সম্পাদকীয়

মেডিকেল বর্জ্যরে সঠিক ব্যবস্থাপনা জরুরি

চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। তবে আমাদের দেশের হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর মেডিকেল বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থা মোটেও সুবিধাজনক নয়। মাঝেমধ্যে দেখা যায় মেডিকেল বর্জ্য যেমন- রক্ত, পুঁজ মিশ্রিত তুলা, ব্যান্ডেজ, রক্তের ব্যাগ এসব ডাস্টবিনে ফেলে রাখা অবস্থায়। ফলে দেশে প্রতি বছর লাখ লাখ মানুষ মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকির সম্মুখীন হয়। দুর্ভাগ্যজনক হলেও এটাই সত্যি যে বাংলাদেশের কোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিকেই বর্তমানে মেডিকেল বর্জ্যরে সুষ্ঠু নিষ্কাশনের মানসম্মত কোনো ব্যবস্থাই নেই। ফলে চিকিৎসা সেবার সঙ্গে জড়িত ডাক্তার, নার্স, ওয়ার্ডবয়, ল্যাব টেকনিশিয়ান, পরিচ্ছন্নতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ দর্শনার্থী পর্যন্ত নানা ধরনের কঠিন ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। আবার মাটি, পানি ও বাতাসেও এসব দূষণ ছড়িয়ে পড়ছে। চিকিৎসা ক্ষেত্রে উৎপন্ন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মানদ- বিবেচনায় বাংলাদেশের অবস্থান একেবারে নাজুক। কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় যাচ্ছে তাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা হয়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এসব বর্জ্য এতটাই ক্ষতিকারক যে একজন সুস্থ মানুষকে অসুস্থ করতে মাত্র পাঁচ মিনিটই যথেষ্ট। তবে হাসপাতালের এসব চিকিৎসা বর্জ্য কোথায় ফেলা হবে বা বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের করণীয় কী তার সঠিক সমাধান অনেক হাসপাতালেরই নেই। অনেকে হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর রোগীর শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সাধারণত মাটিতে পুঁতে ফেলা হয় কিন্তু গজ ব্যান্ডিজসহ সাধারণ বর্জ্যগুলো হাসপাতালের ডাস্টবিনে ফেলা হয়। এছাড়াও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বর্জ্যরে অবৈধ ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। তারা বর্জ্য নষ্ট না করে কালোবাজারে বিক্রি করে দেয়। চিকিৎসা বর্জ্য বিধিমালা অনুযায়ী বর্জ্য সংরক্ষণের জন্য ছয়টি নির্দিষ্ট রঙের পাত্র রাখার কথা থাকলেও ৬০ শতাংশ হাসপাতালে এমন পাত্র নেই। তাই এর থেকে পরিত্রাণ পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করার জন্য সঠিক নিয়ম-কানুন, নীতিমালা বাস্তবায়ন করার উপযুক্ত সময় এখনি। কারণ এই মেডিকেল বর্জ্যরে ভয়াবহতায় জনজীবন হুমকির সম্মুখীন। তাই হাসপাতালগুলোর মেডিকেল বর্জ্যগুলো সঠিক নির্দেশনা মেনে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। এবং এ বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে হবে। মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য কালার কোড অনুযায়ী ময়লা উৎপাদন স্থল আলাদা করতে হবে। বর্জ্য খোলা অবস্থায় পরিবহণ নিষিদ্ধ করতে হবে। এগুলোর শ্রেণিভেদে ব্যবস্থাপনা করতে হবে। যদি হাসপাতালের বর্জ্য সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা না করা যায় তবে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়বে খুব দ্রম্নত। ফলে আমরা চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি ও বিপর্যয়ের মুখে পড়ে যাবো।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন
Close
Back to top button