স্থানীয় সংবাদ

যশোরে হত্যা মামলায় একই পরিবারের চারজনের যাবজ্জীবন

যশোর ব্যুরো ঃ যশোরের মণিরামপুরে মুকুল হোসেন হত্যা মামলায় একই পরিবারের চারজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদ- দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদ- দেওয়া হয়েছে। এ মামলায় অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় অপর চার আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) যশোরের সিনিয়র দায়রা জজ আদালতের বিচারক মাহমুদা খাতুন এ রায় দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) অ্যাডভোকেট নূর আলম পান্নু। দ-প্রাপ্তরা হলেন মণিরামপুর উপজেলার শিরালি মদনপুর গ্রামের মুন্তাজ আলী, তার ছেলে টিপু এবং মৃত ইন্তাজ আলীর দুই ছেলে দিপু ও রাশেদ আলী। তারা সবাই কারাগারে আটক রয়েছেন। মামলার অভিযোগ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, মুকুল হোসেন মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে মণিরামপুর থানায় অস্ত্র ও মাদক আইনে আটটি মামলা ছিল। এ ছাড়া বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগও ছিল তার বিরুদ্ধে। এসব বিষয় নিয়ে শিরালি মদনপুর গ্রামের মুন্তাজ আলীর পরিবারের সঙ্গে মুকুলের বিরোধ সৃষ্টি হয়। সাইকেল চুরির একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেই বিরোধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। ২০২১ সালের ২৯ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১০টার দিকে কয়েকজন অস্ত্রধারী দুর্বৃত্ত শিরালি মদনপুর গ্রামের কবরস্থানের কাছে মুকুলকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে ফেলে রেখে যায়। পরে স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পরদিন নিহতের বাবা আমিন মোড়ল বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মণিরামপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার এজাহারে মুন্তাজ আলী ও তার ছেলে টিপুসহ মুন্তাজের চার ভাইপো দিপু হোসেন, রায়হান হোসেন, সাদেক আলী ও রাশেদ হোসেনের নাম উল্লেখ করা হয়। তদন্ত শেষে এ ঘটনায় আটজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা। তবে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় দুজনকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদনও করা হয় অভিযোগপত্রে। দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত মুন্তাজ আলী, তার ছেলে টিপু এবং দুই ভাইপো দিপু ও রাশেদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের প্রত্যেককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদ- ও ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও ছয় মাস করে কারাদ- ভোগ করতে হবে। অন্যদিকে, অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় মাজেদা খাতুন, সাদেক আলী, জাফর ও রায়হান ওরফে কাসেদকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button