শিরোমণি শিল্পের কেডিএ’র আবাসিকের রাস্তার পাশে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ : দুর্ভোগে এলাকাবাসী

# সিসি ঢালাই দিয়ে উচ্চতা বৃদ্ধি করে ডাস্টবিন সংস্কার এবং গেট নির্মাণের দাবি
খানজাহান আলী থানা প্রতিনিধি ঃ শিরোমণি শিল্পের কেডিএ’র সোনালী- ক্যাবল সংলগ্ন আবাসিক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অপর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নির্দিষ্ট ডাস্টবিন থাকলেও তা নিয়মিত ময়লা পরিষ্কার না করায় এবং ডাস্টবিনের উচ্চতা কম হওয়ায় বর্জ্য ছড়িয়ে পড়ছে সড়ক ও আশপাশের এলাকায়। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, অন্যদিকে পথচারী ও এলাকাবাসীর চলাচলেও সৃষ্টি হচ্ছে ভোগান্তি। সম্প্রতি শিরোমণি শিল্প আবাসিক কেডিএ কল্যাণ কমিটির পক্ষ থেকে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের কাছে এ বিষয়ে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। আবেদনে এলাকার দুটি নির্দিষ্ট ডাস্টবিন সংস্কারসহ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। আবেদনপত্রে বলা হয়, শিরোমণি শিল্প আবাসিক কেডিএ মিরেরডাঙ্গা কেসি ২নং ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যায় ভুগছেন। রব স্বরণী রোডের পাশে ( কেবল শিল্পের পশ্চিমের গেটের পাশে) এলাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য দুটি নির্দিষ্ট ডাস্টবিন রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারের ফলে ডাস্টবিন দুটির অবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে। নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ না হওয়ায় ময়লা-আবর্জনা ডাস্টবিনের বাইরে ছড়িয়ে পড়ছে। সংযুক্ত ছবিতে দেখা যায়, সড়কের পাশে বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক, পলিথিন ও অন্যান্য বর্জ্য জমে রয়েছে। কোথাও কোথাও এসব বর্জ্য রাস্তার অংশ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় বর্জ্য ও ময়লা পানির সঙ্গে মিশে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ডাস্টবিনের চারপাশে ময়লা ছড়িয়ে পড়ায় পথচারীদের চলাচলেও চরম ভোগান্তি হচ্ছে। পাশাপাশি ডাস্টবিনের উপযুক্ত উচ্চতা না থাকায় গৃহস্থালি বর্জ্য বাইরে পড়ে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। সমস্যা সমাধানে আবেদনে ডাস্টবিনের উচ্চতা বৃদ্ধি, ডাস্টবিনের মেঝেতে শক্ত সিসি ঢালাই এবং নির্দিষ্ট স্থানে একটি মজবুত লোহার গেট নির্মাণের দাবি জানানো হয়েছে। লোহার গেট নির্মাণ করা হলে নির্দিষ্ট স্থানের বাইরে বর্জ্য ছড়িয়ে পড়া কমবে এবং পশুর প্রবেশও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন আবেদনকারীরা।
শিরোমণি শিল্প আবাসিক কেডিএ কল্যাণ কমিটির সভাপতি মো. রাসেল মাহমুদ এবং সাধারণ সম্পাদক মো. নাসির উদ্দিন মোল্লা স্বাক্ষরিত আবেদনে এলাকার সার্বিক স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, শুধু ডাস্টবিন সংস্কার নয়Ñনিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার ব্যবস্থা এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের মাধ্যমে এলাকাটিকে একটি পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর আবাসিক এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর উদ্যোগ নেবে।



