জাতীয় সংবাদ

হিল্লা বিয়ের ‘ফাঁদ’ পেতে শত মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ হিল্লা বিয়ের জন্য পাত্র লাগবেÑসোশ্যাল মিডিয়ার প্লাটফর্ম ফেসবুকে এমন ‘বিজ্ঞাপন’ দেখে সেখানে নির্দেশিত ইমেইলে জীবনবৃত্তান্ত পাঠিয়েছিলেন শত শত মানুষ। এদের কেউ চিকিৎসক, কেউ প্রকৌশলী, কেউ প্রবাসী, আবার কেউ মসজিদের ইমাম বা মাদরাসার শিক্ষক। কিন্তু বিজ্ঞাপনটি সরল কোনো প্রচারণা ছিল না, বরং ছিল ফাঁদ। ‘হালালা সেন্টার’ নামে ফেসবুকের ওই ফাঁদে পড়ে ব্যক্তিগত তথ্য খুইয়েছেন ‘আগ্রহী’ ব্যক্তিরা। তাদের পাঠানো ছবি, মোবাইল নম্বর, ইমেইলসহ ব্যক্তিগত তথ্য পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই ফাঁস করে দেওয়া হয়েছে। এতে ভুক্তভোগীদের অনেকেই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের ফলে শিকার হচ্ছেন সামাজিক অস্বস্তির। ভুক্তভোগীদের দাবি, বিয়ে সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার কথা বলে তাদের কাছ থেকে তথ্য নেওয়া হলেও পরে সেগুলো অনুমতি ছাড়াই প্রকাশ করা হয়। এতে অনেকে সামাজিকভাবে বিব্রত হওয়ার পাশাপাশি অনলাইন হয়রানির মুখে পড়েছেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ‘সানজিদা আক্তার’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে কয়েকদিন আগে হিল্লা বিয়ের জন্য আগ্রহী ব্যক্তিদের জীবনবৃত্তান্ত আহ্বান করা হয়। পরে একই আইডি থেকে আবেদনকারীদের বিভিন্ন তথ্য ও সিভির স্ক্রিনশট প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত তথ্যে অনেকের নাম, মোবাইল নম্বর, পেশা ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য দৃশ্যমান এখনও আছে। এ তালিকায় যেমন আছেন চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, ব্যবসায়ী, প্রবাসী; তেমনই আছেন হাফেজ, আলেম, ইমাম, মুয়াজ্জিন, মাদরাসাশিক্ষক ও মাদরাসা পরিচালক। ব্যক্তিজীবনে এদের অনেকেই ধর্মকর্ম মেনে চলেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় প্রতারণার অভিযোগ এনে গত ৭ জুন রাজধানীর মিরপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন আবু মুছা নামে এক ব্যক্তি। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট আইডি থেকে দীর্ঘদিন ধরে বিভ্রান্তিকর ও প্রতারণামূলক তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। আবু মুছা দাবি করেন, একই আইডি অতীতে ভিন্ন পরিচয়ে পরিচালিত হয়েছে। প্রথমে এটি ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের নামে ব্যবহার করা হলেও পরে বিভিন্ন সময়ে নাম পরিবর্তন করে নতুন পরিচয়ে কার্যক্রম চালানো হয়। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের একটি অংশ আইডিটির তথ্য বিশ্লেষণ করে দাবি করেছেন, গত দুই বছরে একাধিকবার নাম পরিবর্তন করা হয়েছে ওই অ্যাকাউন্টের। রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে ব্যবহৃত প্রোফাইল ও কভার ছবিও অন্য সামাজিক মাধ্যম থেকে নেওয়া বলে তথ্য পাওয়া গেছে। মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান বলেন, ফেসবুক-সংশ্লিষ্ট অভিযোগের বিষয়গুলো সাধারণত সাইবার ইউনিটে পাঠানো হয়। অভিযোগটির তদন্ত চলছে। সাইবার নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সামাজিক মাধ্যমে অপরিচিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আহ্বানে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার আগে সতর্ক হওয়া জরুরি। কারণ এসব তথ্য পরবর্তীতে প্রতারণা, হয়রানি কিংবা পরিচয় জালিয়াতির কাজে ব্যবহৃত হতে পারে। ঘটনাটি এখন ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা, অনলাইন প্রতারণা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় গোপন রেখে পরিচালিত কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button