স্থানীয় সংবাদ

‘লবণাক্ততা জয় করে উপকূলের কৃষক ও কৃষির উন্নয়নে বারি নিরলস কাজ করে যাচ্ছে’

# খুলনায় নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধনকালে বারির পরিচালক
# নবনির্মিতব্য এই ভবন গবেষণা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে

স্টাফ রিপোর্টার : দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ বিশাল উপকূলীয় অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে লবণাক্ততার আগ্রাসন, খরা, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস ও সুপেয় পানির সংকটের মতো নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি। এসব বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে কৃষি ও কৃষকের টিকে থাকার লড়াইয়ে বারি উপকূলীয় অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে। তিনি বলেন, বিজ্ঞানীদের নিরলস গবেষণা এবং স্থানীয় কৃষকদের অদম্য প্রচেষ্টার সম্মিলিত ফলাফল হিসেবে উপকূলীয় অঞ্চলে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। নবনির্মিতব্য এই ভবন গবেষণা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও আধুনিক করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের (এসআরডিআই) সর্বশেষ লবণাক্ততা মানচিত্র অনুযায়ী, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১৯টি উপকূলীয় জেলার প্রায় ১৭ লাখ হেক্টর আবাদযোগ্য জমির মধ্যে প্রায় সাড়ে ১১ লাখ হেক্টরই এখন কোনো না কোনো মাত্রার লবণাক্ততায় আক্রান্ত, যা ২০০৯ সালের তুলনায় প্রায় এক লাখ হেক্টর বেশি। ক্রমবর্ধমান এই সংকট মোকাবিলায় খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটের মতো জেলাগুলোতে গবেষণা অবকাঠামো সম্প্রসারণকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট কৃষি বিশেষজ্ঞরা। ২০২৩ সালে যাত্রা শুরু করা পার্টনার প্রকল্পটি কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাস্তবায়িত হচ্ছে, যেখানে বিশ্বব্যাংক প্রায় ৫০ কোটি এবং ইফাদ প্রায় সাড়ে চার কোটি মার্কিন ডলার ঋণ ও অনুদান সহায়তা দিচ্ছে, বাকি অর্থায়ন আসছে বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে। বারি ছাড়াও বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি), কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই), কৃষি বিপণন অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনসহ (বিএডিসি) একাধিক প্রতিষ্ঠান প্রকল্পটি বাস্তবায়নে যুক্ত। উচ্চমূল্যের ফসলে বৈচিত্র্যকরণ, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, কৃষি উদ্যোক্তা তৈরি এবং জলবায়ু সহিষ্ণুতা বৃদ্ধি— মূলত এই লক্ষ্যগুলো সামনে রেখে ২০২৮ সাল পর্যন্ত সারাদেশে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। এরই ধারাবাহিকতায় বারির সরেজমিন গবেষণা বিভাগ, দৌলতপুর, খুলনায় নির্মিত হচ্ছে পাঁচতলা এই গবেষণাগার ভবনটি, যা উপকূলীয় লবণাক্ত অঞ্চল-উপযোগী প্রযুক্তি উদ্ভাবনে বিজ্ঞানীদের গবেষণাগার-সুবিধা আরও বাড়াবে। বুধবার (১৯ আগষ্ট) সকালে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিলের (ইফাদ) অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন ‘প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স’ (পার্টনার) মেগা প্রকল্পের আওতায় দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় কৃষি গবেষণায় নতুন গতি সঞ্চারের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) সরেজমিন গবেষণা বিভাগ, দৌলতপুর, খুলনায় নতুন পাঁচতলা বিশিষ্ট অফিস ভবন ও গবেষণাগার নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেছেন, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনষ্টিটিউট এর পরিচালক (সেবা ও সরবরাহ উইং) কৃষিবিদ ড. মোঃ মোশাররফ হোসেন মোল্লা।
পরিচালক আরও জানান, উপকূলীয় কৃষিতে বিপ্লব আনতে বারি ইতোমধ্যে লবণাক্ততা সহিষ্ণু টমেটো, আলু, গম, বার্লি, সরিষা, তরমুজ ও সূর্যমুখীসহ বিভিন্ন ফসলের একাধিক জাত উদ্ভাবন করেছে। এর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের উদ্ভাবিত ‘ভাসমান কৃষি প্রযুক্তি’, ‘বিনা চাষ প্রযুক্তি’, ‘পিট কালচার’ (গর্তে চাষাবাদ) এবং ‘ঘেরের আইলে বছরব্যাপি সবজি চাষ’-এর মতো পদ্ধতি জলাবদ্ধ ও লবণাক্ত জমিতে চাষাবাদের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তিনি বলেন, এসব প্রযুক্তির সুফল ইতোমধ্যে উপকূলীয় অঞ্চলের বহু কৃষক পরিবারের জীবনে অর্থনৈতিক পরিবর্তন এনেছে এবং খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্টনার প্রকল্প পরিচালক ড. জগদীশচন্দ্র বর্মন এবং তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ ফিরোজুর রহমান। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বারি সরেজমিন গবেষণা বিভাগ, দৌলতপুর, খুলনার প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ কামরুল ইসলাম, সাবেক মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. হারুন-অর-রশিদ, উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা তাজরিন সুরাইয়া মুনমুন, ড. মোঃ মহসীন হাওলাদার ও মুস্তাফা কামাল শাহাদাৎ, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মাশফিকুর রহমান, বৈজ্ঞানিক সহকারী গজেন্দ্রনাথ মন্ডল এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ আবুল কালাম আজাদসহ প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য, এসএ খান করর্পোরেশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নতুন পাঁচতলা এই ভবনের নির্মাণের কাজটি পরিচালনার দায়িত্বপালন করছেন বলে সূত্রে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button