স্থানীয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রে খুন হওয়া মাদারীপুরের তরুণীর পরিবারের পাশে জেলা প্রশাসন

মাদারীপুর প্রতিনিধি ঃ যুক্তরাষ্ট্রে খুন হওয়া মাদারীপুরের তরুণী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে মাদারীপুরের জেলা প্রশাসন।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিহত বৃষ্টির গ্রামের বাড়ি সদর উপজেলার খোঁয়াজপুর ইউনিয়নের চর গোবিন্দপুর যান। সেখানে গিয়ে পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন তরা। বৃষ্টির বাবা একটি এনজিওতে চাকরির সুবাদে রাজধানীর মিরপুরে পল্লবীতে বসবাস করায় তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেন জেলা প্রশাসক। এ সময় তারা বৃষ্টির পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। খুন হওয়া তরুণীর লাশ পাওয়া গেলে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সহযোগিতার কথা জানান তিনি। জানা গেছে, ৭ মাস আগে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ালেখা শেষ করেন নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। এরপর উচ্চতর ডিগ্রির জন্য পাড়ি জমান আমেরিকায়। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা ইউনিভার্সিটিতে সুযোগ পাওয়ার সুবাধে সু-সম্পর্ক গড়ে ওঠে সহপাঠি জামিল আহম্মেদ লিমনের সঙ্গে। সেখানে লিমনের সঙ্গে এক মার্কিন নাগরিক রুমমেটের সঙ্গে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। এই জেরে গত ১৬ এপ্রিল লিমন ও বৃষ্টিকে ভার্সিটি ক্যাম্পাস থেকে তুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এর ৮ দিন পর শুক্রবার লিমনের খ-িত লাশ উদ্ধার করে আমেরিকার পুলিশ। একদিন পর শনিবার ঘটনাস্থলে পাওয়া রক্তের ডিএনএ পরীক্ষা শেষে বৃষ্টিকেও হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিষয়টি জানতে পেরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন নিহত বৃষ্টির ভাই সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার জাহিদ হাসান প্রান্ত। এই হত্যার ঘটনায় হিশাম নামে যুক্তরাষ্ট্রের এক নাগরিককে আটক করেছে দেশটির পুলিশ। মাদারীপুর জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে নৃশংসভাবে হত্যার শিকার বৃষ্টির ঘটনাটি আমাদের সবার জন্যে খুবই বেদনাদায়ক। পরিবারটির পাশে আমরা আছি, সেই সমবেদনা জানাতে আমরা বৃষ্টির গ্রামের বাড়িতে এসেছি। পরিবার পরিজন যারা আছেন, তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। বৃষ্টি আমাদের মেয়ে, তার এমন মৃত্যু সবাইকে ব্যথিত করেছে। বৃষ্টির বাবার সঙ্গে আমরা ফোনে কথা বলে তার অবস্থাটা বোঝার চেষ্টা করেছি। যুক্তরাষ্ট্রে এখনো বৃষ্টির লাশ পাওয়া যায়নি। লাশ পাওয়া গেলে দেশে আনতে আবেদন করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে বৃষ্টির ব্যবহৃত জিনিসপত্র যেন তার বাবা ফেরত পান সেই বিষয়টিও আমরা দেখছি। কারণ বৃষ্টির ব্যবহৃত জিনিসগুলোই তার পরিবারের কাছে স্মৃতি হয়ে থাকবে। আসলে মেয়ে চলে গেছে, এখানে মা-বাবার কষ্টের তো শেষ নেই। আমরা তাদের পাশে আছি। তাকে আমাদের প্রশাসন থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।’

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button