স্থানীয় সংবাদ

মামলাজনিত জট কাটছে: স্থগিত থাকা বিআইডব্লিউটিএ’র ১৮টি ঘাটের ইজারা কার্যক্রম দ্রুত চালুর উদ্যোগ

সাইফুল্লাহ তারেক : আইনি জটিলতা ও মামলাজনিত কারণে দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে থাকা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর ১৮টি ঘাট ও পয়েন্টের ইজারা প্রক্রিয়া সচল করার জোরালো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মূলত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে ঝুলে থাকা ইজারা ও টেন্ডার কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা এবং এর মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আদায় বহুগুণ বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে বিআইডব্লিউটিএ’র প্রধান কার্যালয়ের ৬ষ্ঠ তলার সম্মেলন কক্ষে সম্প্রতি এক বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মোঃ রাজিব আহসান। বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান ও সরকারের অতিরিক্ত সচিব জনাব মোঃ মুহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার সদস্য (অর্থ) ক্যাপ্টেন মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন (অবঃ), গ্রেড-২ এবং সদস্য (প্রকৌশল) রকিবুল ইসলাম তালুকদার। এছাড়াও সভায় বিআইডব্লিউটিএ’র বিভিন্ন বিভাগীয় প্রধান, সংশ্লিষ্ট বন্দরের নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তাগণ এবং বিভিন্ন ঘাট/পয়েন্টের মামলায় কর্তৃপক্ষের পক্ষে নিয়োজিত বিজ্ঞ আইনজীবীগণ অংশগ্রহণ করেন। সভায় মূল আলোচ্য বিষয় হিসেবে উঠে আসে যে, দেশের বিভিন্ন আদালতে মামলা চলমান থাকার অজুহাতে দীর্ঘদিন ধরে কর্তৃপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ ১৮টি ঘাট ও পয়েন্টের ইজারা ও টেন্ডার কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন কাক্সিক্ষত রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার, অন্যদিকে ঘাটগুলোর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায়ও নানা ধরনের জটিলতা ও প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে। এই দীর্ঘসূত্রিতা কাটিয়ে আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে ঘাটগুলোর ইজারা কার্যক্রম পুনরায় চালুর বিষয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়।
মামলাজনিত কারণে ইজারা ও টেন্ডার স্থগিত থাকা ১৮টি ঘাটের জট দ্রুত দূর করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বিত ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন প্রধান অতিথি প্রতিমন্ত্রী মোঃ রাজিব আহসান। তিনি বলেন, “মামলাজনিত কারণে দীর্ঘদিন ইজারা কার্যক্রম বন্ধ থাকলে সরকারি রাজস্ব মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই আইনগত প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করে দ্রুততম সময়ে এসব মামলার নিষ্পত্তি ঘটিয়ে অবিলম্বে ইজারা কার্যক্রম সচল করতে হবে।” তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থা, আদালতে পরবর্তী কার্যক্রম, সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের ভূমিকা এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপগুলো নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া, সংশ্লিষ্ট মামলাসমূহের অগ্রগতি নিয়মিত তদারকি এবং আদালতের কার্যক্রমে যথাযথ সমন্বয়ের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্দেশনা দেন। সভায় ১৮টি ঘাটের মামলা সংক্রান্ত সার্বিক বিষয় তুলে ধরে ঘাটভিত্তিক মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থা, মামলার ধরন, আদালতের কার্যক্রম, ইজারা স্থগিত থাকার কারণ এবং সম্ভাব্য করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত ও বিশ্লেষণধর্মী তথ্য উপস্থাপন করেন বিআইডব্লিউটিএ’র বন্দর ও পরিবহন বিভাগের পরিচালক মোঃ সাইফুল ইসলাম।
উন্মুক্ত আলোচনায় সভায় উপস্থিত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বিজ্ঞ আইনজীবীবৃন্দ তাদের সুচিন্তিত মতামত তুলে ধরেন। সার্বিক পর্যালোচনার পর আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে ঝুলে থাকা মামলাগুলো নিষ্পত্তি এবং এর মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button