খেলাধুলা

খুলে যাচ্ছে নেইমারের বিশ্বকাপ সম্ভাবনার দুয়ার

প্রবাহ স্পোর্টস ডেস্ক ঃ শেষ আড়াই বছর ধরে ব্রাজিল জাতীয় দলের ধারেকাছেও নেই নেইমার। টানা চোট তার পথ আগলে রেখেছিল। যার ফলে আসছে বিশ্বকাপেও নেইমারের খেলার সম্ভাবনা একেবারেই কম মনে হচ্ছিল। তবে হুট করেই বিশ্বকাপে তার খেলার সম্ভাবনা বেড়ে গেছে, জানিয়েছে দ্য অ্যাথলেটিক। চোট যেমন নেইমারের পথ আগলে দাঁড়িয়েছে, ব্রাজিলও দল হিসেবে কম ভুগছে না। রদ্রিগো গোয়েজের চোট তাকে ছিটকে দিয়েছে আগেই। এরপর দিনকয়েক আগে ব্রাজিলের ‘ছোট মেসি’ খ্যাত চেলসির উইঙ্গার এস্তেভাও উইলিয়ানও হ্যামস্ট্রিংয়ে গুরুতর চোট পেয়েছেন। ১৮ বছর বয়সী এই তারকা গত এক বছর ডান পাশে আলো ছড়াচ্ছিলেন ব্রাজিলের আক্রমণে। আনচেলত্তির অধীনে তিনি পাঁচটি গোল করেছেন, যা অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে বেশি। এস্তেভাও না থাকলে আনচেলত্তিকে দল সাজানোর পথ নতুন করে ভাবতে হবে। রাফিনিয়া ডানে যেতে পারেন, ভিনিসিউস জুনিয়র বাঁয়ে খেলতে পারেন এবং জোয়াও পেদ্রো সেন্টার ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলতে পারেন। অথবা ২৫ বছর বয়সী জেনিট উইঙ্গার লুইজ হেনরিকে, যিনি ১৩টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে বারবার ভালো খেলেছেন, তাকেও বিবেচনা করা হতে পারে। বোর্নমাউথের রায়ানও সরাসরি বিকল্প হিসেবে আলোচনায় আছেন। আর এই পরিস্থিতিতে আবারও আলোচনায় এসেছে নেইমারের নাম। বয়স, চোট আর অসামঞ্জস্যপূর্ণ পারফরম্যান্স সত্ত্বেও তার বিশ্বকাপে ফেরার দাবি উঠছে। এপ্রিলের শুরুতে করা দুটি জরিপে ৪৭ থেকে ৫৩ শতাংশ ব্রাজিলিয়ান নেইমারকে জাতীয় দলে দেখতে চান বলে জানিয়েছেন। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে সমর্থকরা তার নাম ধরে স্লোগান দিয়েছেন। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভাও আনচেলত্তির সঙ্গে বৈঠকে নেইমারের প্রসঙ্গ তুলেছেন বলে জানা গেছে। আর্সেনাল স্ট্রাইকার গ্যাব্রিয়েল জেসুস দ্য অ্যাথলেটিককে বলেন, ‘নেইমার নিঃসন্দেহে কৌশলগতভাবে আমাদের সেরা খেলোয়াড়। সে এমন ধরনের খেলোয়াড় যে এক মিনিটে ম্যাচ জিতিয়ে দিতে পারে।’ তবে সাবেক ব্রাজিল অধিনায়ক কাফু বলেন, ‘আমরা সে কী করতে পারে তা জানি, কিন্তু তার ধারাবাহিক কয়েকটি ম্যাচ খেলা দরকার।’ কিংবদন্তি জিকো বলেন, ‘নেইমারকে আমি যেমন ভালোবাসি, তেমন খুব কম লোকই ভালোবাসতে পারে, কিন্তু সে এখনো সেই ধারাবাহিকতা খুঁজে পায়নি। কোচই সিদ্ধান্ত নেবেন নেইমার ৭০ বা ৫০ শতাংশ ফিটনেসে জাতীয় দলকে সাহায্য করতে পারবে কিনা।’ আনচেলত্তি একটাই কথা বারবার বলছেন। তিনি ফরাসি পত্রিকা লে’কিপকে বলেন, ‘এটা খুব পরিষ্কার: আমি শারীরিকভাবে প্রস্তুত খেলোয়াড়দের বেছে নেব।’ নেইমার সম্প্রতি ১১ দিনে চারটি ম্যাচ পুরো ৯০ মিনিট খেলেছেন। ১৮ মে আনচেলত্তি বিশ্বকাপ দল ঘোষণার আগে নেইমার সর্বোচ্চ আরও ছয়টি ক্লাব ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবেন। এস্তেভাওর চোট না হলে নেইমারের দরজা প্রায় বন্ধই হয়ে যেত। এখন সেই দরজা সামান্য খোলা আছে। সেটা পুরো খুলতে পারবেন কিনা, সেটা শুধু নেইমারের নিজের উপরেই নির্ভর করছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button