সম্পাদকীয়

রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দেশে পাঠানো হোক

বিগত ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সরকার দাবি করেন রাখাইন রাজ্যে দেড়শোর মতো মুসলিম জঙ্গি এক যোগে বিভিন্ন পুলিশ স্টেশন, সীমান্ত ফাঁড়ি এবং সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানোর পর অন্তত ৭০ জন নিহত হয়েছে। মিয়ানমারের নেত্রী অন্য সান সু চির অফিস থেকে বলা হয়, নিহতদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর ১২ জন সদস্য ছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে দেশটিতে শুরু হয় মুসলিমদের উপর অত্যাচার নির্যাতন এবং গণহত্যা। পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে ভয়াবহ রূপ নেওয়াতে মিয়ানমার মুসলিম শরণার্থীরা পালিয়ে আশ্রয় নেন বাংলাদেশে। এরই মাঝে মিয়ানমার থেকে প্রাণ বাঁচাতে আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সাত বছর পূর্ণ হয়েছে। এ উপলক্ষে গত রোববার উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ফুটবল মাঠে বাংলাদেশে আশ্রয় পাওয়া রোহিঙ্গারা সমাবেশের আয়োজন করেন। ২০১৭ সাল থেকে রোহিঙ্গারা ২৫ আগস্ট দিনটিকে গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। স্বদেশে ফিরে যাওয়ার ক্যাম্পেইন উপলক্ষে আশপাশের ক্যাম্প থেকে লোকজন কুতুপালং ক্যাম্পের ফুটবল মাঠে জড়ো হন। ক্যাম্পেইন সমাবেশে পুরুষদের পাশাপাশি রোহিঙ্গা নারী, শিশুরাও যোগ দিয়েছিল। কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের চারটি পৃথক রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গত রোববার দিবসটি উপলক্ষে সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এসব সমাবেশে রোহিঙ্গারা পাঁচটি দাবি জানায়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-আরাকানে অবিলম্বে গণহত্যা বন্ধ করতে হবে। নাগরিকত্ব দিয়ে অবিলম্বে রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফিরিয়ে নিতে হবে। রোহিঙ্গাদের ওপর পরিচালিত মিয়ানমার জান্তা ও আরাকান আর্মির নির্যাতনের বিষয়ে জবাবদিহি করতে হবে। মিয়ানমারে জাতিগত সহাবস্থান ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে। আশ্রয় দেওয়ার জন্য তারা বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায়। পাশাপাশি প্রত্যাবাসন সফল করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। রোহিঙ্গাদের পাঁচটি দাবির মধ্যে সবগুলোই যৌক্তিক। যেহেতু বর্তমানে দেশে রোহিঙ্গাদের অবস্থান সেহেতু সরকারেরও দায়বদ্ধতা আছে তাদের দাবি গুলো আদায়ে। আমরা প্রত্যাশা করছি রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে যেতে যত ধরনের সহায়তা প্রয়োজন তা নিশ্চিত করবে বাংলাদেশ সরকার। এছাড়াও রোহিঙ্গারা যেন নিজ দেশে নিরাপদে জীবন যাপন করতে পারে সে বিষয়ে আন্তর্জাতিকভাবে নিশ্চয়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এসব বিষয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন এটাই আমাদের চাওয়া।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন
Close
Back to top button