ইরানে আঘাত হানার আগেই নানাভাবে ইসরাইল বিপর্যস্ত

# ১৩০ ইসরাইলি সেনার দায়িত্ব পালনে অস্বীকৃতি, হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, বেসামরিক ২জন সহ ১০ সেনা নিহত
# ইসরাইলের বহু ঘরবাড়ি, বিমান ও নৌ বন্দর ক্ষতিগ্রস্ত #
প্রবাহ রিপোর্ট ঃ গত ১ অক্টোবর দখলদার ইসরায়েলের সামরিক ও গোয়েন্দা নেটওয়ার্কগুলোর কেন্দ্রবিন্দুতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। তেল আবিবসহ ইসরায়েলের অন্যান্য শহরের সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইরান ১৮১টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। ক্ষেপণাস্ত্রগুলো বহুল আলোচিত ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আয়রন ডোমকে ফাঁকি দেয় এবং বেশিরভাগই সফলভাবে আঘাত হানে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে। এরপরে ইরানে ব্যাপক আকারে হামলার হুমকি দিয়ে আসছে তেলআবিব। কিন্তু ইরান পাল্টা হুমকি দিয়েছে তারা আক্রান্ত হলে কিছুক্ষণের মধ্যেই ইসরাইলের তেলক্ষেত্রসহ জরুরি ১০ স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালাবে ইরান। তারপর চড়ামূল্য দিতে হবে ইসরাইলকে। এত হুমকি পাল্টা হুমকির মধ্যে ইরানের সমর্থনপুষ্ট হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা তাদের দেশ লেবাননে ইসরাইলের বর্বরোচিত হামলার জবাবে মুহুর্মূহ ক্ষেপনাস্ত্র হামলা চালিয়েই যাচ্ছে। ইসরাইলের ১৩০ সেনা যারা ইসরাইলি সেনাবাহিনীর বিভিন্ন বিভাগ থেকে আসা। যেমন- বিমান বাহিনী, নৌবাহিনী, সাঁজোয়া বাহিনী এবং আর্টিলারি বাহিনী। তারা অবিলম্বে হামাসের সাথে চুক্তি করে যুদ্ধ বিরতি দিয়ে বন্দীদের মুক্ত না করা হলে আর তাদের দায়িত্ব পালন করবেনা মর্মে ইসরাইল সরকারকে চিঠি পাঠিয়েছে। এদিকে হিজবুল্লাহর কঠোর হামলায় ইসরাইল জুড়ে জনগণের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ইসরাইলী সেনারা লেবাননে স্থল অভিযান চালাতে গিয়ে হিজবুল্লাহর আক্রমনে বিভিন্ন সময়ে ২০জন সেনা নিহতসহ অর্ধশতাধিক আহত হয়ে লেবানন ছেড়ে পালিয়ে আসে। গতকাল কি কি হয়েছে এর বিস্তারিত বর্ননাগুলি তুলে ধরলাম ঃ হিজবুল্লাহর রকেট হামলায় ২ ইসরাইলি নিহত ঃ
উত্তর ইসরাইলের কিরিয়াত শমোনা শহরে চালানো হিজবুল্লাহর রকেট হামলায় দুই ইসরাইলি নিহত হয়েছেন। নিহতরা ছিলেন চল্লিশোর্ধ দম্পতি এবং বুধবার বিকালে তারা তাদের একটি কুকুর নিয়ে হাঁটতে বের হয়েছিলেন। ইসরাইলের অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা মাগেন ডেভিড অ্যাডম (এমডিএ) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ইসরাইলি সামরিক সূত্র জানিয়েছে, হিজবুল্লাহ কিরিয়াত শমোনা শহরের দিকে প্রায় ২০টি রকেট নিক্ষেপ করেছে। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা একটি ‘শত্রু বাহিনীর সমাবেশ’কে লক্ষ্য করে এ হামলা চালিয়েছে। ইসরাইলি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস মাগেন ডেভিড অ্যাডম (এমডিএ) জানিয়েছে, হামলার পর ঘটনাস্থলে জরুরি সেবা কর্মীরা পৌঁছান এবং আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। এদিকে রকেট হামলার ফলে শহরটির বিভিন্ন স্থানে আগুন ধরে যায়। ফায়ার এবং রেসকিউ সার্ভিস জানিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে তাদের পাঁচটি দমকল দলের কাজ করছে। বিভিন্ন ভবনে আগুন লাগার কারণে পরিস্থিতি বেশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হামলার সময় শহরটির বেশিরভাগই খালি করা ছিল, তারপরেও কিছু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এতে শহরের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং তারা নিরাপত্তার কারণে ঘরে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে নিরাপত্তা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন। সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল
ইসরাইলি বন্দর নগরীতে হিজবুল্লাহর শতাধিক রকেট নিক্ষেপ ঃ
ইসরাইলের বন্দর নগরী হাইফার ওপর সবচেয়ে বড় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহ। মঙ্গল ও বুধবার সকালের এ হামলায় লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠীটি শতাধিক রকেট নিক্ষেপ করেছে বলে দাবি করেছে ইসরাইলি মিডিয়া। বুধবার ইসরাইলের স্থানীয় মিডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বন্দর শহর হাইফাতে ১০০টিরও বেশি রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছে।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর মতে, এদিন লেবাননের দিক থেকে হাইফার দিকে আরও ২০টি রকেট ছোঁড়া হয়। যার ফলে প্রায় আধ ঘণ্টার মধ্যে মোট রকেটের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে যায়। টাইমস অফ ইসরাইল সূত্রে জানা যায়, এর মধ্যে কিছু রকেট ইসরাইলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা প্রতিহত করা হয়। তবে বেশ কিছু রকেট হাইফা বন্দরে সরাসরি আঘাত হেনেছে। এ হামলায় বেশ কয়েকটি বাড়ি ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী। এদিকে বুধবার সকালে দক্ষিণ হাইফায় কয়েকটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। হাইফার দক্ষিণে অবস্থিত আল-কারমেল অঞ্চলে এই বিস্ফোরণগুলো ঘটে বলে ইসরাইলি মিডিয়ার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও হাইফা থেকে ক্যাসারিয়া পর্যন্ত অধিকৃত ফিলিস্তিনের বিভিন্ন স্থানে সতর্ক সাইরেন বাজানো হয়েছে। টাইমস অফ ইসরাইলের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, অন্তত ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র পশ্চিম গালিলি অঞ্চলে আঘাত হেনেছে। এই বিস্ফোরণ এবং হামলার পরিপ্রেক্ষিতে অঞ্চলজুড়ে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে এবং হাইফার আশেপাশের এলাকাগুলোতে সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সূত্র: মেহের নিউজ এজেন্সি।
১৩০ ইসরাইলি সেনার দায়িত্ব পালনে অস্বীকৃতি ঃ কী কারণে?
একটি শর্ত দিয়ে ইসরাইলি সেনাবাহিনীতে নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন দেশটির প্রায় ১৩০ জন সৈন্য। এক চিঠিতে তারা সতর্ক করেছেন যে, ইসরাইলি সরকার যদি গাজায় হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি করতে ব্যর্থ হয় এবং বন্দি বিনিময়র ব্যবস্থা না করে, তাহলে তারা আর সেনাবাহিনীতে তাদের দায়িত্ব পালন করবেন না। বুধবার এই চিঠি ইসরাইলের হারেৎজ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়ছে। ওই চিঠির বরাত দিয়ে হিব্রু ভাষার এই সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, দায়িত্ব পালনে অস্বীকৃতি জানানো এই সৈন্যরা ইসরাইলি সেনাবাহিনীর বিভিন্ন বিভাগ থেকে আসা। যেমন- বিমান বাহিনী, নৌবাহিনী, সাঁজোয়া বাহিনী এবং আর্টিলারি বাহিনী। তারা তাদের চিঠিতে মন্ত্রিসভার সদস্যদের এবং সেনাবাহিনীর প্রধানের প্রতি এ বার্তা দিয়ছেন। চিঠিতে তারা উল্লেখ করেছেন, গাজায় চলমান যুদ্ধ বন্দিদের জীবনকে আরও বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। যাদের অনেকেই ইতোমধ্যেই ইসরাইলি বিমান হামলায় বা উদ্ধার অভিযানের সময় নিহত হয়ছেন। চিঠিতে তারা লিখেছেন, ‘আমরা যারা আমাদের জীবনের ঝুঁকি নিয় দায়িত্ব পালন করছি বা করেছি, তারা ঘোষণা করছি যে, যদি সরকার বন্দিদের বাড়ি ফেরাতে চুক্তির পথে না হাঁটে, তবে আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখতে পারব না’। তারা আরও উল্লেখ করেছেন, ’আমাদের অনেকের জন্য ইতোমধ্যেই সীমা অতিক্রান্ত হয়ছে; অন্যদের জন্যও সেই দিনটি আসছে, যখন আমরা হৃদয়ভাঙা হয় আর দায়িত্ব পালন করতে পারব না’। সূত্র: মিডল ইস্ট আই।



