সম্পাদকীয়

বন্যায় লাখো হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্থ বাড়তে পারে দ্রব্যমূল্য

সম্প্রতি টানা বৃষ্টি এবং পাহাড়ি উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে দেশের ১২টি জেলায় সৃষ্টি হয়েছে অপ্রত্যাশিত বন্যা পরিস্থিতি। যা স্মরণ কালের সেরা বন্যা বলে মনে করছেন অনেকে। এই অপ্রত্যাশিত বন্যায় মানুষের আর্তনাদ হাহাকার যেন থামছেই না। বরং দিন দিন বাড়ছে। এই বন্যাকে কেন্দ্র করে গত বৃহস্পতিবার ২ প্রাণ হারান এবং নিখোঁজ রয়েছেন অনেকে। এছাড়াও আহত হয়ে গৃহহারাও হয়েছেন শত পরিবার। চাষ করা মাছের ঘেরসহ হাজার হাজার পুকুর এই বন্যার পানিতে ভেসে যায়। এছাড়াও গৃহপালিত গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি ইত্যাদি নিয়ে মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ে যায়। অনেকের মুরগির খামার পানিতে ভেসে সকল মুরগি মরে যাওয়ার খবরও পাওয়া গেছে গণমাধ্যমে। এসব সমস্যা গুলোর মাঝে অন্যতম সমস্যা হচ্ছে কৃষিজমির চাষাবাদের ক্ষয়ক্ষতি। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, সৃষ্ট বন্যায় মুন্সীগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চাঁদপুর জেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসব জেলায় আবাদ করা ফসলি জমির পরিমাণ সাত লাখ ৭২ হাজার ৩২১ হেক্টর। এর মধ্যে আক্রান্ত হয়েছে দুই লাখ ৩০ হাজার ৪০২ হেক্টর। এর মধ্যে আমন এক লাখ ৩৮ হাজার ৬১৯ হেক্টর, বোনা আমন ৫৭০ হেক্টর, রোপা আমন বীজতলা ১২ হাজার ৯১০ হেক্টর, আউশ ৬৮ হাজার ২০৯ হেক্টর, শাক-সবজি ৯ হাজার ৫১৯ হেক্টর, আখ ৩৮৪ হেক্টর এবং পান ১৯১ হেক্টর। গত বৃহস্পতিবার কৃষি মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়। তবে ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত হিসেব দিতে এক সপ্তাহ সময় লাগবে বলে জানান মন্ত্রণায়টি। বাংলাদেশে বর্তমানে দ্রব্যমূল্যে উর্ধ্বগতিতে রয়েছে। সকলের দাবি দ্রব্যমূল্যে নিয়ন্ত্রণে আনার। প্রশ্ন হলো চাহিদার তুলনায় যদি দ্রব্যে না থাকে তখন কী বাজার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব? নিশ্চয়ই সম্ভব নয়! বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন চাহিদা অনুযায়ী দ্রব্য মজুদ থাকা। সম্প্রতি ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতিতে দ্রব্যমূল্যে আরো বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কেননা এই বন্যাকে ঘিরে প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। যার প্রভাব পড়বে সারাদেশের দ্রব্যমূল্যের উপর। সুতরাং এই ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়াটা জরুরি হয়ে পড়ছে বলে আমরা মনে করছি। যতদ্রুত সম্ভব বন্যার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা করতে হবে সরকারকে। এছাড়াও ক্ষতিগ্রস্থ আবাদি জমিতে পূণরায় ফলন ফলানোর জন্য কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের সঠিক পরামর্শ দিয়ে পাশে থাকার ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ বিতরণের ব্যবস্থা করতে হবে। আমরা আশা করছি ওই সমস্যা মোকাবেলায় সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে কৃষকদের পাশে থেকে সংকট মোকাবেলা করবেন। এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন
Close
Back to top button