জাতীয় সংবাদ

এটি দলীয় কর্মীদের ভাগ্য পরিবর্তনের লুটপাটের বাজেট : গোলাম পরওয়ার

প্রবাহ রিপোর্ট : জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, প্রশাসন থেকে কর কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, পাবলিক সার্ভিস কমিশন, জুডিশিয়ারি কমিশন এসব থেকে দুর্নীতি না কমালে যে বাজেট হবে, সে বাজেটের টাকা দলীয় কর্মীরা ভাগযোগ করে খাবে। দুর্নীতির কোনো হিসাব হবে না। এজন্য আমরা বলেছি- জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে এ বাজেট জনগণের আশা পূরণ করবে না। এটা হয়েছে দলীয় কর্মীদের ভাগ্য পরিবর্তনের লুটপাটের বাজেট।
শনিবার (১৩ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে ভোলা শহরের ওয়েস্টার্নপাড়ায় জামায়াতে ইসলামীর জেলা ট্রাস্ট কার্যালয়ে ‘ন্যায় ও ইনসাফ ভিক্তিক সমাজ কায়েমই আমাদের উদ্দেশ্যে উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্যদের শিক্ষাশিবির’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে দুটো সংকট তৈরি হয়েছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন যে সরকার গঠিত হয়েছে, একবারে জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিপক্ষে সোজা অবস্থান নিয়েছে। এ সংকটের জন্য তারাই দায়ী। এ সংকট তাদেরকেই নিরসন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হলো। জুলাই সনদের ভিত্তিতে ২০২৫ সালে যে প্রেসিডেন্সিয়াল অর্ডার হল- একটা সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে ৮৪টি ঐক্যমতের ভিত্তিকে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রস্তাবে সবদল একমত হল। তার ভিত্তিতে গণভোটের ৪টি প্রশ্নের সমন্বয়ে যে গণভোট অনুষ্ঠিত হল এবং তার পক্ষে ৭০ ভাগ লোক হ্যাঁ ভোট দিয়ে রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে তারা মতামত দিলো, বিএনপিও সেই হ্যাঁ ভোটের পক্ষেই ছিল। কিন্তু নির্বাচনের পরে দুঃখজনকভাবে দেখা গেলো বিএনপি সরকার এবং সংসদ গঠনের পরে তারা বললেন, এই গণভোট, সংবিধান সংস্কার পরিষদ- এগুলো বেআইনি, এগুলো সংবিধানে নেই।
গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, আশ্চর্যের ব্যাপার- অক্টোবর মাসের ১৭ তারিখে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সব দল স্বাক্ষর করেছে। বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার পরই ১৮০ ডিগ্রি ইউটার্ন নিয়ে বলছে, এগুলো বেআইনি, আমরা জানি না। এতে বোঝা গেল তাদের অন্তরে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণের কোনো ইচ্ছা ছিল না। ক্ষমতায় বসে জাতির উপরে আবার ফ্যাসিবাদের মতো শাসনের ইচ্ছাই তারা লুকিয়ে রেখেছিলেন। যার কারণেই তারা গণভোটের রায়কে অস্বীকার করছেন। ফলে রাজনীতির সেই সংকট রয়েই গেল।
তিনি বলেন, আমরা সরকারকে আশ্বস্ত করতে চাই, শুধু বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা, বিরোধী দলকে দমন করে খাটো করে আপনি বিদেশি প্রভুদের ইঙ্গিতে গ্যাস, জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বাড়ালেন। কী করে আপনি ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ আর জ্বালানি দাম বাড়ালেন।
এছাড়া ভোলার সার্বিক উন্নয়নে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সংসদে জোড়ালো দাবিরও আহ্বান জানান জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া মো.গোলাম পরওয়ার
এসময় কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল অঞ্চলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াজ্জম হোসাইন হেলাল, কেন্দ্রীয় মজলিশের শূরা সদস্য একে এম ফখরুদ্দিন খাঁন রাজী। এছাড়া কর্মশালার সভাপতিত্ব করেন ভোলা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাস্টার মুহাম্মদ জাকির হোসেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button