জাতীয় সংবাদ

অবশেষে প্রত্যাহার হলো এনবিআর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শাটডাউন কর্মসূচি

# এনবিআরএর ৬ শীর্ষ কর্মকর্তার দুর্নীতির অনুসন্ধানে দুদক

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ‘শাটডাউনসহ’ সব কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছে আন্দোলনরত এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ। রোববার রাতে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাকক্ষে দেশের শীর্ষ স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ তথ্য জানিয়েছেন এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের সভাপতি হাছান মুহম্মদ তারেক রিকাবদার।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে দ্বিতীয় দিনের মতো রোববারও চলে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ও ‘মার্চ টু এনবিআর কর্মসূচি’। হাছান মুহম্মদ তারেক রিকাবদার বলেন, এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ডাকে গত কয়েকদিনের কর্মসূচি এবং গতকাল ও আজ অর্থাৎ ২৮ এবং ২৯ জুন যে কমপ্লিট শাটডাউন চলছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে আমদানি-রপ্তানি তথা দেশের অর্থনীতির যে অচল অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে, তা নিরসনে দেশের ব্যবসায়ী নেতাদের উদ্যোগ এবং আলোচনাকে আমরা স্বাগত জানাই।
তিনি আরও বলেন, অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে ব্যবসায়ী নেতাদের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে কিছু বিষয়ে ইতিবাচক প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। অন্যদিকে সরকার রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কারে যে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট উপদেষ্টা কমিটি গঠন করেছে তাকে ঐক্য পরিষদ স্বাগত জানায়।
তিনি বলেন, আমরা এ কমিটির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করে টেকসই রাজস্ব সংস্কার করতে অবদান রাখতে পারব বলে আশা করি। এমতাবস্থায় দেশের শীর্ষ স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতাদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এবং দেশের আমদানি-রপ্তানি ও সাপ্লাই চেইন সচল রাখা তথা অর্থনীতির বৃহত্তর স্বার্থে এবং জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ তাদের কমপ্লিট শাটডাউন প্রত্যাহার করেছে। তবে একটি পূর্ণাঙ্গ এবং টেকসই রাজস্ব ব্যবস্থা সংস্কারে আমাদের উদ্যোগ ও কার্যক্রম যথারীতি অব্যাহত থাকবে।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে দ্বিতীয় দিনের মতো গতকাল রোববারও চলে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ও ‘মার্চ টু এনবিআর কর্মসূচি’।
রাজস্ব বোর্ডের সংস্কার রোধ ও চেয়ারম্যানের অপসারণের দাবিতে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ব্যানারে আন্দোলনকারীরা আগারগাঁওয়ের প্রধান কার্যালয়ের বাইরে অবস্থান নেন তারা। এতে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে রাজস্ব আহরণ কার্যক্রম।
অপরদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ছয় শীর্ষ কর্মকর্তার দুর্নীতির অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক)। রবিবার (২৯ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন দুদকের উপ-পরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম।
আকতারুল ইসলাম জানান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কিছু অসাধু সদস্য ও কর্মকর্তারা মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে কর দাতাদের কর ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালিক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তারা নিজেরা লাভবান হওয়ার জন্য নির্ধারিত পরিমাণ কর আদায় না করে তাদের করের পরিমাণ কমিয়ে দিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে দুদকের কাছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button