সম্পাদকীয়

পরোক্ষ করের পরিবর্তে প্রত্যক্ষ কর বৃদ্ধি জরুরি

প্রত্যক্ষ কর (আয়কর) আহরণের চেয়ে পরোক্ষ কর (ভ্যাট ও কাস্টম) আহরণ ক্রমাগত বাড়ছে। এর ফলে দরিদ্র মানুষকেও কর দিতে হয় এই দেশে। ফলে বৈষম্য বাড়ছে। এ থেকে উত্তরণের জন্য দরকার উপযুক্ত করহার ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে অতি ধনীদের আয়ের একটা বড় অংশ আয়করের মাধ্যমে আহরণে করে তুলনামূলক সম্পদহীনদের মাঝে বিতরণ করা হবে। পশ্চিমের উন্নত দেশগুলোতে ধনীদের আয়কর হার ৪০ শতাংশের ওপরে, যেখানে বাংলাদেশে আয়কর হার সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ। কর-জিডিপি অনুপাত: বাংলাদেশের কর জিডিপির অনুপাত দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বনি¤œ, ১০ শতাংশেরও নিচে। বহুদিন ধরে বহু আলাপ হলেও এই হার বাড়ানোর জন্য কার্যকর কোনো উপায় দেখা যায়নি। উল্টো সম্পদশালীদের নানাবিধ বিতর্কিত কর সুবিধা দেয়া হয়েছে। পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বাজারের সিন্ডিকেট ভাঙার পাশাপাশি পরোক্ষ কর নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। বলা যায়, এটাই হবে সবচেয়ে বিপ্লবী কাজ। গত ১৫ বছরে দেশের জিডিপি দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। কিন্তু আয়কর-জিডিপির অনুপাত সে হারে বাড়েনি। সাবেক পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, ২০০৯-১০ সালে দেশে জিডিপি-আয়করের অনুপাত ছিল ১ শতাংশ; এখন তা সামান্য বেড়ে ১ দশমিক ৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এতে বৈষম্য বেড়েছে। সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উচ্চ মূল্যস্ফীতি; এতে গরিব ও নি¤œ আয়ের মানুষের অবস্থা আরও শোচনীয় হয়েছে। সরকারের রাজস্ব আয়ের প্রায় ৬৫ শতাংশই আসে পরোক্ষ কর থেকে। মূল্য সংযোজন কর ও আমদানি শুল্ক থেকে বড় অঙ্কের রাজস্ব আয় করে সরকার। এই শুল্কের ভার সব শ্রেণির মানুষেরই ওপর পড়ে; এ ক্ষেত্রে ধনী-গরিবের ভেদাভেদ নেই। রাজস্ব আয়ের দিক পরিবর্তন করে দেওয়া গেলে এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ হতে পারে, অর্থাৎ পরোক্ষ করের পরিবর্তে প্রত্যক্ষ কর বৃদ্ধি করা। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মধ্যে এক কেজি চিনি আমদানিতে ৪৩ টাকা কর দিতে হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন ফল আমদানিতেও গত কয়েক বছরে শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। পেঁয়াজ আমদানিতেও সময়-সময় শুল্ক বাড়ানো-কমানো হয়। এমনকি চাল আমদানিতেও একসময় ৬০ শতাংশের বেশি শুল্ক দিতে হতো। পরবর্তীকালে তা কমানো হয়েছে। ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদেরা বারবার বলে আসছেন, উচ্চ শুল্ক থাকলে পণ্যমূল্য কমানো কঠিন। গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকার অর্থনীতি ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা সংস্কারের যে প্রক্রিয়া হাতে নিয়েছে, সেখানে এই বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা দরকার বলে মনে করি। দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের সরিয়ে চৌকস ও প্রকৃত মেধাবী লোকদের দায়িত্ব দিতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন
Close
Back to top button