সম্পাদকীয়

রাজধানীতে প্রয়োজনের চেয়েও অপ্রয়োজনীয় গাছ বেশি

দেশে প্রচ- দাবদাহ চলছে। এই দাবদাহ থেকে স্বস্তির জন্য মানুষ নানান কৃত্রিম প্রক্রিয়া অবলম্বন করেন। তবে নানান প্রক্রিয়া অবলম্বন করেও যখন স্বস্তির দেখা না মিলে তখন কেমন হয়? তখন মানুষ প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল থাকে। প্রচ- তাপদাহে তাপমাত্রা কমানোর জন্য কেবল গাছ-পালার গুরুত্ব অপরিসীম। আমাদের প্রয়োজন গাছের সঠিক পরিচর্যা করা এবং সঠিক জায়গায় সঠিক গাছ লাগানো, তাহলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাবে। যেহেতু গাছ আমাদের প্রকৃত বন্ধু সেহেতু আমরা সঠিক জায়গায় সঠিক গাছ লাগানোটাই আমাদের উঠিত। আর যদি গাছ লাগানোতে আমরা বিপরীত পথ অবলম্বন করি তাহলে বিষয় টা কেমন দাঁড়ায়? বলছি রাজধানী ঢাকা শহরের কথা। রাজধানী ঢাকায় দিন দিন গাছপালা কমছে। কমছে জলাভূমি। গাছপালা কাটা হলেও লাগানো হচ্ছে কম। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন, পরিবেশ অধিদপ্তর, সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) কিছু কিছু গাছ লাগালেও বেশির ভাগই বিদেশি এবং আগ্রাসী প্রজাতির। পরিকল্পনা রয়েছে চরাঞ্চলের ঝাউজাতীয় গাছ লাগানোর। এসব গাছ ঢাকার পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সেটি বিবেচনার চেয়ে সৌন্দর্যবর্ধনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে এসব গাছ ঢাকার তাপমাত্রা কমাতে সহায়তা করছে না। অথচ ঢাকার লাল মাটিতে শাল, চালতা, সিন্দুরির মতো প্রজাতির গাছ ভালো হয়। পরিবেশের সঙ্গেও মানানসই। কিন্তু গত এক দশকে এসব প্রজাতির একটি গাছও কেউ লাগায়নি। ভবিষ্যতেও লাগানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। প্রকৃতিবিদ ও উদ্ভিদবিদেরা বলছেন, দেশজুড়ে চলছে দাবদাহ। রাজধানীতে এর প্রভাব অনেক বেশি। ঢাকায় গাছ লাগানোর ক্ষেত্রে তা স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, ভবিষ্যতে এটি কতটুকু ফল বয়ে আনবে-এসব বিবেচনা করতে হবে। ভবিষ্যতে ঢাকার পরিবেশে আরও বেশি প্রভাব পড়তে পারে। গবেষণায় দেখা যায়, রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পরিচালিত এসব এলাকার ৫৮ শতাংশ গাছই বিদেশি প্রজাতির। শোভাবর্ধক উদ্ভিদ আছে ৩৩ শতাংশ। উদ্ভিদবিদেরা বলছেন, যেসব গাছের ডাল প্রসারিত হবে, বড় পাতা থাকবে, নগরে সেসব গাছ লাগানো উচিত। কারণ, বড় পাতা থাকলে কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়। তথ্য অনুযায়ী দেখা যায়, রাজধানীতে গাছের সৌন্দর্যকেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে, অথচ এই গণ-বসতির শহরে গাছের উপকারিতার দিকটি বিবেচনা করা হচ্ছে না। পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হওয়ার আগেই সঠিক পরিকল্পনা করতে হবে পরিবেশ অধিদপ্তরকে। জায়গা বেদে উপযোগী গাছ লাগাতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন
Close
Back to top button