সম্পাদকীয়

রাজধানীর সড়কে বিশৃঙ্খলা কারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হোন

উন্নয়নশীল কাজের জন্য সরকার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জিং মোকাবেলা করে। তেমনি উন্নত সড়ক নির্মাণে সরকার বিপুল অর্থ বরাদ্দ করে থাকেন, যাতে যাতায়াত ব্যবস্থা সুশৃঙ্খল হয়। কিন্তু উন্নত সড়ক করেও যখন ফলাফল তার বিপরীত হয় তখন বিষয়টা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। অনেকে সময় বাঁচাতে অনিয়ম করছে। কেউ আবার নিজের সুবিধার্থে অনিয়মে গাড়ি চালাচ্ছে। এমন ঘটনা ঘটতে থাকলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা বাড়তে থাকবে এবং সড়কে জ্যামের সাথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। বলছি রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বড়কের কথা। ঢাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক আগারগাঁওয়ের মেট্রোরেল স্টেশন থেকে শ্যামলীর শিশুমেলা পর্যন্ত। এর দুপাশে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অফিস, হাসপাতাল, স্কুল, আন্তর্জাতিক সংস্থার কার্যালয় এবং সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসিক ভবন রয়েছে। সম্প্রতি সড়কটি যথেষ্ট প্রশস্ত করা হয়েছে এবং উঁচু ডিভাইডার দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারপরও সড়কটিতে নানারকম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। মূলত উল্টোপথে আসা যানবাহনের জন্য এই বিশৃঙ্খলা। দীর্ঘ এই সড়কটিতে বিভিন্ন স্থানে ইউটার্ন নেওয়ার জন্য যথেষ্ট প্রশস্ত জায়গা রয়েছে। তারপরও যানবাহনের চালকেরা, পথচারীদের রাস্তা পার হওয়ার জন্য যে নির্দিষ্ট জায়গা রয়েছে সেখান থেকে গাড়ি ঘোরান। ফলে পথচারীদের জন্য নির্দিষ্ট জেব্রা ক্রসিং থেকে রাস্তা পার হওয়াটা দুরূহ হয়ে যায়। এ ছাড়া উলটো দিক থেকে আসা রিকশা-মোটরসাইকেল-সাইকেলের কারণে এই রাস্তায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেক বেশি। প্রশস্ত সড়ক হওয়ায় বেশির ভাগ গাড়ি, বাস, লেগুনা দ্রুতগতিতে চলাচল করে। উলটোদিক থেকে আসা যানগুলো এসব দ্রুতগতির যানের সামনে পড়ে গেলে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এবং এ ধরনের দুর্ঘটনা ইতোমধ্যে ঘটেছে। মেট্রোরেল চালু হওয়ার পর আগারগাঁও স্টেশনগামী যাত্রীদের চাপের কারণে এই সড়কে রিকশা চলাচল বেড়েছে। সময় বাঁচাতে গিয়ে রিকশাচালকেরা প্রায়ই উল্টোপথে চলাচল করেন, যা দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। প্রশ্ন হলো উন্নত সড়ক করেও কেনো জনগণকে নিয়মের ভিতরে আনতে পারেনি প্রশাসন। এর জবাবদিহিতা কে দিবে? ট্র্যাফিক পুলিশ যাদের সামনে এমন ঘটনা গুলো ঘটার পরে ব্যবস্থা নিচ্ছে না তাদের বিরুদ্ধে আগে কঠোর হওয়া প্রয়োজন। আরো বড় আকারের দুর্ঘটনা ঘটার আগে এই সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা একান্ত দরকার। সরকার উক্ত বিষয়ে সচেতন হতে হবে এবং তদন্ত করে এর যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যাবশ্যকীয়।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন
Close
Back to top button