জাতীয় সংবাদ

ফজলুর রহমানের বক্তব্যে উত্তপ্ত সংসদ

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কেউ জামায়াতে ইসলামী করতে পারে না বলে সংসদে বলেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান। মঙ্গলবার বিকালে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবে তিনি এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদের সভাপতিত্ব করছেন। ফজলুর রহমানের এমন বক্তব্যে সংসদে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সংসদে বিরোধীদলীয় সদস্যরা হট্টগোল শুরু করেন। পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবিক্রম) সংসদ সদস্যদের শান্ত করেন। হট্টগোল চলাকালে ফজলুর রহমান বলেন, ‘আমি আবারও বলছি, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কেউ জামায়াত করতে পারে না। শহীদ পরিবারের কেউ জামায়াত করতে পারে না। যদি কেউ করে থাকে তাহলে তিনি দ্বিগুণ অপরাধ করছেন।’ ফজলুর রহমান বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে যখন এক মাসের গণঅভ্যুত্থানকে তুলনা করা হয়, তখন মুক্তিযুদ্ধকে ছোট করা হয়। আমি মনে মনে ভাবি, হয়তোবা আমি মরে গেলেই ভালো হতো। তিনি বিরোধী দলীয় নেতারও সমালোচনা করেন। বলেন, জামায়াত আমির আমার চেয়ে ১০ বছরের ছোট। তিনি নাকি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান। তিনি নাকি শহীদ পরিবারের সন্তান।এরপরই উত্তপ্ত হয়ে উঠে সংসদ। ফজলুর রহমানের বক্তব্যের পর বিরোধী দলীয় নেতা ফ্লোর নিয়ে ফজলুর রহমানের জবাব দেন। তিনি ফজলুর রহমানের অসংসদীয় বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার অনুরোধ স্পীকারকে করেন। জাতীয় সংসদ অধিবেশনে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তার বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা ও ব্যক্তিগত মন্তব্যের পরপরই পাল্টা জবাব দেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, ফজলুর রহমান মুক্তিযুদ্ধে নিজের অবদান তুলে ধরতে গিয়ে অন্যের অবদানকে “হাতুড়িপেটা” করেছেন। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে এই উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের ঘটনা ঘটে। অধিবেশন চলাকালে দুই পক্ষের বক্তব্য ঘিরে সংসদ কক্ষে হট্টগোল শুরু হয় এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে স্পিকারকে একাধিকবার হস্তক্ষেপ করতে হয়। বিতর্কের সূত্রপাত হয় ফজলুর রহমানের বক্তব্য থেকে, যেখানে তিনি মুক্তিযুদ্ধ এবং জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে কড়া মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কেউ জামায়াতে ইসলামী করতে পারে না। কেউ করলে সেটি দ্বিগুণ অপরাধ।” তার এই মন্তব্যের পর সংসদে বিরোধী সদস্যদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এর জবাবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ফজলুর রহমান সম্মানিত ব্যক্তি হলেও অন্যকে অসম্মান করার অধিকার কারও নেই। তিনি বলেন, “তিনি নিজের অবদান বলতে গিয়ে অন্যের অবদানের ওপর হাতুড়িপেটা করেছেন। এ ধরনের আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়।” তিনি আরও বলেন, নিজের রাজনৈতিক পরিচয় বা আদর্শ বেছে নেওয়া সম্পূর্ণ নাগরিক অধিকার। শফিকুর রহমান বলেন, “আমি শহীদ পরিবারের সন্তান, আমি কোন দল করব বা কোন আদর্শ অনুসরণ করব, সেটি আমার সাংবিধানিক অধিকার। এর জন্য কারও অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন নেই।” ডা. শফিকুর রহমান সংসদে আরও দাবি করেন যে, তার পরিচয় ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, যা তিনি গুরুতর হিসেবে দেখছেন। তিনি স্পিকারের উদ্দেশে বলেন, বিতর্কিত বক্তব্যের অংশ বিশেষ রেকর্ড থেকে বাদ দেওয়ার অনুরোধও জানান। সংসদে উভয় পক্ষের তীব্র বক্তব্য বিনিময়ের সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সদস্যদের শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি সংসদীয় নিয়ম মেনে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন এবং জনসমক্ষে সংসদের ভাবমূর্তি রক্ষার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেন। এর আগে ফজলুর রহমান তার বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, যুদ্ধাপরাধীদের ভূমিকা এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রসঙ্গ তুলে ধরে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন। এতে সংসদ কক্ষে মুহূর্তেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সংসদে এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে এ ধরনের প্রকাশ্য বিতর্ক আবারও উত্তপ্ত করেছে জাতীয় রাজনীতির ময়দান।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button