স্থানীয় সংবাদ

বটিয়াঘাটার নদী ভাঙ্গনে শহররক্ষা বেড়িবাঁধ সহ বিভিন্ন এলাকার বেড়ীবাঁধ গুলো রয়েছে হুমকি মূখে

মনিরুজ্জামান বটিয়াঘাটা থেকে ঃ বটিয়াঘাটার জলমা ইউনিয়নের জলমা-কচুবুনিয়া সংলগ্ন এলাকায় শহর রক্ষা বেড়িবাঁধ সহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার নদী উপকূলীয় অঞ্চলের বেড়িবাঁধ গুলো রয়েছে হুমকির মুখে । সম্প্রতি বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিন্মচাপের প্রভাবে ভারী বর্ষণে এবং উজানের পানির চাপে নদীতে পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পাশাপাশি নদীতে স্রোতের গতীও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে । যার ফলশ্রুতিতে গত কয়েকদিন ধরে জলমা ইউনিয়নের কচুবুনিয়া সংলগ্ন শহররক্ষা বেড়িবাঁধ সহ উপজেলার কাজীবাছা ,ঝপঝপিয়া ও সুরখালী ইউনিয়নের বারোআড়িয়া-সুন্দরমহল এলাকার নদী উপকূলীয় অঞ্চলের বেড়িবাঁধ গুলো রয়েছে হুমকির মুখে । উপজেলার নদী ভাঙ্গন অঞ্চলের বেড়িবাঁধ গুলোর মধ্যে ঝুঁকিতে রয়েছে জলমা ইউনিয়নের কচুবুনিয়া সংলগ্ন শহররক্ষা বেড়িবাঁধ, তেঁতুলতলা, বটিয়াঘাটা বাজার সদর, সদর ইউনিয়নের বরুইতলা , বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নরে ভাদাইলবুনিয়া,বুঝবুনিয়া, শেয়ালিডাঙ্গা, গঙ্গারামপুর ইউনিয়নের বরনপাড়া ও মাইটভাঙ্গা বরোনপাড়া ও সুরখালী ইউনিয়নের বারোআড়িয়া-সুন্দরমহল ও রায়পুর এলাকার নদী উপকূলীয় বেড়ীবাঁধ গুলো রয়েছে হুমকির মুখে । দ্রুত পদক্ষেপ গ্ৰহন করা হলে পানির স্রোতের তোড়ে যে কোন মুহূর্তে ভেঙ্গে গিয়ে প্লাবিত হতে পারে জলমা ইউনিয়নের বিস্তির্ণ এলাকা ,খুলনা মহানগরীর বড় বড় জনগুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও উপজেলর বিভিন্ন অঞ্চল। গত কয়েক দিনের ভারীবর্ষণে ও উজানের পানির চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীভাঙন উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ চরম আতঙ্ক এবং উৎকণ্ঠার মধ্যে দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। উল্লেখ্য খুলনা শহরকে পানির চাপ থেকে রক্ষা করতে কাজিবাছা নদীর দুই মূখে বাঁধ দিয়ে নির্মাণ করা হয় শহররক্ষা বেড়িবাঁধ। তারপর থেকে মূল কাজিবাছা নদী গতি পথ পরিবর্তন করে জলমা ইউনিয়নের ভৌগলিক অবস্থান ও পরিবেশের ভারসাম্য হারিয়ে যেতে থাকে । এর প্রভাবে ময়ূরী নদীতে সৃষ্টি হয় জলবদ্ধতা, নালুয়া পশুর নদী সম্পূর্ণ ভরাট হয়ে জমিতে রূপান্তরিত হয় ।আর কাজিবাছা নদীর গতিপথ পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে জলমা ইউনিয়নের ভৌগলিক অবস্থান সহ জলমা মৌজার হাজার হাজার একর জমি ও জলমা ও কচুবুনিয়া নামক দুই গ্ৰামের ঘরবাড়ি সর্বস্ব নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায় । উক্ত দুটি গ্ৰামের মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ও জমিজমা সহায় সম্বল হারিয়ে সরকারি ওয়াবদার পাশে খোলা আকাশের নিচে মানবের জীবন যাপন করছে ।এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার থান্দার কামরুজ্জামান’র কাছে এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি গত রবিবারে খবর পেয়ে স্বশরীরে উপস্থিত কচুবুনিয়া সংলগ্ন শহররক্ষা বেড়িবাঁধ পরিদর্শন করি এবং তাৎক্ষণিক পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করি । পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারাও ভাঙ্গন কবলিত স্থানে হাজির হয়ে জায়গা মেপে নিয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছে । এব্যাপারে খুলনা-১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান এমপি এ প্রতিবেদককে বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধান প্রতিশ্রুতি কৃষকদের বাঁচাতে খাল খননের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় নদী সুরক্ষা ও নদী ভাঙ্গন রোধে যুগপোযোগী ও বাস্তবমূখি পদক্ষেপ গ্ৰহন করা এবং শুধু প্রতিশ্রুতিতে দেয়া নয় তা বাস্তবায়ন করা। আমার নির্বাচনী এলাকা (দাকোপ-বটিয়াঘাটা) মিলে খুলনা- ১ আসন নদী বেষ্টিত উপকূলীয় অঞ্চল । বঙ্গোপসাগরের উপকূলে অবস্থিত হওয়ায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও নদী ভাঙ্গন সব সময় লেগেই রয়েছে । এ অঞ্চলের মানুষ নদী ভাঙ্গনে ঘরবাড়ি, জমিজমা, রাস্তাঘাট সহ সর্বস্ব হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে । আমি আমার নির্বাচনী ইশতেহারে প্রথম প্রতিশ্রুতি ছিল নদী ভাঙ্গন রোধে স্থায়ী ও যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করা । আমি সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে গত রবিবার রাতে জলমা ইউনিয়নের কচুবুনিয়া সংলগ্ন শহররক্ষা বেড়িবাঁধে ভাঙ্গন মারাত্মক আকার ধারণ এখবর পেয়ে স্বশরীরে সেখানে খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে ওই রাতেই ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করি এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডেও কর্মকর্তাদের স্থায়ী ভাঙ্গন রোধে বিকল্প বেড়িবাঁধ নির্মাণের নির্দেশনা প্রদান করেছি । পরের দিন সোমবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে উপজেলা বাজার সদরের নদী ভাঙ্গন পরিদর্শন করি এবং ভাঙ্গন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনাও প্রদান করেছি । খুব শীঘ্রই নদী ভাঙ্গন রোধ কার্যকর করা হবে ।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button