জনগণের আন্দোলন ও গণআকাক্সক্ষাকে ষড়যন্ত্র করে নস্যাৎ করা যাবে না : মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান

# থানা ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীদের নিয়ে প্রস্তুতি সভা #
খবর বিজ্ঞপ্তি ঃ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে গণজাগরণ সৃষ্টি করতেই ১১ দলীয় ঐক্যের এই লংমার্চ। কোনো ষড়যন্ত্র বা অপকৌশল চালিয়ে জনগণের অর্জিত সাফল্য ও বিপ্লবের আকাক্সক্ষাকে নস্যাৎ করা যাবে না। ফ্যাসিবাদের অপতৎপরতা রুখে দিতে সুসংগঠিত রাজপথের আন্দোলনই হবে একমাত্র কার্যকর জবাব। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) নগরীর শান্তিধাম মোড়ের তারেরপুকুরস্থ দলীয় কার্যালয়ে ৩১ অক্টোবর ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ বাস্তবায়ন উপলক্ষে খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর থানা আমীর ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীদের নিয়ে প্রস্তুতি সভায় সভাপতির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরী সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এমপি’র পরিচালনায় বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন খুলনা অঞ্চল জামায়াতের টিম সদস্য মাস্টার শফিকুল আলম, মহানগরী সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট শাহ আলম, মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য ও ২৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী এডভোকেট শফিকুল ইসলাম লিটন, খুলনা সদর থানা আমীর এস এম হাফিজুর রহমান, সোনাডাঙ্গা থানা আমীর জি এম শহিদুল ইসলাম, খালিশপুর থানা আমীর মুহা. আব্দুল্লাহ আল মামুন, দৌলতপুর থানা আমীর মুশাররফ আনসারী, আড়ংঘাটা থানা আমীর মাওলানা মোনাওয়ার আনসারী, ব্যবসায়ী থানা সেক্রেটারি ও ১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী এস এম আজিজুর রহমান স্বপন, ২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী মো. হুমায়ুন কবির মোল্লা, ৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী ডা. গোলাম কিবরিয়া, ৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী মো. মুশাররফ আনসারী, ৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী কাজী বায়েজিদ, ১২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী মাষ্টার শফিকুল আলম, ১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী মো. নাসিম মোল্লা, ১৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী আহসান উল্লাহ সিদ্দিকী, ১৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী মো. সাজ্জাদ হোসেন, ১৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী এডভোকেট এস. এম. মাসুদুর রহমান, ১৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী মশিউর রহমান রমজান, ১৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী এডভোকেট মনিরুল ইসলাম পান্না, ২০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী মো. মঞ্জুর কাদের, ২১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী মো. হাবিবুর রহমান, ২২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী আমানত আলী হাওলাদার, ২৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী এডভোকেট শফিকুল ইসলাম লিটন, ২৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী জাহিদুর রহমান নাঈম, ২৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী মনির হোসেন লিটন, ২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী মো. বেলাল জামান, ২৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ডালিম, ৩০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী মো. আলিমুল হক মিরাজ এবং ৩১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী মাহমুদুল হাসান জিকু, আড়ংঘাটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী অধ্যাপক মো. শহিদুল ইসলাম, ১ নং ওয়ার্ড মেম্বার প্রার্থী মুহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, ২ নং ওয়ার্ড মেম্বার প্রার্থী মুহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম, ৩ নং ওয়ার্ড মেম্বার প্রার্থী মুহাম্মদ কাজী রেজাউল হক, ৪ নং ওয়ার্ড মেম্বার প্রার্থী হোসেন আহমেদ, ৫ নং ওয়ার্ড মেম্বার প্রার্থী মুহাম্মদ রাজা, ৯ নং ওয়ার্ড মেম্বার প্রার্থী মুহাম্মদ মাসুদ রান, যোগীপোল ইইনয়নের ২ নং ওয়ার্ড মেম্বার প্রার্থী এনামুল কবির, ৪ নং ওয়ার্ড মেম্বার প্রার্থী মো. মনির হোসেন, ৬ নং ওয়ার্ড মেম্বার প্রার্থী শহীদুল্লাহ শাহীন, ৭ নং ওয়ার্ড মেম্বার প্রার্থী মাসুদ মোড়ল, ৮ নং ওয়ার্ড মেম্বার প্রার্থী মনির হোসেন, ও ৯ নং ওয়ার্ড মেম্বার প্রার্থী ইসমাইল হোসেন প্রমুখ।
মহানগরী আমীর মাহফুজুর রহমান আরও বলেন, পতিত ফ্যাসিবাদের অবশিষ্ট অনুচর ও সুবিধাবাদী চক্রান্তকারীরা নতুন করে সুসংগঠিত হয়ে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তারা চায় রাজনৈতিক স্থিরতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে এবং দেশের সর্বস্তরের মানুষের অর্জিত সাফল্যকে ধূলিসাৎ করে দিতে। কিন্তু আমি ঘোষণা করতে চাইÑএ দেশের জাগ্রত জনতা কোনো ষড়যন্ত্রের কাছে মাথা নত করবে না। ইতিহাস সাক্ষী, বুলেট আর জুলুম দিয়ে সাময়িকভাবে জনগণকে দমিয়ে রাখা গেলেও গণআকাক্সক্ষাকে কখনো চিরতরে স্তব্ধ করা যায় না। ষড়যন্ত্রকারীরা যত বড় কৌশলই আঁকুক না কেন, রাজপথের সুশৃঙ্খল আন্দোলনের মাধ্যমেই তাদের সব অপতৎপরতার যোগ্য জবাব দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, যেকোনো গণআন্দোলনের সাফল্য নির্ভর করে তৃণমূলের সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের ওপর। লংমার্চের মূল তাৎপর্য ও বার্তা খুলনা মহানগরীসহ এই অঞ্চলের প্রতিটি ওয়ার্ড, প্রতিটি পাড়া, মহল্লা এবং প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এখন আমাদের প্রধান কাজ। মানুষকে আমাদের বোঝাতে হবে যে, এই লংমার্চ কোনো দলীয় স্বার্থসিদ্ধির জন্য নয়; এটি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আন্দোলন।
তিনি আরও বলেন, যখন সাধারণ জনগণ বুঝতে পারবে যে এই সংগ্রাম তাদের নিজেদের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম, তখন তারা সমস্ত ভয়-ভীতি ও বাধা-প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমে আসবে। আর জনগণ যখন কোনো আন্দোলনের সঙ্গে একাত্ম হয়, তখন কোনো শক্তিই তাদের থামাতে পারে না।
মাঠপর্যায়ে খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর সুসংগঠিত অবস্থান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আপনাদের ভূমিকা অপরিসীম উল্লেখ করে মহানগরী আমীর মাহফুজুর রহমান বলেন, আজকের এই প্রস্তুতি সভাকে কেবল কতগুলো বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। সভা শেষ হওয়া মাত্রই আপনাদের স্ব-স্ব থানায় ও ওয়ার্ডে গণসংযোগ ও সুনির্দিষ্ট প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু করতে হবে। ওয়ার্ড পর্যায়ে মতবিনিময় সভা, ছোট ছোট বৈঠক এবং লংমার্চের লিফলেট প্রতিটি সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছে দিন। ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রতি আমার বিশেষ নির্দেশÑআপনারা প্রতিটি পরিবার ও প্রতিটি ভোটারের দোড়গোড়ায় যান। তাদের দুঃখ-কষ্টের কথা শুনুন এবং আমাদের রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও আন্দোলনের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করুন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলাই আমাদের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক বিজয়ের মূল চাবিকাঠি।
তিনি বলেন, আমাদের আন্দোলন সর্বদা সুশৃঙ্খল, নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ। উসকানি বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টাকে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও ধীরস্থির আচরণের মাধ্যমে ব্যর্থ করে দিতে হবে। দলের প্রতিটি স্তরের নেতাকর্মীকে পূর্ণ শৃঙ্খলা বজায় রেখে লংমার্চের প্রচার ও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম সফল করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। প্রচার কমিটি, অর্থ কমিটি এবং শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটিকে অত্যন্ত নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সাথে তাদের অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, খুলনাকে আন্দোলনের দুর্গ হিসেবে গড়ে তুলে আগামী ৩১ অক্টোবরের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চকে এক অভূতপূর্ব মহাসমুদ্রে পরিণত করতে হবে। খুলনা মহানগরী থেকে আমরা এমন বার্তা দিতে চাই, যা সারা দেশের মুক্তিকামী মানুষকে নতুন প্রেরণা যোগাবে ইনশাআল্লাহ।



