ভিসাপ্রক্রিয়া: দালাল চক্র হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ টাকা

ইতালির ভিসা প্রক্রিয়ার প্রাথমিক স্তর হলো নুলস্তা বা ওয়ার্ক পারমিট। সংশ্লিষ্ট কোম্পানি থেকে নুলস্তার কপি হাতে পাওয়ার পর ভিসা পেতে ভিএফএসে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হয় কর্মীদের। তবে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে কৌশলে দালালদের সুযোগ সৃষ্টি করে দিচ্ছে ভিএফএস। এই সুযোগে কর্মীপ্রতি ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা চলে যাচ্ছে দালালের পকেটে। জানা যায়, রাজধানীসহ সারা দেশের মানুষ ভুক্তভোগী হচ্ছেন। সন্ধান মেলে অগণিত দালালেরও। ছদ্মবেশে ভিসা প্রত্যাশী কিংবা ভিসা প্রত্যাশী কর্মীর স্বজন পরিচয়ে আলাপ এগিয়ে নিতেই আসে লাখ টাকার টোপ। দালাল চক্রের তথ্য পাওয়া যায়, এক লাখ টাকায় রাতারাতি দেওয়া যায় অ্যাপয়েন্টমেন্ট। এর জন্য ওটিপি বা কোনো বাড়তি ঝামেলা পোহাতে হয় না। তবে দালালের মাধ্যমে করলে কোনো ওটিপির প্রয়োজন হয় না। একজন দালাল ওটিপি ছাড়াই এক থেকে ৪০০ জনের জন্য স্লটের তারিখ নিতে পারে। ব্যক্তিগতভাবে অনলাইনে আবেদন করলে ওটিপি আসতে সময় লাগে ৯ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা। জানা যায়, বাংলাদেশের যাদের নুলস্তা আসে, নুলস্তা আসার পরে যখন সে সিরিয়ালের জন্য জমা দিতে যায় তখন সে সিরিয়ালটা পায় না। বিগত বছরের তথ্য থেকে পাওয়া যায়, ২০২২ সাল থেকে অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট সহজলভ্য হলেও ২০২৩ সালের শুরুর দিকে এখানে ঢুকে পড়ে কালোবাজারি। অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য ভিএফএস এবং দালালদের যোগসাজশে একটি কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হয়। এর ফলে ভিসাপ্রত্যাশীরা নিজে চেষ্টা করে কোনোভাবেই ওয়েবসাইটে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে পারেন না। ভিএফএসের নোটিশ মোতাবেক প্রতি মাসের ২৫ তারিখ পরবর্তী মাসের অ্যাপয়েন্টমেন্ট প্রদান করা হয়। কিন্তু বাস্তবে ৯টায় অনলাইনে স্লট ওপেন করলে প্রথম ৩ মিনিটে তিন হাজার অ্যাপয়েন্টমেন্ট শেষ হয়ে যায়, যা কি না রীতিমতো আলাদীনের দৈত্যের মতো কাজ। ভোক্তভুগীদের হাতে নুলস্তা আসলেও দেখা যায় তিন-চার মাস হয়ে গেলেও মিলে না অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার। হন্যে হয়ে তারা দ্বারে দ্বারে ঘুরতেছে। কিন্তু কোনো সমাধান মিলে না। এমন অবৈধ ভাবে যারা টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সরকার তাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছে না কেনো? এখনি উপযুক্ত সময় দালালচক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনুন এবং দালালের সাথে যারা জড়িত আছে তাদেরকেও কঠোর সাজার ব্যবস্থা করা হোক। ভবিষ্যতে যেন এমন কর্মকা- না ঘটে সেদিকে সরকারকে সজাগ থাকতে হবে।
