য যে, দেশের পাটকলগুলোতে বছরে প্রায় ৩৫-৪০ লক্ষ বেল কাঁচা পাট এবং দেশের অভ্যন্তরীণ প্রয়োজনে প্রায় ৫ লক্ষ বেলসহ প্রায় ৪৫ লক্ষ বেল কাঁচা পাটের চাহিদা রয়েছে। পাট অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের মার্চ-২৬ পর্যন্ত দেশে ২০.৪০ লক্ষ বেল কাঁচা পাট মজুদ রয়েছে। বর্ণিত শর্তের কারণে বছর শেষে প্রায় ১৫-২০ লক্ষ বেল কাঁচা পাট উদ্ধৃত্ত থেকে যাবে।দেশে উল্লেখযোগ্য পরিমান কাঁচা পাট উদ্বৃত্ত থাকার পরও নির্দিষ্ট একটি পক্ষকে সুবিধা দেয়ার জন্য দেশের ক্ষতি করে হটকারীভাবে কাঁচা পাট রপ্তানি বন্ধ করে দেয়ার কোন যুক্তিসঙ্গত কারন থাকতে পারে না।
তিনি আরও জানান, দেশের জুটমিলগুলোর চাহিদাসহ অভ্যন্তরীণ কাঁচা পাটের সকল চাহিদা মেটানোর পর দেশে উদ্বৃত থাকা কাঁচা পাট হতে আমরা মাত্র ৮-১০ লক্ষ বেল কাঁচা পাট বিদেশে রপ্তানি করে থাকি এবং দেশের জন্য প্রতি বছর ১৫০০-২০০০ কোটি টাকার শতভাগ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর কাঁচা পাট রপ্তানির উপর শর্ত আরোপের কারণে ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের নভেম্বর-২০২৫ পর্যন্ত আমরা মাত্র ৮৬৩৬৭ বেল কাঁচা পাট রপ্তানি করতে পেরেছি, যা থেকে মাত্র ১৪৭.৩৪ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা এসেছে। অর্থাৎ কাঁচা পাট রপ্তানি বন্ধ করার মাধ্যমে দেশকে বিপুল অংকের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন হতে বঞ্চিত করা হয়েছে। একটি স্বার্থান্বেষী মহলের প্ররোচনায় বিগত সরকার কর্তৃক কয়েক দফায় কাঁচা পাট রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার কারণে আমাদের কাছ থেকে কাঁচা পাট না পেয়ে বৈদেশিক ক্রেতারা তাদের জুট মিলগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। যার ফলে বৈদেশিক বাজারে আমাদের কাঁচা পাটের চাহিদা ব্যপক হ্রাস পেয়েছে। বর্তমানে আমরা মাত্র ৮-১০ লক্ষ বেল কাঁচা পাট রপ্তানি করতে পারি। অনতিবিলম্বে কাঁচা পাট রপ্তানির উপর থেকে শর্ত প্রত্যাহার করা না হলে কাঁচা পাটের বৈদেশিক বাজার আরো ক্ষতিগ্রস্থ হবে।
এমতাবস্থায় কাঁচা পাটকে শর্তযুক্ত রপ্তানি পণ্যের তালিকা হতে অব্যাহতি প্রদান না করা পর্যন্ত আমরা ধারাবাহিকভাবে মানব বন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করবো এবং প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করবো। তিনি আরও জানান, কৃষকের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিতকল্পে, লক্ষাধিক শ্রমিক কর্মচারীর কর্মসংস্থান সচল রাখা ও কাঁচা পাট রপ্তানিকারকদের আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষার্থে এবং দেশের স্বার্থে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এর রপ্তানী-১ অধিশাখা কর্তৃক গত বছরের ৮ সেম্পেম্বর স্মারক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে রপ্তানি নীতি ২০২৪-২০২৭ এর পরিশিষ্ট-২ এ কাঁচা পাটকে শর্তযুক্ত রপ্তানি পণ্যের তালিকা থেকে অব্যাহতি প্রদানের লক্ষ্যে সাংবাদিকদের সহযোগীতার কামনা করেন। এছাড়াও তিনি তার লিখিত বক্তৃতায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরে বক্তৃতা করেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বিজেএর পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক ও সদস্যবৃন্দ, ইলেকট্রিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।



