সম্পাদকীয়

ক্ষতিকর কৃষি খাদ্য উৎপাদন রোধ করতে হবে

বাংলাদেশ এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত উপ-উষ্ণমন্ডলীয় অঞ্চলের দেশ। প্রাকৃতিকভাবেই উর্বর জমির এ দেশে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক এবং খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তাসহ জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা সম্ভব। বিবিএস ২০১৪-১৫ এর তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ১৬ কোটি ৩০ লাখ এবং প্রতি বছর ২০-২২ লক্ষ লোক জনসংখ্যায় যোগ হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের জনসংখ্যা যদি ১.৩৭ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেতে থাকে তখন লোক সংখ্যা হবে প্রায় ২৩.০ কোটি। এই বাড়তি জনগোষ্ঠীর খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা জোরদারকরণ আবশ্যক। খাদ্য হলো সব রোগের প্রতিষেধক, আবার দেহে রোগ সৃষ্টির উৎস। এটা নির্ভর করছে তার পুষ্টি ও নিরাপত্তা গুণাগুণের ওপর। আমাদের জাতীয় চাহিদা হলো পুষ্টিসমৃদ্ধ নিরাপদ খাবার ও একটি স্থায়িত্বশীল কৃষির মাধ্যমে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন। একটি প্রশ্ন প্রায়ই উচ্চারণ হয় যে আমরা যা খাচ্ছি তা কি সত্যিই কোনো উপকারে আসছে, নাকি শুধু উদর ভরার কাজ করছে। অংশীজনদের কেউই তা নিশ্চিত করতে পারছেন না। উৎপাদক থেকে ভোক্তা কেউই বর্তমান কৃষি খাদ্য ব্যবস্থার বিধ্বংসী নেতিবাচক প্রভাব থেকে কোনো অবস্থাতেই মুক্ত নয়। কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহৃত কৃত্রিম রাসায়নিক সার ও কীটনাশক খাদ্যশৃঙ্খলে বিষাক্ত পদার্থের উপস্থিতি ক্রমাগতভাবে বাড়িয়ে তুলছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ আইসিডিডিআরবির সূত্রমতে, বাংলাদেশের মোট মৃত্যুর প্রায় ৭০ ভাগের জন্য অসংক্রামক রোগ দায়ী। আবার প্রতি পাঁচজনের একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ উচ্চ রক্তচাপে ভুগছে। প্রায় ১ দশমিক ৫ কোটি মানুষ ডায়াবেটিস রোগে ভুগছে এবং ২০২১ সালে ডায়াবেটিসের কারণে প্রায় ৭৫ হাজার জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া ডাউনি সিনড্রোম, অটোইমিউন ডিজিজসহ আরো অজানা রোগের তো সীমা নেই এবং এর সবই কৃষি খাদ্য ব্যবস্থার জন্য দায়ী। জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক প্রকাশিত জরিপে দেখা যাচ্ছে, ২০১৭ সালে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে সংস্থাটির হাসপাতালে যত পুরুষ রোগী ভর্তি হয়েছে তাদের মধ্যে ৬৪ শতাংশই নানাভাবে কৃষিকাজে জড়িত ছিল। আর নারী-পুরুষ মিলিয়ে যত ক্যান্সার রোগী ভর্তি হয়েছে তাদের ৩৪ শতাংশই কৃষি পেশায় সম্পৃক্ত ছিল। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন যে ২০৩০ সালে প্রতি ঘরে একজন ক্যান্সার রোগী বা ডিজঅ্যাবল শিশু থাকবে। তাই কৃষিকাজে বিষমুক্ত পদ্ধতির প্রসার ঘটাতে হবে। জৈবিক কৃষি, সঠিক চাষাবাদ পদ্ধতি এবং স্থানীয় জাতের ফসল, প্রাণী, মাছ চাষকে উৎসাহিত করতে হবে, যা পরিবেশবান্ধব এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ। খাদ্য উৎপাদন ও বিতরণ ব্যবস্থার প্রতিটি ধাপে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশগত স্থায়িত্বকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন
Close
Back to top button