কারও ছোট ভাই হিসেবে সংসদে আসিনি, দুর্নীতির প্রমাণ দিন: নাহিদ ইসলাম

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের প্রমাণ জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। একইসঙ্গে তিনি বলেছেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে তিনি সংসদে এসেছেন, কারও ‘ছোট ভাই’ হিসেবে নয়। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে একই অধিবেশনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ তার বক্তব্যে অন্তর্বর্তী সরকারের তরুণ উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন এবং নাহিদ ইসলামসহ তরুণ সংসদ সদস্যদের ‘ছোট ভাই’ বলে সম্বোধন করেন। এরই কড়া জবাব দেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ। দুর্নীতির অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে নাহিদ ইসলাম স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, বক্তব্যে বলা হলো অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দুর্নীতির অভিযোগ। এই অন্তর্বর্তী সরকারে আমি ছিলাম, কিছু সময়ের জন্য উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলাম। আরও দুই-একজন ছিলেন, আমাদের বর্তমান মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীও ছিলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলেন। আমি তো নির্বাচনের বহু আগেই পদত্যাগ করে চলে এসেছি। এখন দুর্নীতির অভিযোগ যেহেতু উনি তুললেন, ওনারাই সরকারে আছেন, ওনাদেরকেই এটা প্রমাণ করতে হবে। সরকারের কাছে প্রমাণের দাবি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, এটার প্রমাণ জাতীয় সংসদে দিতে বলেছি, ওনাদেরকে এই প্রমাণ দিতে হবে। নাহিদ ইসলামের নামে কী দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, নাহিদ ইসলাম কোথায় দুর্নীতি করেছেন-মাননীয় স্পিকার, আমি সেই প্রমাণ ওনাদের কাছে চাচ্ছি। সংসদ সদস্যদের মর্যাদা ও অধিকারের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে ২৮ বছর বয়সী এই তরুণ রাজনীতিক বলেন, এখানে সবাই জনগণের ভোটেই নির্বাচিত হয়ে এসেছেন। সবাই নির্বাচিত প্রতিনিধি। হ্যাঁ, আমার বয়স ২৮, আজকে আমার জন্মদিন। এ সময় সংসদে উপস্থিত সদস্যরা টেবিল চাপড়ে তাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান। এরপর নাহিদ ইসলাম বলেন, আমি নবীন সদস্য। কিন্তু মাননীয় স্পিকার, আমিও জনগণের ভোটেই নির্বাচিত হয়ে এসেছি। কারও ছোট ভাই হিসেবে আমি এখানে আসিনি। ফলে সংসদ সদস্য হিসেবে সবাই যে সম্মান-মর্যাদা প্রত্যাশা করে, সবাই যেটা পায়, আমরাও কিন্তু সেই একই জিনিস প্রত্যাশা করি।



