জাতীয় সংবাদ

দু’ প্রতিবেশীকে শক্ত জবাব, সীমান্তে প্রথমবার বেড়া দিচ্ছে বাংলাদেশ

প্রবাহ রিপোর্টঃ ভারতের ক্রমাগত পুশইন আর মিয়ানমারের নানামুখী সন্ত্রাসী তৎপরতার মাঝে প্রথমবারের মতো সীমান্তে বেড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। সরকারের এমন সিদ্ধান্তকে ঐতিহাসিক ও সময়োপযোগী বলছেন সাবেক কূটনীতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। বলেন, দুই প্রতিবেশীর চোখ রাঙানির শক্ত জবাব হবে বেড়া নির্মাণ। সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবির সক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন বলেও মত দেন বিশেষজ্ঞরা।ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশের তিন পাশে ভারত, এক অংশে মিয়ানমার। স্বাধীনতার পর থেকেই বিভিন্ন ইস্যুতে সীমান্তে দেখা দেয় উত্তেজনা। তবে পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার আসার পর থেকেই সীমান্ত উত্তেজনার পারদ যেন নামছেই না; প্রতিদিনই চলছে পুশইনের চেষ্টা।অন্যদিকে মিয়ানমার লিপ্ত মাদক আর মানব পাচারসহ সন্ত্রাসী কর্মকা-ে। সব মিলিয়ে সীমান্তে দুই প্রতিবেশীর একের পর এক বিতর্কিত কর্মকা-ে বিব্রত বাংলাদেশ। প্রতিবেশীদের এমন বিরূপ আচরণে ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ এবার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশের সাথে নিজেদের ৯৩ শতাংশ সীমান্ত কাঁটাতারে সুরক্ষিত করেছে ভারত। তবে স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও নিজেদের সীমানায় বাংলাদেশ কোনো কাঁটাতারের বেড়া দেয়নি।তাই সীমান্ত সুরক্ষায় সরকারের সিদ্ধান্তকে যুগান্তকারী বলছেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক ড. নাসির উদ্দিন আহমেদ। তিনি আরও বলেন, ‘মিয়ানমারের সাথে করাটা অত্যন্ত যৌক্তিক। কারণ আমরা জানি মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে একদিকে রিফিউজি আসছে, আরেকদিকে মাদক আসছে, অবৈধ অস্ত্র আসছে এবং ওইদিক থেকে আমাদের সীমানায় এসে তারা মাইন পুঁতে যাচ্ছে আরাকান আর্মি। সেটা প্রতিরক্ষার জন্য যদি সেখানে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হয়, এটাকে ওয়েলকাম জানাতে হবে অবশ্যই।’সীমান্ত নিরাপত্তায় কাঁটাতারের বেড়াকেই একমাত্র সমাধান মনে করেন না সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহবুব হাসান সালেহ তিনি আরও বলেন, ‘শুধু কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করে এই যে সমস্যাগুলো, যেগুলোর কথা আমরা আলোচনা করছি, এই সমস্যাগুলোর সম্পূর্ণ সমাধান সম্ভব হবে না। এটাকে একটু স্ট্র্যাটেজিক্যালি দেখতে হবে আমাদের।’সীমান্তে দুর্গম অঞ্চলের সুরক্ষায় বিজিবির শক্ত অবস্থান এবং প্রযুক্তির ব্যবহার প্রয়োজন বলেও মত দেন তারা।অবসরপ্রাপ্ত মেজর ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক ড. নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, যদি না আমি ঘোষণা দিলাম, একটু আই ওয়াশ করলাম, কিছু কাঁটাতারের বেড়া তৈরি করলাম, অন্যদিকে ভারত কেন কাঁটাতারের বেড়া এভাবে করছে এটা নিয়ে যে একটা পাবলিক সেন্টিমেন্ট তৈরি হয়েছে সেটাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা যদি হয়, তাহলে সেটা হবে দুঃখজনক।সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহবুব হাসান সালেহ বলেন,অবৈধ চোরাচালানের জন্য বাংলাদেশে আসার ব্যাপারে যে পাহাড়ি অঞ্চলগুলো আছে সেগুলো ব্যবহার করা হয়, নাফ নদী ব্যবহার করা হয়। পাহাড়ি অঞ্চলে আমরা কাঁটাতারের বেড়া যদি নির্মাণ করতে পারি, তাহলে কিন্তু এটা কমে আসবে এবং কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের আগে সেই সেই সীমান্ত বরাবর সড়ক তৈরি করা হয়। সড়ক তৈরি করা হলে সেই সড়কে বিজিবির মুভমেন্ট কিন্তু স্মুথ হবে। মিয়ানমার সীমান্তে কত কিলোমিটার এলাকায় বেড়া নির্মাণ হবে এবং ভারত সীমান্তের কোন কোন অংশকে স্পর্শকাতর ধরা হচ্ছে, সরকারকে এসব বিষয়ে স্পষ্ট করা প্রয়োজন বলেও মত দেন বিশেষজ্ঞরা।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button