এক মাসেই সড়কে ঝরলো ৮০১ প্রাণ!

আমরা দৈনন্দিন জীবন চলার পথে অনেক রকমের দুর্ঘটনার সম্মুখীন হই। দুর্ঘটনা এমনি একটি ঘটনা যা ঘটে অনাকাঙ্ক্ষিত এবং অপ্রত্যাশিত ভাবে। এই দুর্ঘটনা কেড়ে নিচ্ছে মানুষের সর্বস্ব। কেউ জীবন হারান আবার কেউ কেউ আহত হন সারা জীবনের জন্য। এমন মর্মান্তিক ঘটনাগুলোর জন্য আসলে কেউই প্রস্তুত থাকে না। হঠাৎ জীবনে নেমে আসে কালো ছায়া। যা সারা জীবনের কান্না হয়ে দাঁড়ায়। এমন অপ্রত্যাশিত ঘটনাগুলোর অধিকাংশই সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটে থাকে। সম্প্রতি বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির একটি প্রতিবেদনে জানা যায়, গত জুন মাসে সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ৮০১ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৩ হাজার ২৬৭ জন। এই সময় রেলপথে ৪৬ দুর্ঘটনায় ৪২ জন নিহত, ৯ জন আহত হয়েছেন। নৌ পথে ৯টি দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত, ৭ জন আহত এবং ৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জুনে দেশের গণমাধ্যম ও পঙ্গু হাসপাতালের তথ্যমতে সড়ক, রেল ও নৌ-পথে সর্বমোট ৬১২ টি দুর্ঘটনায় ৮৫৫ জন নিহত এবং ৩ হাজার ২৮৩ জন আহত হয়েছেন। এই সময়ে ২১৭ টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২২২ জন নিহত, ১ হাজার ৯৩ জন আহত হয়েছেন। যা মোট দুর্ঘটনার ৩৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ, নিহতের ৩৮ দশমিক ১ শতাংশ ও আহতের ৩৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ। সড়ক দুর্ঘটনা গুলোর মধ্যে ২৭ দশমিক ২৬ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২২ দশমিক ৭৯ শতাংশ ট্রাক-পিকাপ-কাভার্ডভ্যান ও লরি, ১৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ বাস, ১৫ দশমিক ২৭ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ৫ দশমিক ৮৭ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা সড়কে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। প্রতিদিন আমরা পত্রিকার পাতায় এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনাগুলোর খবর পায় অথচ এই বিষয়ে কোনো কাঙ্ক্ষিত ফলাফল আমরা দেখতে পায় না। প্রতিবছর এভাবে সড়কে ঝরছে অকাল মৃত্যু। তবে কি এভাবেই দুর্ঘটনাকে নিয়ে আমাদের বেঁচে থাকতে হবে? এর কী সমাধান আমরা পাবো না? প্রশ্নটা সরকারের কাছে সাধারণ মানুষের। সড়কে প্রতিনিয়ত এভাবে প্রাণ ঝরতে থাকলে একসময় দেশ মেধাশূণ্যতায়ও ভুগবে। আমরা সড়কে এমন অপ্রত্যাশিত মৃত্যু থেকে পরিত্রাণ চাই। সড়কে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সরকারের উদ্যোগের বিকল্প নেই। তাই দুর্ঘটনা এড়াতে এখনি মহাসড়কের নির্মাণ ত্রুটি, যানবাহনের ত্রুটি, ট্র্যাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা; উল্টোপথে যানবাহন চালানো, সড়কে চাঁদাবাজি, পণ্যবাহী যানে যাত্রী পরিবহণ; অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, বেপরোয়া যানবাহন চালানো এবং একজন চালক অতিরিক্ত সময় ধরে যানবাহন চালানো ইত্যাদি বিষয়গুলোর উপর নজরদারি করতে হবে সরকারকে।
