সম্পাদকীয়

পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস ঝুঁকিপূর্ণ, দ্রুত পদক্ষেপ নিন

প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে কক্সবাজার শহর, মহেশখালী, চকরিয়া, উখিয়া, টেকনাফের রোহিঙ্গা শিবিরসহ বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অনবরত অতি ভারি বর্ষণের ফলে নড়বড়ে হয়ে পড়েছে পাহাড়। শক্ত মাটি ঘেমে হচ্ছে নরম, তা সড়ে গিয়ে ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বড় দুর্ঘটনার। যদি তেমন কোন পরিস্থিতির জন্ম দেয় তবে তা হবে স্মরণকালের সব থেকে বড় ঘটনা। কিন্তু মৃত্যুর ঝুঁকি থাকলেও চট্টগ্রামের ২৬ পাহাড়ে বসবাস করা প্রায় ৬ হাজার ৫৫৮টি পরিবারকে সচেতন করা যায়নি এখনো। প্রতি বর্ষায় প্রাণ যায় কারও না কারও, সেই আবারও পুরোনো ধারায় প্রাণঘাতী পাহাড়ের ঢালেই বসবাস করেন তারা। গত ১৩ বছরে পাহাড়ধসে প্রাণ হারিয়েছেন দুই শতাধিক মানুষ। এরপরও ঝুঁকি নিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ বসবাস করছেন পাহাড়ে। তবে এসব মানুষের বেশিরভাগই নি¤œ আয়ের। জানা যায়, চট্টগ্রামে বৃষ্টি কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলেই তৈরি হয় পাহাড়ধসের শঙ্কা। শুরু হয় ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারীদের অন্যত্র সরানোর কাজ। পরিচালিত হয় উচ্ছেদ অভিযান। কিন্তু দুর্যোগ শেষ হলেই সবকিছু আবারও স্বাভাবিক হয়ে যায়। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়গুলোতেই ফের শুরু হয় বসবাস। সরকারি-বেসরকারি মালিকানাধীন পাহাড়গুলোতে অবৈধভাবে দেওয়া হয়েছে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ। পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রতিটি সভায় সেবা সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা বিভিন্ন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার প্রতিশ্রুতি দিলেও কার্যত তা বাস্তবায়ন করা হয় না। ফলে দিনের পর দিন ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে পাকাপোক্ত হয়ে বাস করেন অবৈধ বাসিন্দারা। বস্তুত কিছু মানুষের অবিবেচনাপ্রসূত কর্মকা-ের ফলে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটছে। পাহাড় ধসের প্রধান কারণ নির্বিচারে পাহাড় কাটা। চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাসহ স্থানীয় প্রভাবশালীরা পাহাড় দখল করে বসতি গড়ে তুলেছেন, এ বিষয়টি বহুল আলোচিত। পাহাড়ের গায়ে জন্মানো বন-জঙ্গল ও গাছপালা এর অভ্যন্তরীণ বন্ধন মজবুত রাখে। পাহাড় কাটার কারণে সেই বন্ধন দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে পাহাড় ধসের মতো ঘটনা ঘটে। পাহাড় প্রাকৃতিকভাবে ধস প্রতিরোধের সক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে। পাহাড় ধস ঠেকাতে নির্বিচারে পাহাড় কাটা বন্ধ করা দরকার এবং ধসের আশঙ্কা রয়েছে এমন পাহাড় এবং পাহাড়ের পাদদেশ থেকে বসবাসকারীদের সরিয়ে নেওয়া জরুরি। বহু মানুষ নিরুপায় হয় পাহাড়ের পাদদেশে এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাস করে। এ ধরনের মানুষের আবাসন সংকট দূর করতে সরকারিভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে। একইসাথে পাহাড়ের ধসে পরা মাটি যাতে দ্রুত অপসারণ করা যায় সেজন্য জনবল এবং সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন
Close
Back to top button