সম্পাদকীয়

দেড় যুগেও উন্নীত হয়নি ঘোষণাকৃত হাসপাতালের নির্মাণ কাজ

একটি দেশ উন্নতির শিখরে উঠতে হলে সার্বিক পর্যায়ে উন্নয়ন করাটা বাধ্যতা মূলক। আর দেশকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসা সেবা অন্যতম। সুচিকিৎসার মাধ্যমে মানুষ অসুস্থতা থেকে মুক্তি পায়। আর সুচিকিৎসার জন্য প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা। আর যখন পরিকল্পনায় চিকিৎসা সেবার উন্নয়নের কথা ঘোষণা করেও বাস্তবায়ন না হয় তখন বিষয়টি কেমন দাঁড়ায়? অভিযোগ উঠেছে বরিশালের মুলাদি উপজেলার স্বাস্থ্যে কমপ্লেক্সটি ২০০৬ সালে ঘোষণার পরেও ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত না করা নিয়ে। দেড় যুগ পেরিয়ে গেলেও হাসপাতালের শয্যার সংখ্যা বাড়েনি। বর্তমানে ১৯ শয্যার ভবনে চলছে উপজেলার দুই লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসা সেবা। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী ও চিকিৎসকেরা। বেশিরভাগ সময়ই হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হয়। অন্যদিকে এক কক্ষে ২-৩ জন চিকিৎসক বসে রোগী দেখতে হচ্ছে। ঠিকাদারের অবহেলায় নির্ধারিত সময় ভবন নির্মাণ না হওয়ায় ভোগান্তি বেড়েছে বলে অভিযোগ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। পত্রপত্রিকার তথ্য থেকে জানা যায়, ২০০৬ সালে হাসপাতালটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যা উন্নীত করার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। ওই সময় নানান জটিলতায় ১৯ শয্যা ভবন নির্মাণে বিলম্ব হয়। ২০১৩ সালে হাসপাতালের ৩১শয্যা ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। পরে পরিবার কল্যাণ ভবনে ছোট একটি কক্ষে নারী-পুরুষ ভর্তি করে রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। পরে ২০১৭ সালে ১৯ শয্যা ভবনের কাজ শেষ হলে সেখানেই চলছে আবাসিক রোগীদের চিকিৎসা। বর্তমানে নতুন ভবন না হওয়ায় ১৯ শয্যার হাসপাতালে ৫০ জনের অধিক রোগী ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে রোগী, চিকিৎসক ও সেবিকাদের (নার্স)। হাসপাতালের গলিতে গ্লাস দিয়ে হোমিওপ্যাথিকসহ দুইজন চিকিৎসকের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। চিকিৎসা মানুষের মৌলিক অধিকার, স্বাধীন দেশে এই অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকবে কেনো সাধারণ মানুষ? এর জবাবদিহি কে দিবে? সরকারকেই এর দায়ভার নিতে হবে। একজন সুস্থ ব্যক্তি অসুস্থ হলেই বুজে অসুস্থতা কত কষ্ট দায়ক। এই কষ্ট দায়ক ব্যথা বেদনা থেকে মুক্তির জন্য প্রয়োজন সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা নেওয়া। তাহলেই ভুক্তভোগীদের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে আসে। তাই যতদ্রুত সম্ভব ওই ১৯ শর্য্যার হাসপাতালটি ৩১ শয্যায় রূপান্তরিত করুণ, বিনিময়ে সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে দিন। সরকারের কাছে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন
Close
Back to top button