জাতীয় সংবাদ

ছিনতাইকারী ব্যাগ টান দেওয়ায় রিকশা থেকে পড়ে যাওয়া নারীর মৃত্যু

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ রাজধানীতে ছিনতাইকারী ব্যাগ ধরে টানাহেঁচড়া করায় চলন্ত রিকশা থেকে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হওয়া সোহেলি ইসলাম (৪২) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। গত রোববার (৮ জুন) ভোরে দিনাজপুর থেকে ঢাকায় ফেরার পথে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে আহত হন তিনি। চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বৃহস্পতিবার (১১ জুন) হাসপাতালে মারা গেছেন তিনি। সোহেলি ইসলাম এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালসের মেডিক্যাল সার্ভিস অফিসার ছিলেন। তার এমন মৃত্যুর পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন একমাত্র মেয়ে সুমাইয়া আলম।

পারিবারিক সূত্র জানায়, ঘটনার দিন ভোরে দিনাজপুর থেকে ঢাকায় ফেরার পথে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন সোহেলি। মোটরসাইকেলে আসা দুই দুর্বৃত্ত তার হাতে প্যাঁচানো ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি চলন্ত রিকশা থেকে সড়কে পড়ে যান। এতে তার ডান হাত ভেঙে যায় এবং মাথার পেছনে গুরুতর আঘাত লাগে। কান দিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সোহেলির মামা সারওয়ার পারভেজ জানান, পারিবারিক একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে মেয়েকে নিয়ে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে গিয়েছিলেন সোহেলি। অনুষ্ঠান শেষে শনিবার রাতে বাসে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। রোববার ভোরে গাবতলীতে নেমে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর রিকশাযোগে বাসার দিকে রওনা দেন। পথেই ছিনতাইকারীদের হামলার শিকার হন। স্বজনরা জানান, প্রায় ১৫ বছর আগে সোহেলির বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর একমাত্র মেয়েকে নিয়ে সংগ্রাম করেই জীবন কাটিয়েছেন তিনি। কয়েক বছর আগে বাবা-মাকেও হারান। এবার তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে পরিবারের ওপর নেমে এসেছে নতুন শোক। সোহেলির ভগ্নিপতি তরিকুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার পর প্রচ- রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। আশপাশের মানুষের কাছে সাহায্য চাইলেও প্রথমে তেমন সাড়া মেলেনি। পরে রিকশাচালক ও স্থানীয় একজনের সহায়তায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে মাথায় গুরুতর আঘাতের কারণে শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। পারিবারিক সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পশ্চিম টেংরী এলাকায় নানাবাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে সোহেলির দাফন সম্পন্ন হয়। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। তবে স্বজনরা জানিয়েছেন, শোক পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button