জাতীয় সংবাদ

১১ মাস পর লাশ ফেরাতে দিশেহারা পরিবার

# বিএসএফের নির্যাতনে মৃত্যু #

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ সীমান্তে ঘাস কাটতে গিয়ে বিএসএফের হাতে আটক হওয়ার ১১ মাস পর ভারতের হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে বাংলাদেশি দিনমজুর আজিজুর রহমানের (৪৫)। গত ২২ মার্চ ভারতের ইসলামপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তবে মৃত্যুর ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও আইনি জটিলতা ও অর্থের অভাবে লাশ ফিরে পায়নি পরিবার। নিহত আজিজুর রহমান ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার শাহানাবাদ গ্রামের বাসিন্দা। তার দুই মেয়ে ও এক মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলে রয়েছে। পারিবারিক ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৩ মে শাহানাবাদ সীমান্তের ৩৭৩/১-এস পিলারের কাছে ঘাস কাটতে গেলে আজিজুরকে ধরে নিয়ে যায় ১৮৪ আমবাড়ী ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা। নিহতের স্ত্রী তাছকারা বেগমের অভিযোগ, আটকের পর আজিজুরের ওপর পৈশাচিক নির্যাতন চালায় বিএসএফ। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় দীর্ঘ ১১ মাস ভারতের কারাগার ও হাসপাতালে কাটানোর পর গত সপ্তাহে তার মৃত্যু হয়। আজিজুরের পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র। বসতভিটা ছাড়া তাদের কোনো সহায়-সম্বল নেই। সোমবার স্থানীয় ডিএসবি থেকে পরিবারকে জানানো হয়, ভারত থেকে লাশ আনতে প্রায় এক লাখ টাকা খরচ হতে পারে। এই বিপুল অংকের টাকা জোগাড় করা নিঃস্ব বিধবা স্ত্রীর পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাছকারা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার স্বামীকে বিএসএফ পিটিয়ে মেরেছে। এখন লাশ আনতেও টাকা চাইছে। সরকারিভাবে লাশটি বিনা খরচে দেশে আনার ব্যবস্থা করার জন্য আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুতি জানাচ্ছি। ঠাকুরগাঁও ৫০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানজির আহমেদ জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করে লাশ দ্রুত ও নিয়মমাফিক ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। নিহত আজিজুরের লাশ শেষবারের মতো দেখার জন্য এবং নিজ দেশে দাফন করার সুযোগ পেতে রাষ্ট্র ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে শোকাতুর পরিবারটি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button