কালো মুখোশদারীদের আইনের আওতায় আনুন

নিরীহ ও অসহায় মানুষদের জীবিকার স্বার্থে সরকার বিভিন্ন ভাতার ব্যবস্থা করেছেন। যাতে তাদের জীবনে কিছুটা হলেও স্বস্তি মিলে। কিন্তু তারা কি তাদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারতাছেন? পত্র-পত্রিকার তথ্য থেকে জানা যায়, বিভিন্ন জায়গায় চলছে কালো মুখোশধারীদের লুট করার ঘটনা। মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, বয়স্কভাতা, বিধবাভাতা, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের জন্য ভাতাসহ এতিমদের ক্যাপিটেশন গ্র্যান্ট সুবিধার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিভিন্ন ভাতার টাকা আত্মসাৎ হচ্ছে। জানা যায়, ভাতা গ্রহীতার নামঠিকানা ঠিক থাকলেও টাকা পাচ্ছে না সুবিধাভোগীরা। আবার ভাতার অযোগ্য হয়েও কেউ কেউ পাচ্ছে বারবার বরাদ্দের টাকা। শুধু তাই নয়, শ্রীপুর উপজেলা সমাজসেবা অফিসের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ক্যাপিটেশন গ্র্যান্টের নানা অনিয়মেরও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে-এই অফিস থেকে এতিমদের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ প্রতিনিয়ত নয়-ছয় করছেন সংশ্লিষ্টরা। নীতিমালার কোনো নির্দেশনাই মানছেন না তারা। নীতিমালা অনুযায়ী ক্যাপিটেশন গ্র্যান্টের সুবিধা পেতে একটি প্রতিষ্ঠান বা এতিমখানায় ১০ জন এতিম থাকতে হবে কিন্তু অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান এই শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়ে আশ্রয় নিচ্ছে ভিন্ন বা মিথ্যা কৌশলের। জানা যায়, যেখানে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের আত্মীয়স্বজন ও সাজানো এতিমদের মধ্যে কাগজকলমে বিতরণের নামে লুটে নেওয়া হচ্ছে সরকারি প্রকল্পের লাখ লাখ টাকা। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সরকারি সহায়তার টাকা বিভিন্ন ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করেও আত্মসাৎ করা হচ্ছে। তাদের পরিশোধ করার জন্য সৃষ্ট কৌশলেই এই দপ্তরের কথিত সুবিধাবঞ্চিতদের নাম কাগজকলমে থাকলেও বরাদ্দের টাকা যাচ্ছে সংশি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষের চিহ্নিত লোকজনের পকেটে। পত্রিকার তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, শ্রীপুর উপজেলায় আটটি ইউনিয়নে আটটি এতিমখানায় ক্যাপিটেশন গ্র্যান্ট প্রাপ্ত শিক্ষার্থী ১৩২ জন। একটি সূত্রের দাবি-এই সুবিধাভোগীর দুই-তৃতীয়াংশই ভুয়া। কারণ ২২-২৩ অর্থবছরে ১৩২ জন থাকলেও এর আগের বছরই ছিল ১৪২ জন। উক্ত বিষয়ে সরকারকে সচেতন হতে হবে। এভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিরীহ মানুষদের ঠকানোর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। এছাড়াও প্রতারণা চক্রকে আইনের আওতায় আনুন, ভুক্তভোগীদের প্রাপ্য অধিকার ফিরিয়ে দিন।
