শিক্ষাঙ্গনে দ্রুত শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা জরুরি

নতুন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে ক্রমেই স্বাভাবিক হয়ে আসছে পারিপার্শ্বিক পরিবেশ। অফিসে, বিপণিবিতানে মানুষের পদচারণা বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাস্তাঘাটে বাড়ছে যান চলাচল। গত কয়েক সপ্তাহের অস্থিরতা থেকে মুক্তি পেয়ে এখন অনেকটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছে দেশের সাধারণ মানুষ। বাজারে নিত্যপণ্যের দাম হ্রাস পাচ্ছে। পাড়া-মহল্লায় নৈরাজ্য কমে গেছে। ক্রমে জননিরাপত্তার উন্নতি হচ্ছে। শান্তি ফিরে আসছে জনজীবনে। সরকার বদলের সঙ্গে সঙ্গে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশাসন থেকে একের পর এক পদত্যাগ করছেন উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, প্রক্টর, প্রভোস্টসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা। রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ পাওয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে এসব শিক্ষকদের পদত্যাগের দাবিতে ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ ও আলটিমেটাম দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এ অবস্থায় অস্থিতিশীল ক্যাম্পাসে দ্রুত শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য দাবি উঠে স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে সংস্কারের এবং শীর্ষ কর্মকর্তাদের পদত্যাগের। এর ধারাবাহিকতায় স্বায়ত্তশাসিত ও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় চলছে অস্থিরতা। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গণপদত্যাগকে পদত্যাগ না বলে পদত্যাগের মহামারি বলা যেতে পারে। সরকারের পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে এতগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন শূন্য হওয়ার কথা নয়। তবু হয়েছে। এর কারণ মেধা ও যোগ্যতার বদলে দলীয় আনুগত্যের ভিত্তিতে নিয়োগ। যাঁরা দলীয় আনুগত্যের ভিত্তিতে নিয়োগ পেয়েছেন, ক্ষমতার পালাবদলের পর নিজেদের নিরাপদ মনে করছেন না। কেবল বিশ্ববিদ্যালয় নয়, সরকারি প্রশাসনেও ব্যাপকভাবে এসব ঘটনা ঘটছে। সমস্যা হলো এক জুলাই থেকে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা ও পরীক্ষা কার্যক্রম বন্ধ আছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন শিক্ষার্থীরা। একই সময়ে শিক্ষকেরাও কর্মবিরতি পালন করেছিলেন বাধ্যতামূলক পেনশন স্কিমে তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিবাদে। সেই আন্দোলনে তাঁরা সফল হয়েছেন। বিদায়ী সরকার তাঁদের দাবি মেনে নিয়ে বাধ্যতামূলক পেনশন স্কিম থেকে তাঁদের বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শিক্ষাঙ্গনে অচলাবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমের যে ক্ষতি হলো, তা পুষিয়ে নেওয়া কঠিন হবে। অনেক বছরের চেষ্টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেশনজট অনেকটাই কমে গিয়েছিল। নতুন করে শিক্ষার্থীদের সেশনজটে পড়তে হবে। তাই এ অবস্থায় অবিলম্বে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করার বিকল্প নেই। যেসব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও অন্যান্য পদাধিকারী পদত্যাগ করেছেন, সেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন নিয়োগ দিতে হবে। এবং যতটা সম্ভব দলীয় আনুগত্যের বাইরের শিক্ষক দিয়েই শূন্য পদগুলো পূরণ করা উচিত হবে। সে ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও মেধাকে যেন অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
