সম্পাদকীয়

মনোনীত হওয়ার যোগ্যতা কী

# সংরক্ষিত নারী আসন #

নারীর ক্ষমতায়ন এখন যুগের চাহিদা। এ চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে নারীর জন্য সংরক্ষিত আসনের ব্যবস্থা রয়েছে। উদ্দেশ্য, দেশের নীতিনির্ধারণ ও উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। কিন্তু বাস্তবে এ লক্ষ্য বাস্তবায়িত হচ্ছে কি? প্রকৃত অর্থে, সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যরা রাষ্ট্র পরিচালনায় কতটা ভূমিকা রাখতে পারছেন? বাস্তবতা হচ্ছে, নারীর সংরক্ষিত আসনে সরাসরি নির্বাচন হয় না বলে দলীয় মনোনয়নেই তারা সংসদ-সদস্য হন। আর তাতেই ঘটে বিপত্তি। পদ্ধতিগত ত্রুটির কারণে মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে যথেষ্ট ন্যায্যতা থাকে না। দলীয় নেতাদের পছন্দ কিংবা নেতার সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক বিবেচনায় নিতে দেখা যায়। এ ফাঁক দিয়ে অনেক কম যোগ্যতাসম্পন্নরা সংসদ-সদস্য হয়ে যান। আর এ কারণে তারা কাক্সিক্ষত ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হন। এমনও দেখা গেছে, নারীর স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়েও তারা জোরালো ভূমিকা না নিয়ে দলীয় চিন্তাকে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। আমরা দেখেছি, গত কয়েকটি সংসদে নারী সদস্যদের অনেকে তাদের লিখিত বক্তব্যও ঠিকমতো পড়তে পারেননি। প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক, এভাবে কি একটি সংসদ সার্বিকভাবে অর্থবহ হতে পারে? জাতীয় সংসদের পেছনে রাষ্ট্রের ব্যয় অনেক। এত অর্থ ব্যয় করে সংসদ-সদস্যদের একটি বড় অংশ যদি ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখতে না পারে, তাহলে সংসদকে কার্যকর বলা হবে কোন যুক্তিতে? বলার অপেক্ষা রাখে না, দলীয় বিবেচনায় যাদের মনোনয়ন দেওয়া হয়, তাদের চেয়ে বেশি যোগ্যতাসম্পন্ন নারী রয়েছেন আমাদের সমাজে। অনেক নারী বেসরকারি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করে নারীর ক্ষমতায়ন ও দেশের উন্নয়নে কাজ করছেন। তাদের মধ্য থেকে বাছাই করে সংসদ-সদস্য পদের জন্য যদি তাদের মনোনয়ন দেওয়া হয়, তাহলে রাষ্ট্র অনেক উপকৃত হবে নিঃসন্দেহে। আবার অনেক নারী আছেন, যারা উন্নত চিন্তার অধিকারী; কিন্তু সুযোগের অভাবে তাদের চিন্তার প্রতিফলন ঘটাতে পারছেন না। আমরা আশা করব, আগামী দিনগুলোয় সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য পছন্দের ব্যাপারে সব রাজনৈতিক দলের হাইকমান্ড বিচক্ষণতার পরিচয় দেবে। একটা কমন প্র্যাকটিস হলো, কোনো সংসদ-সদস্য মারা গেলে তার স্ত্রী অথবা পুত্র-কন্যাকে বাছাই করা হয়। বাছাইকৃতরা যোগ্য হলে কোনো প্রশ্ন নেই; কিন্তু শুধু স্বামী কিংবা পুত্র-কন্যা পরিচয় সংসদ-সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে যোগ্যতা হতে পারে না। আমরা আমাদের জাতীয় সংসদকে একটি অর্থবহ প্রতিষ্ঠান হিসাবে দেখতে চাই। নারী সদস্য বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিচক্ষণতা খুবই জরুরি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button